প্রথম আলো
‘রান্নার গ্যাস ৩০০-৪৪০ টাকা বেশি দিয়েই কিনতে হচ্ছে’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, এলপিজির দাম নির্ধারণের সময় আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা—সবার কমিশন বাড়ানো হয়েছে। এরপরও নির্ধারিত দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না ভোক্তারা। ঢাকার বাজারে কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে অন্তত ৩০০ টাকা বাড়তি দামে। কোথাও বাড়তি দিতে হচ্ছে ৪৪০ টাকা। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বাজারেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২ নভেম্বর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ২ হাজার ৬০ টাকা। রান্নার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির সিলিন্ডার। গতকাল শনিবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ১৫টি এলপিজি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ৪৫ কেজির সিলিন্ডারেও বাড়তি নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা।
নতুন দাম নির্ধারণের সময় ১২ কেজির সিলিন্ডার আমদানিকারকদের মজুত ও বোতলজাত করার খরচ বাবদ কমিশন প্রায় ৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পরিবেশকের কমিশন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে। পরিবেশক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, এই কমিশনে তাঁদের খরচ উঠছে না।
বাড়তি দামের বিষয়ে শীর্ষ আমদানিকারকদের দুটি প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা এলপিজির সরবরাহ বাড়িয়েছে; বাড়তি দাম নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে পরিবেশকদের অভিযোগ, সরবরাহে ঘাটতি আছে এবং কোনো কোনো কোম্পানিও বাড়তি দাম নিচ্ছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ আছে, এটা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। শিল্পে এলপিজির ব্যবহার কতটা বেড়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। কমিশনের দুজন সদস্য মাঠপর্যায়ে যাচ্ছেন। যারা আমদানি না করে অন্যদের থেকে কিনছে, তারাই মূলত বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে। এটা নিয়েও কাজ করছে বিইআরসি।
আমদানি বাড়েনি, সরবরাহ ঘাটতি
দেশে এক কোটির বেশি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। বাসায় গ্যাস–সংযোগ বন্ধ থাকায় ২০১৫ সাল থেকে দেশে এলপিজির চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। বছরে এলপিজির চাহিদা এখন ১৮ লাখ টনের বেশি। এ খাতের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে, যারা আমদানি করে সরবরাহ করে। আর বাকি ১ শতাংশ দেশে উৎপাদন করে সরবরাহ করে সরকারি কোম্পানি।
এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) ও বিইআরসি সূত্র বলছে, গত আগস্টে এলপিজি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এবং অক্টোবরে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার টনের কম। যদিও এরপর ৪ নভেম্বরের মধ্যেই আরও ৪০ হাজার ২০০ টন এলপিজি দেশে এসেছে। বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি না করতে বিভিন্ন সময় পরিবেশকদের সতর্ক করেছে লোয়াব।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি কোম্পানির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা প্রথম আলোকে বলেন, মেঘনার ৪টি প্ল্যান্ট থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় এলপিজি সরবরাহ করে হচ্ছে। যারা আমদানি করতে পারছে না, তাদেরও সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা উচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো উচিত বাজারে।
আমদানিকারকদের কেউ কেউ বলছেন, বিশ্ববাজারে এলপিজির ঘাটতি আছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বন্ধ বললেই চলে। আফ্রিকার দেশগুলো থেকে নামমাত্র পাওয়া যাচ্ছে। এখন দেশে অধিকাংশ এলপিজি আমদানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আনতে জাহাজ ভাড়াতেও বেশি খরচ হচ্ছে। দেশে খুব বেশি মজুত করে রাখার মতো অবকাঠামোও নেই। আবার মজুত করার পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ থেমে গেলে বড় রকমের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।
লোয়াবের সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দামের চেয়ে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাড়তি দামে আমদানি করেও বিইআরসির নির্ধারিত দামে সরবরাহ করা হচ্ছে। এলপিজির দাম বাড়লে ভোক্তা কমবে, যা অপারেটররা চান না। তবে যত্রতত্র দোকানে যে যার মতো এলপিজি বিক্রি করছে। এটা ঠেকাতে নজরদারি নিশ্চিত করা দরকার।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি সূত্র বলছে, আমদানিকারকদের যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের তা দেয়নি বিইআরসি। কমিশন বাড়ানো হয়েছে চাহিদার চেয়ে কম। বাজারে সরবরাহ এখনো বাড়েনি। কোম্পানির প্ল্যান্টে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে ট্রাকের। এতে খরচ বাড়ছে। কোনো কোনো কোম্পানি বাড়তি দাম নিচ্ছে।
সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের কোরেশী প্রথম আলোকে বলেন, বিইআরসি নির্ধারিত কমিশনে ঢাকার বাইরে দেওয়া গেলেও ঢাকার মধ্যে কোনোভাবেই সরবরাহ করা সম্ভব নয়। পরিবহন খরচ অনেক বেশি। তাই নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না পরিবেশকেরা।
বাজারে সরকারি দরের চেয়ে বাড়তি দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও জানে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাড়তি দামের তথ্য আমাদের কাছে আসছে। অনেক সময় একটু গোপনে রেখে বিক্রি করে। বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারও অভিযান চালানো হয়েছে, আগামীকালও এটা চলবে।’
ঢাকায় সবখানেই বাড়তি দাম
মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকা এবং উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর এলাকার ৮টি খুচরা দোকান, ৪টি ডিলার পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, সব দোকানে ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ বিক্রেতা পরিচিত ক্রেতা ছাড়া অন্যদের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে চাইছেন না। তাঁরা ভয় পাচ্ছেন, যদি সাংবাদিক বা ভোক্তা অধিকারের কেউ চলে আসেন। ক্রেতারা গেলে বলছেন, গ্যাস নেই।
মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় মো. সায়েম নামের এক দোকানির কাছ থেকে গ্যাস কিনতে চাইলে তিনি শুরুতে বলেন, গ্যাস নেই। দুই দিন পরে পাওয়া যাবে। পরে এই প্রতিবেদক বিক্রেতার ফোন নম্বর নিয়ে দুই ঘণ্টা পর কল দিয়ে গ্যাসের খোঁজ করলে তিনি প্রথমে পরিচয় জানতে চান। পরে নাম–পরিচয় এবং বাসার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গ্যাস আছে বলে জানান। তবে দাম চান ২ হাজার ৫০০ টাকা।
উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে আসাদুল্লাহ নূর নামের একজন খুচরা গ্যাস বিক্রেতার কাছে গেলে দেখা যায়, ১২ কেজি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। ২ হাজার ২৫০ টাকায় নিজে কিনেছেন বলে দাবি করেন এই বিক্রেতা।
গ্রামেও দাম বেশি
ঢাকার বাইরে গতকাল পাঁচটি উপজেলার বাজার ঘুরে দামের তথ্য নিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা। দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়, পটুয়াখালীর বাউফলে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাঙ্গাইলের সখীপুরের বিভিন্ন দোকানে কেউ কেউ ২ হাজার ২০০ টাকা, কেউ আবার ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
সখীপুরের ডিলার জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, কোম্পানি চাহিদা মোতাবেক গ্যাস দিতে পারছে না। এ মাসে এখনো গ্যাস দেয়নি। এর ফলে বাজারে গ্যাসের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ, গাছতলা, ধর্মপাশা, জয়শ্রী বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। উপজেলা সদরের ধর্মপাশা পূর্ববাজারের পরিবেশক হাজি ট্রেডার্সের রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সব বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ২ হাজার ২০ থেকে ৩০ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে এলপিজির দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। এ বিষয়ে গত ৭ অক্টোবর প্রথম আলোতে ‘এলপিজির দাম বাংলাদেশে বেশি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, প্রতিবেশী ভারতের শহর কলকাতার চেয়ে দেশে এলপিজির দাম দ্বিগুণের বেশি। তবে ভারত এলপিজি বিক্রি করে সরকারি সংস্থার মাধ্যমে। এর বাইরে তারা ভর্তুকিও দেয়। পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাতেও এলপিজির দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম। সরকারিভাবে গত জানুয়ারিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি পায় বিপিসি, যদিও এখন পর্যন্ত তারা আমদানি করতে পারেনি।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, তাড়াহুড়া করে বাড়তি দাম নির্ধারণ করে দিয়ে বাণিজ্যের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বিইআরসি। এরপর আবার বাড়তি দামে বিক্রি করে ভোক্তার কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্র নীরব, এর প্রতিকার জ্বালানি খাতের প্রশাসনে অনুপস্থিত। এটি গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আরেক খবরে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন–ভাতার অসংগতি দূর করতে উদ্যোগ, ছয় মন্ত্রীকে নিয়ে কমিটি গঠন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেডের ক্রম, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড নিয়ে যে অসংগতি দেখা দিয়েছে, তা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে বেতন গ্রেড পুনর্বিন্যাস, নতুন ঝুঁকি ভাতা চালু এবং বিদ্যমান ভাতার হার পরিবর্তনের সুপারিশ করতে সরকার ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘কর্মচারীদের বেতন গ্রেড–ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন–পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি।’
কোনো কোনো পদের বেতন গ্রেড বাড়ানো বা কমানো, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা এবং নতুন ভাতা চালুর বিষয়ে সুপারিশ করবে এই কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২ নভেম্বর এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর্মচারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে কমিটি। কমিটিকে সহায়তা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও জনপ্রশাসনসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবেরাও সহায়তা করবেন।
অর্থ বিভাগ নবগঠিত কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। এ কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। তবে সুপারিশ দেওয়ার জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সুপারিশ বাস্তবায়নের সময়ও জানানো হয়নি। ফলে বেতনকাঠামোর অসংগতি দূর করতে কর্মচারীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক, প্রশ্ন পরিমাণে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তাই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। তবে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার অঙ্ক কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বেসরকারি খাতের সামগ্রিক বেতন কাঠামো, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, অন্যান্য পেশার আয় এবং শিল্পের বর্তমান সক্ষমতা বিবেচনায় এই দাবি পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ এমবিবিএস পাশ করার পর বেসরকারি হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের শুরুর বেতন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বেসরকারি ব্যাংকে সহকারী কর্মকর্তা পদে বেতন ২৮ থেকে ৩২ হাজার টাকা।
প্রকৌশল ফার্মে নতুন প্রকৌশলীরা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় চাকরি শুরু করেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকে স্নাতক পাশ করে চাকরির শুরুতে ২৫ হাজার টাকার কম বেতন পান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বাস্তবতায় গার্মেন্টে অপারেটরের সহকারী (হেলপার) কত টাকা দিয়ে চাকরি শুরু করবেন তা বিবেচনার দাবি রাখে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারসহ পেশাজীবীরা অনেক লেখাপড়া শেষ করে চাকরি শুরু করেন। এরপরও শুরুতে তাদের বেতন বেশি থাকে না। এছাড়া চাহিদা ও সরবরাহের (ডিমান্ড সাপ্লাই) ব্যাপার আছে। গার্মেন্টশ্রমিকের সরবরাহ বেশি। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ঠকানোর জন্য বলছি না।
কিন্তু দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে হবে। দেশের রপ্তানি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই মুহূর্তে গার্মেন্ট পণ্যের দাম বাড়ালে ক্রেতারা বাংলাদেশি পণ্য নাও নিতে পারেন। এতে বড় সমস্যায় পড়বে বাংলাদেশ। কারণ পোশাকশিল্প অর্থনীতির হৃদপিণ্ড।’ তিনি আরও বলেন, এই পণ্য ছাড়া আমাদের রপ্তানি করার তেমন কিছু নেই। ফলে সামগ্রিক দিক বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর গার্মেন্টশ্রমিকদের সর্বশেষ বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। ওই সময়ে ন্যূনতম বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫শ টাকা করা হয়। বর্তমানেও তা কার্যকর আছে। নিয়ম অনুসারে প্রতি তিন বছর পর নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার কথা। সেই অনুসারে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হবে। সরকার ঘোষিত মজুরি বোর্ডও ইতোমধ্যে সেই ঘোষণাই দিয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র এক নেতা বলেন, বর্তমানে শ্রমিক অসন্তোষের অন্যতম কারণ হলো সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি।
চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে তাদের বেতন ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়; যা চলতি বছরের জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে। এরপরই বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। গার্মেন্টস কর্মীরা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা দাবি করে আন্দোলন শুরু করে।
এমন পরিস্থিতিতে লেখাপড়া শেষ করার পর একজন চাকরিজীবীর শুরুর বেতন কত-তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে দৈনিক যুগান্তর। এ বিষয়ে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল, প্রকৌশল ফার্ম, বেসরকারি ব্যাংক, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিমা কোম্পানি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বেসরকারি খাতে এনআরবিসি ব্যাংকে সহকারী অফিসারের বেতন ২৮ হাজার ৮শ টাকা। একই বেতন পান এবি ব্যাংক এবং সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সহকারী কর্মকর্তারা। প্রথম শ্রেণির ব্যাংকগুলোতেও শুরুর বেতন ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। ব্যাংকে চাকরির প্রাথমিক যোগ্যতা স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ। এমবিএ ডিগ্রি থাকলে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
কালের কণ্ঠ
‘১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে তিন গুণ’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বোঝা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। ২০১৫ সালে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল তিন হাজার ৮৭৭ কোটি মার্কিন ডলার।
২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলারে। ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৫ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ।
অর্থাৎ নতুন ঋণ গ্রহণ, পুরনো ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য সমন্বয়ের পরও দেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বড় অংশ এসেছে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ পাঁচ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে দুই হাজার ২৬৩ কোটি ডলার এবং এডিবির কাছে এক হাজার ৭৫১ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে।
অন্যদিকে জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর কাছেও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ঋণ রয়েছে। এসব দেশের কাছে মোট ঋণের পরিমাণ তিন হাজার ২৬৪ কোটি ডলার।
সরকারি ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি ডলার। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।
বিদেশি ঋণ বাড়লেও তা পরিশোধের সক্ষমতার কিছু সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সহনীয় বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই হার বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
তবে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের অনুপাত কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩.৮ শতাংশ কম। অর্থাৎ রপ্তানি থেকে অর্জিত প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে ১৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে। এই অনুপাত কমে আসাকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদেশি ঋণের স্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের বিপরীতে ১১০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২০১ কোটি ডলারে। পরের ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা প্রায় ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছে।
আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। ফলে ১৪ বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণেরও বেশি।
আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বড় কয়েকটি অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের সময় এগিয়ে আসছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্র ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শিগগিরই পরিশোধ করতে হবে। এসব ঋণের অর্থের একটি বড় অংশ দিতে হবে জাপানকে। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল ও মেট্রো রেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘গণতন্ত্রকামী মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দমিয়ে রাখা যাবে না’। প্রতিবেদনে বলা হয়, করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দমিয়ে রাখতে চায়; তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। তবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো এবারও তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের ভেতরে বা বাইরে সব ষড়যন্ত্র আমরা শেষ করে দেব। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত 'সার্বভৌমত্ব শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।
এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন-'দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। আসুন, আমরা আমাদের অসমাপ্ত বিপ্লব শুরু করি আজ।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই; দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে; দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।'
বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হেঁটে র্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌছে সমাপনী বক্তব্য দেন।
বিএনপির এ কর্মসূচি ঘিরে দুপুর ১২টা থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল লাল-সবুজ পতাকা এবং জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র-সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর আর্মি স্টেডিয়ামে ক্যাডেট ও স্কাউটদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে উপভোগ করেন। সেখান থেকে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে যোগ দেন। পরে নয়াপল্টন থেকে বিএনপির শোভাযাত্রায় যোগ দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। সন্ধ্যায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দিবসটি উপলক্ষে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
পরাজিতরা মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কর্মসূচির সমাপ্তির আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত, তাদের জনগণ বারবার পরাজিত করেছে। আবারও তারা মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইত্তেফাক
‘সার্বভৌমত্ব র্যালি’তে লাখো মানুষ নিয়ে সাত কিলোমিটার হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপি চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সার্বভৌমত্ব র্যালি’ ঘিরে রাজধানীতে এক অভাবনীয় অদৃশ্যপূর্ব দৃশ্যপট রচিত হয়েছিল। অতীতে এমন দৃশ্য কেউ অবলোকন করেনি এই নগরীতে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে কোনোকালেই এমন জনজোয়ার দেখেনি কেউ। সব রাস্তাঘাট পথ-অলিগলি-সড়কমালা হতে ঊর্মিমুখর স্রোত মিশে গিয়েছিল তারেক রহমানের দৃঢ়-দৃপ্ত পদভারে উজ্জীবিত-উদ্বিপ্ত-উচ্ছসিত সাত কিলোমিটার পথের জনসমুদ্রে। নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, রমনা পার্ক সড়ক, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সুপ্রশস্ত মহাসড়ক অব্দি ছিল স্লোগানমুখর উত্তাল জনতায় একাকার। মুখে মুখে ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সংশপ্তক স্লোগানধ্বনি।
পাঁচ দশক পূর্বে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নস্যাত্ করে গোলামির জিঞ্জির পরানোর বহুমুখী ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করার ঐতিহাসিক ৭ নভেস্বরে তারই সুযোগ্য আত্মজ উত্তরসূরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গতকাল যে বুলন্দ আওয়াজ আর মানুষের সুদৃঢ় অব্যয় একতা রাজপথ উচ্চকিত করেছে তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশময়; মানুষের প্রাণে প্রাণে। টানা সাত কিলোমিটার তারেক রহমানের দ্রুতলয়ে ক্ষিপ্রগতিতে বিরামহীন এক নাগাড়ে হাঁটার এই ভঙ্গি এবং হাসিমুখে উত্তোলিত হাতে অনবরত চতুষ্পার্শের লোক সমাগমকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ছিল অবিকল শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গ্রাম-গঞ্জে-মফফ্সলে রাখাল রাজার মতো দ্রুত পদব্রজে চলার মতোই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রীর এমন একটানা দীর্ঘতম পদযাত্রার অকল্পনীয় নজিরবিহিন ইতিহাস রচনা করলেন তারেক রহমান। বিএনপি দীর্ঘ ২০ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর জাতীয় এই মহান দিবসটিতে অফুরন্ত আনন্দ উচ্ছ্বাস ও আবেগের আবর্তে ভাসিয়ে দিলেন তিনি।
নয়াপল্টনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া সার্বভৌমত্ব র্যালিটি এক ঘণ্টা পর সাড়ে ৪টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে যখন সমাপ্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তখনো শেষ প্রান্ত ছিল নয়াপল্টনে। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো র্যালিতে এত বিপুল মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
এই র্যালি ঘিরে সকাল থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বিএনপি এবং তার অঙ্গ সংগঠনগুলো সমবেত হতে থাকেন নয়াপল্টনে মঞ্চের সমুখে। বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জমায়েতের পরিধি। তারেক রহমান পৌঁছানোর আগেই কাকরাইল মোড় থেকে শুরু করে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত লাখো নেতাকর্মী-সমর্থকে জনারণ্যে পরিগণিত হয়। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সংবলিত প্ল্যাকার্ড। বেলা ৩টায় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আরোহন করে জনসমুদ্রের সমুখে দাঁড়িয়ে হাত উঁচিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় নয়াপল্টন ও সন্নিহিত পুরো এলাকায় স্লোগান নিনাদ আর উচ্ছ্বাসের ঢেউ তরঙ্গিত হতে থাকে।
‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’— ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর রাজপথে উচ্চারিত এমন সব আবেগ মথিত স্লোগানধ্বনি আবারও শোনা গেল রাজপথে। হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সম্মোহনী বক্তৃতা শুরু করেন। ৯ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব। দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন। প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ তার স্লোগান একক কণ্ঠের নিনাদ উত্তাল জনসমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে দিক-বিদিক। এ সময় মানুষের ভেতর দেখা যায় দিনটির ঐতিহাসিক স্মৃতি ও রাজনৈতিক অভূতপূর্ব আবেগ।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫২টি নতুন গ্যাস কূপখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারের বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ১০৪টি নতুন কূপখনন এবং পুরনো ৪৬টি কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর চাপ কমার পাশাপাশি শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।
তবে বড় এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে এরইমধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি- বাপেক্সের দায়িত্বে থাকা ৫২টি নতুন কূপের একটির খননকাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কূপখনন এবং সেখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নতুন কূপখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেশের গ্যাস সঙ্কটের সমাধান হবে না। এর জন্য অনুসন্ধান, আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মূল্যায়ন, উন্নয়ন কূপখনন, পুরনো কূপ সংস্কার এবং গ্যাস সঞ্চালন অবকাঠামোর উন্নয়নকে একই কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বাপেক্সের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আমদানিনির্ভরতায় বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
দেশের বর্তমান গ্যাস সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় দুই হাজার ৭১৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। বিপরীতে দৈনিক চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সরবরাহের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসছে দৈনিক প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৪১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সরবরাহ করছে ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ৩৩ শতাংশ। আর দেশীয় সরকারি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন প্রায় ৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট- যা মোট সরবরাহের প্রায় ২৬ শতাংশ।
এই চিত্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকির চাপও বেড়ে যায়। বিশেষ করে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে। এর সাথে পরিবহন, টার্মিনালে পুনর্গ্যাসীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর ব্যয় যুক্ত হওয়ায় আমদানিকৃত গ্যাসের প্রকৃত ব্যয় আরো বাড়ে।
অন্য দিকে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো গেলে দীর্ঘ মেয়াদে আমদানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ রয়েছে। যদিও নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবু সফল অনুসন্ধানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক মজুদ আবিষ্কার করা গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দিতে পারে।
গ্যাস সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদনশীল শিল্পে। তৈরী পোশাক, বস্ত্র, সার, সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না। কোথাও নিম্নচাপ, কোথাও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক কারখানা তাদের উৎপাদনক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমছে এবং রফতানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
১৫০ কূপের কর্মসূচি, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে দেয়া তথ্যানুযায়ী, সরকারের বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ১০৪টি নতুন গ্যাস কূপখনন এবং ৪৬টি পুরনো কূপ ওয়ার্কওভার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর দ্বিতীয় পর্যায়ে বাপেক্সের দায়িত্বে রয়েছে ৫২টি নতুন কূপখনন এবং ১৬টি কূপ ওয়ার্কওভার।
কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের বাস্তবায়নকাল ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫২টি নতুন কূপের কোনোটির খননকাজ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এতগুলো কূপখনন করতে হলে অর্থায়ন, খননযন্ত্র, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি দরপত্র, ক্রয়প্রক্রিয়া ও প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো জরুরি।
বণিক বার্তা
‘ঢাকায় বায়ুদূষণের শীর্ষ তালিকায় আগারগাঁও গুলশান বনানী বারিধারা ধানমন্ডি’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহের তাপপ্রবাহের পর দেশের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকায়ও মিলছে শীতের আমেজ। তবে বাতাসের মানে উন্নতি নেই। বর্ষা ছাড়া বছরের বেশির ভাগ সময়ের মতো গতকালও ঢাকার বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সূচকে গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয়। প্রথম দুই স্থানে ছিল কুয়েত সিটি ও কলকাতা। এ সময় ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ১৬৪, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
নির্মাণকাজের ধুলাবালি, গাড়ির কালো ধোঁয়াসহ নানা উৎসের দূষণে বহু বছর ধরেই বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে থাকছে ঢাকা। দূষণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোও। সম্প্রতি ঢাকার সবচেয়ে দূষিত ১০টি পর্যবেক্ষণস্থলের মধ্যে স্থান পেয়েছে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ধানমন্ডির বিভিন্ন স্থান এবং প্রগতি সরণি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসন ও বাণিজ্যের জন্য এসব এলাকা ঢাকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে নির্মল বাতাসের অভাবে ভবিষ্যতে বাসিন্দাদের কাছে এলাকাগুলোর আকর্ষণ কমতে পারে।
বায়ুমান সূচকে শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০-এর বেশি হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ হিসাবে রাজধানীর উল্লিখিত অভিজাত এলাকাগুলোর বাতাসও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের সূচকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার পর্যবেক্ষণস্থলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষণ রেকর্ড করা হয় আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন (বিআইডিএস) এলাকায়। সেখানে বায়ুমান সূচক ছিল ১৮৬। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বারিধারা পার্ক রোডে স্কোর ছিল ১৬৮। এরপর বাড্ডার প্রগতি সরণি ও বেচারাম দেউড়িতে ১৬৭, বারিধারা লেকসাইড ও ধানমন্ডিতে ১৬১, গুলশান লেক পার্কে ১৬০, বনানীর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ১৫৬ এবং গুলশান ২-এর গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় ১৫১ স্কোর রেকর্ড করা হয়। সব ক’টি স্থানের বাতাসই ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডির বায়ুদূষণের পেছনে স্থানীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আশপাশ এলাকার দূষণেরও প্রভাব রয়েছে। কড়াইল বস্তিতে মাটির চুলায় রান্না ও বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া গুলশান-বনানীতে এবং কামরাঙ্গীরচরের দূষণ ধানমন্ডি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একইভাবে প্রগতি সরণির খোঁড়াখুঁড়ি থেকে ছড়ানো ধুলাবালি বারিধারার বায়ুদূষণ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘লেকসংলগ্ন অভিজাত এলাকাগুলোতে বায়ুদূষণ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে বেশকিছু ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণ কাজ করে। জলাশয়ের ওপরের বাতাসে আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ধূলিকণা ও ধোঁয়া (পিএম ২.৫ ও পিএম ১০) সহজে ভাসতে পারে না; বরং জলীয় বাষ্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এগুলো ভারী হয়ে বাতাসে ঝুলন্ত অবস্থায় আটকে থাকে। এছাড়া শীতকালে তাপমাত্রা বিপরীতমুখী হওয়ার কারণে লেকপারের ঠান্ডা বাতাস নিচে এবং ওপরে গরম বাতাস ঢাকনার মতো তৈরি করে। ফলে যানবাহনের ধোঁয়া বা ধুলাবালি ওপরে উড়ে যেতে না পেরে নিচেই পুঞ্জীভূত হয়।’
গুলশান ও বনানীর ভৌগোলিক বিন্যাসে সুউচ্চ ভবনের ভূমিকা বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা এসব উঁচুতলার ভবন বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ অবরুদ্ধ করে ফেলে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় আরবান ক্যানিয়ন এফেক্ট বলা হয়। যখন বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকে এবং আশপাশের যানবাহন ও বস্তি এলাকা থেকে ধোঁয়া নির্গত হয়, তখন এ উঁচু ভবনগুলোর কারণে বাতাস তা সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। ফলস্বরূপ দূষিত কণাগুলো ভূমির কাছাকাছি বাতাসে আটকে থেকে স্থানীয় বায়ুদূষণের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘দেশ ছাড়তে তৎপর আ.লীগের একাংশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে ডিসেম্বর ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অনেকেই এখন দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। দিল্লিতে আশ্রয়ে থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পরই শুরু হয়েছে এই অস্থিরতা। আরেক দফা অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে পড়তে পারেন এ আশঙ্কা এখন পেয়ে বসেছে আওয়ামী লীগের একাংশকে। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর দলীয় অনেকে এখনো দেশে আছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি দলের নানা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে। তারা মনে করছেন দলীয় নেত্রীর দেশে ফেরার ঘোষণার পর এই সম্পর্কের অবনতি হবে।
সারা দেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থক ও অনুসারীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে থাকা অংশটি ঝামেলামুক্ত থাকতে চায়। হামলা-মামলা, জেলজুলুম-হুলিয়া মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকতে অনীহা তাদের। দলীয় সভাপতির দেশে ফেরার ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও নতুন করে কোনো ঝুঁকির মুখে পড়তে চান না তারা। এই অবস্থায় দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াকে আপাতত নিরাপদ মনে করছে তারা।
আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করেন, ডিসেম্বরে তাদের দলের সভাপতি যদি আসলেই দেশে ফিরে আসেন তাহলে হয়তো রক্ষা পাবেন তারা, তবে ঘোষণা দিয়ে তিনি না ফিরলে অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাবে। এই সময়ে নতুন কোনো ঝামেলায় জড়ানোর মানে হলো ভবিষ্যতে আরও অন্ধকার ডেকে আনা। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনকেও এ নিয়ে ঝুঁকিতে ফেলতে চান না তারা। তাই দেশ ছাড়ার ফাঁকফোকর বের করার চেষ্টা করছেন। সারা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক ও তৃণমূলের নেতাদের কয়েক হাজার চলতি বছরে দেশ ছাড়ার খবর পাওয়া গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের যারা একটু বিত্তবান তারা ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বিভিন্ন দেশে চলে যেতে চেষ্টা করছেন। মধ্যবিত্ত একটি অংশ চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পোর্ট এন্ট্রি দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন আওয়ামী একটি অংশের নেতাকর্মীরা। এ ক্ষেত্রে কারও কারও পারিবারিক চাপও রয়েছে। সবার লক্ষ্য একটাই ঝামেলামুক্ত থাকা। তবে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা সত্যি দেশে ফিরে এলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ফিরে আসবেন এমন কথাও জানিয়েছেন অনেকে।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে বাইরে চলে যাওয়া নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশে ফেরার প্রস্তুতির নিচ্ছে শোনা যাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয়ে থাকা তৃণমূলের কিছু নেতা চুপেচাপে দেশে ঢুকেছেন বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ভারতে এসে জড়ো হচ্ছেন ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা উপলক্ষে। তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতে ফিরতে শুরু করেছেন।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডীলর এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নভেম্বরের শেষভাগে আওয়ামী লীগের সব নেতাকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। মামলায় যেসব নেতার সাজা হয়ে গেছে তাদের শেখ হাসিনার সঙ্গে ফেরার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি। মামলা হয়েছে সাজা হয়নি সেসব নেতাদের দেশের বাইরে থাকতে কড়াভাবে মানা করে দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
সম্পাদকমণ্ডলীর এ নেতা আরও বলেন, এরই মধ্যে চুপেচাপে অনেকেই দেশে ফিরেছেন। তবে দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন তারা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সবুজসংকেত পাওয়া মাত্রই আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে বের হবেন তারা। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা সীমান্তবর্তী এলাকায় এসে থাকতে শুরু করেছেন। যাতে সিগন্যাল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা দেশে ঢুকে যেতে পারেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নামপ্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সত্যিকার অর্থে দেশের পরিস্থিতি যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দেশে থাকা একেবারেই অনিরাপদ। তারপরও যারা আছেন, গত আড়াই বছর তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আছেন। তবে এখন সে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাও দেশে ফিরবেন ডিসেম্বরে। ফলে এখন দেশ ছাড়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া দলের যেকোনো নেতাকর্মীর জন্য অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, এখন দেশ ছাড়ার সময় নয়, বরং যারা বাইরে আছেন তাদের দেশে ফিরে লড়াই-সংগ্রাম করার সময় এসেছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘ষড়যন্ত্রে দমিয়ে রাখা যাবে না’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আবারও দেশবিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব। এজন্য সব মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন-দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’
র্যালি শুরুর অনেক আগেই সকাল থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হতে শুরু করেন। হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র্যালিকে আরও বর্ণাঢ্য করে তোলেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সোয়া ৩টায় নয়াপল্টন থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। র্যালিটি প্রধান বিচারপতির বাসভবন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয় বিকাল সাড়ে ৪টায়। তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার পথ হাঁটেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু দেশের ভিতরেই নয়, বাইরেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্র দেশের ভিতরেই হোক আর বাইরেই হোক, আমরা এক এক করে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা এখনো ষড়যন্ত্রে মেতে আছে। আবারও তারা দেশে গুমখুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। এ ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ’৭১, ’৭৫, ’৯০, ’২৪ ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’ নয়াপল্টনে সমবেত নেতা-কর্মী ও জনতার কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন? এ সময় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।
বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের দিন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়েই আনেনি। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’
সভায় সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কবিতা আবৃত্তি করেন। তিনি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বকীয়তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল স্তম্ভ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসেবে অভিহিত করেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং চলমান রাষ্ট্র পুনর্গঠনে নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত থাকার আহ্বান জানান।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এখন যা করছে বিরোধী দল, তা গঠনমূলক কর্মসূচি নয়।’
অর্থমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তৃতায় সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখার আহ্বান জানান। তিনি জাতীয় সংহতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতির ধারা গতিশীল এবং ভোটাধিকারভিত্তিক একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার তাগিদ দেন এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
