মজুরির সঙ্গে দেশ, জাতি, সমাজ ও পরিবারে শ্রমিকের মর্যাদা আবর্তিত হয়। তাই শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও হিস্যা বুঝিয়ে দিতে হবে। ডাল-ভাত খাওয়ার মজুরি দিতে হবে। ন্যায্য মজুরি ও হিস্যা আদায়ে সব শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চ’ আয়োজিত জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কনভেনশন-২০২৬ এর সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, মজুরি বৃদ্ধি জটিল প্রক্রিয়া হলেও, মজুরি মৌলিক বিষয়। ইতিমধ্যে রাস্তায় শ্রমিকের রক্তের দাগ লেগেছে। রক্তের দায় মেটাতে হবে মজুরি বোর্ডকে। শ্রমিকের মজুরির উপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি। মজুরি কম থাকলে জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না। মজুরির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া চলে না। আমরা রূপান্তরে বিশ্বাস করি। রূপান্তরের জন্য শ্রমিকদের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আন্দোলনে দালালি যেমন ভয়াবহ ব্যাপার, তেমনই ভয়াবহ ব্যাপার অতি আবেগ। উগ্রতা পরিহার করতে হবে। তৌফিক শেখের জীবনদানের মধ্যদিয়ে তৈরি হওয়া ঐক্য ধরে রাখতে হবে আপনাদের। গার্মেন্টস উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ৩০০ শ্রমিক জীবন দিয়েছেন। যারা পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের দাবি আদায়ের জন্য লড়াই অব্যাহত থাকবে। তবে শ্রমিকদের দাবি আদায়ের নামে ভাঙচুর চলতে পারে না। সাধারণ শ্রমিকরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে না।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক পক্ষের মতামত ও বাস্তবতাকে সামনে রেখে ন্যায্য দাবি আদায় করবো। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মিথ্যা মামলায় আটকদের মুক্তি চাই। নিহত তৌফিক শেখের খুনিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের কাছে মজুরির পরিমাণ উল্লেখ করে দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। তিনি বলেন, মজুরি যা নির্ধারণ হবে তা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং জানুয়ারির বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। গেজেট প্রকাশের পর আমরা আবার আলোচনা করবো। আন্দোলন হবে গঠনমূলক। শ্রমিকদের আন্দোলন ন্যায্য। তারা কখনো অন্যায্য কিছু দাবি করে না।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে সরকার। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি মহল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। দাবি বাস্তবায়নে সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো নির্ভেজালভাবে দাবি আদায় করার। সভায় আরও বক্তব্য দেন- শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিদা সরকার, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোটের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন শহীদ, বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের সভাপতি রুহুল আমীন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তাসনিম ও বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামিমা আক্তারসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা।
