কলকাতায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে হাতাহাাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি কর্মী ও অভিষেক অনুগামীদের মধ্যে এই সময় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। ছেঁড়া হয়েছে ব্যানার,অভিষেকের কাটআউট। দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা।
অভিষেক অভিযোগ করেছেন, বিজেপির দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। তাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। তার অনুগামীরা আহত। সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
জানা গেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে ৭ নভেম্বর তার বাড়ির সামনে জমায়েত হয়েছিলেন তার অনুগামীরা। সেই সময় বিজেপির কিছু কর্মী সমর্থক সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় 'চোর', 'চোর' স্লোগান দেন। ছিড়ে ফেলেন ব্যানার। অভিষেকের অনুগামীরা বাধা দিলে তখনই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। 'চোর' স্লোগান দেওয়া হয়, ছেঁড়া হয় অভিষেকের ব্যানার, কাটআউট। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের অনুগামীরা বাধা দিলে হাতাহাতি বাধে। পুলিশ এসে দু’পক্ষকেই সরিয়ে দেয়।
তবে এই সময় অভিষেক বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার পর ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাড়ির নিচে বসে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ তাকে বাড়ির ভিতরে যেতে বললেও অভিষেক যাননি। পুলিশের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিষেক শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার বাড়ির উপর নজর রাখা হচ্ছে। তা জানিয়েছিলাম। তারপরই এই হামলা। আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাত দু’টার সময় বিজেপির গুন্ডারা হামলা চালিয়েছে। আমার এক সহকর্মীর হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার উপর বারবার হামলা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ কী অবস্থায় আছেন তা বোঝা যাচ্ছে।”
কিছুদিন আগে অভিষেক দাবি করেছিলেন, কিছু অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার বাড়ি ও অফিসের আশেপাশে নজরদারি করছিল। কার আদেশে এবং কী উদ্দেশ্যে এই নজরদারি চালানো হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের কাছে অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।
অভিষেকের বাড়ির সামনের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপান উতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা এই ঘটনাকে সাজানো বলে অভিহিত করেছেন। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “এত বড় নেতা ফুটপাতে কেন জন্মদিন পালন করছেন। জানি না কী হয়েছে। মানুষের সহানুভূতি কুড়নোর পুরনো পন্থা এটা।” বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা বলেছেন, “যারা ঠক, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের মানুষ ছাড়বে কেন। যারা ওদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা ছাড়বে কেন। চোর ও সাধারণ মানুষকে এক করলে হবে না।”
এদিকে একাধিক মামলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য সরকার। দীপাবলির পর হতে পারে তার শুনানি।
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছে। সেবাশ্রয় থেকে বিভিন্ন দুর্নীতি, ডিজে মামলা থেকে বিধায়কদের সই জাল, একাধিক অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলিতে রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। দীর্ঘ শুনানির পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
