প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত, আধুনিক, জনবান্ধব ও আর্থিকভাবে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন ব্যবস্থার সংস্কার থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ এবং আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সৃষ্টি করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম বাংলাদেশ) আয়োজিত ‘Improving Patient Outcomes at Scale through Public and Private Collaboration in Bangladesh’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাপ্রযুক্তিবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬-এর অংশ হিসেবে অ্যামচেম বাংলাদেশের হেলথকেয়ার অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সাবকমিটি এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে ছিল মেডট্রনিক বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারক, চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ, বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যমান চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থাকে পর্যায়ক্রমে একটি প্রতিরোধমুখী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রূপান্তর করা।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কারকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থায়ন, স্বাস্থ্যকর্মী, অবকাঠামো, চিকিৎসাপ্রযুক্তি, ওষুধ ও রোগনির্ণয় ব্যবস্থা, রেফারেল সেবা এবং স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মানÑসবগুলো উপাদানকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে উন্নত করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের পরিকল্পনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য অযথা রাজধানী বা বড় শহরে যেতে হবে না।
একই সঙ্গে জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেবার সমন্বয় গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ড. হায়দার বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু হাসপাতালের সংখ্যা বৃদ্ধি বা আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা নয়; বরং এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একজন রোগী সময়মতো সঠিক রোগনির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ফলোআপ এবং আর্থিক সুরক্ষা পাবেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার সফলতা পরিমাপ করতে হবে রোগীর চিকিৎসার ফলাফল ও জীবনমানের উন্নয়নের ভিত্তিতে।
স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের সংকট তুলে ধরে ড. হায়দার বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসাব্যয়ের একটি বড় অংশ এখনো সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মোট চলতি স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ এসেছে সরাসরি ব্যক্তিগত ব্যয় থেকে।
তিনি বলেন, উচ্চ চিকিৎসাব্যয়, বিশেষ করে ক্যানসার, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য জটিল অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা অনেক পরিবারকে বিপর্যয়কর স্বাস্থ্যব্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারকে সম্পদ বিক্রি করতে হয়, ঋণগ্রস্ত হতে হয় অথবা চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দিতে হয়।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থায়নের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, আর্থিক ঝুঁকি সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা ক্রয়ের আধুনিক পদ্ধতি প্রবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ড. হায়দার স্বাস্থ্য খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে একটি আধুনিক ও সমন্বিত প্রাক্-হাসপাতাল জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া, স্ট্রোক, গুরুতর আঘাত এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্সসেবা, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত জরুরি চিকিৎসাকর্মী এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক ও জরুরি চিকিৎসাকর্মী, কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও সেবা সমন্বয় এবং হাসপাতালভিত্তিক রেফারেল ব্যবস্থাকে একটি কার্যকর জাতীয় জরুরি চিকিৎসাসেবা কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব।
এ ধরনের উদ্যোগ দুর্ঘটনা ও আকস্মিক অসুস্থতায় প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ড. হায়দার বলেন, সব ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা কেবল সরকারি অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বিদ্যমান সক্ষমতাকে জনগণের কল্যাণে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিং বা কৌশলগত সেবা ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড, সেবার গুণগত মান, স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং জবাবদিহির ভিত্তিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা ক্রয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
বিশেষ করে ক্যান্সার চিকিৎসা, হৃদ্রোগের জটিল চিকিৎসা, কিডনি ডায়ালাইসিস এবং অন্যান্য ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে যেখানে ইতোমধ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির মাধ্যমে সেই সক্ষমতাকে জনগণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীর চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং চিকিৎসাব্যয়ের কারণে পরিবারগুলোকে আর্থিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা।
দেশে চিকিৎসাযন্ত্র ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের সম্ভাবনা তুলে ধরে ড. হায়দার বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ওষুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন চিকিৎসাযন্ত্র, মেডিকেল ডিভাইস, রোগনির্ণয় সরঞ্জাম এবং স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়ার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে চিকিৎসাযন্ত্র উৎপাদনের একটি শক্তিশালী শিল্পভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব।
এতে আমদানিনির্ভরতা কমানো, চিকিৎসাযন্ত্রের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তিনি চিকিৎসাযন্ত্রের মান নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, দক্ষ বায়োমেডিকেল প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান তৈরি, যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, একটি আধুনিক চিকিৎসাযন্ত্র তখনই রোগীর উপকারে আসবে, যখন সেটি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল, প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে।
ড. হায়দার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য মেডিকেল ট্যুরিজম বা স্বাস্থ্য পর্যটন বিকাশের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এর ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়।
দেশের অভ্যন্তরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নত রোগনির্ণয় ব্যবস্থা এবং মানসম্মত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রোগীদের যাওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক মান ও স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশগুলোর রোগীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্বাস্থ্য পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ড. হায়দার বলেন, চিকিৎসাপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত করতে হলে প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, চিকিৎসাসেবার মান নিয়ন্ত্রণ এবং যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি চিকিৎসক, নার্স, বায়োমেডিকেল প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ এবং হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সংগঠন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি চিকিৎসাযন্ত্র নিবন্ধন, মূল্য নির্ধারণের পূর্বানুমানযোগ্যতা, যন্ত্রাংশ আমদানি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সফলতা শুধু বিনিয়োগের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা যাবে না। এর প্রকৃত মূল্যায়ন হতে হবে রোগীর চিকিৎসার ফলাফল, সেবার নিরাপত্তা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, সেবার ব্যয়সাশ্রয় এবং জনগণের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের নীতি নির্ধারণ, সেবার মান নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্যতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রধান দায়িত্ব সরকারের। অন্যদিকে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষায়িত সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা কেবল বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি না করে, বরং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রাপ্যতা, মান ও আর্থিক সুরক্ষায় বাস্তব উন্নতি ঘটায়।
তিনি অ্যামচেম বাংলাদেশ, মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাপ্রযুক্তি কোম্পানি, বেসরকারি হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবায়নযোগ্য বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তরে সরকার নেতৃত্ব দেবে, কিন্তু এই রূপান্তর সফল করতে বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, চিকিৎসাপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ একজন মানুষের আয়, সামাজিক অবস্থান বা বসবাসের স্থানের ওপর নির্ভর করবে না।
সেমিনারে একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন বেকটন ডিকিনসনের বাংলাদেশ বিজনেস লিডার মির্জা সাজিব রায়হান।
প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী; ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আক্তার হোসেন; মেডট্রনিক বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মায়াঙ্ক ত্রিপাঠী; এবং স্কয়ার হাসপাতালস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স) মিনহাজ উদ্দিন সুলতান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যামচেম বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং হেলথকেয়ার অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সাবকমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক আল-মামুন এম. রাশেল।
স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন ড. হায়দার
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
৬ নভেম্বর (শুক্রবার), ২০২৬, ৬ঃ৩৪ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
