গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশ পরিচয়ে আটকানো ও তল্লাশি করা হয়। তাদের আচরণে সন্দেহ হলে শিক্ষার্থীরা ছিনতাইকারী সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সমঝোতার মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ফেরার সময় সিফাত হোসেন সিয়াম ও তার বন্ধু অর্পের পথ আটকান তিন ব্যক্তি। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তারা তল্লাশি শুরু করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিচয় জানতে চাইলেও তারা তা দিতে রাজি হননি; পরিচয়পত্র দেখাতে বললে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আরও শিক্ষার্থী এলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তি হয়।
এরপর তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। বাস থেকে নামানোর পর তাদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পরে তাদের প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে জানা যায়, তিনজনের একজন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, আর বাকি দুজনের একজন কনস্টেবল হানিফ এবং অন্যজন পুলিশের সোর্স জাহিদ।
পরে প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাদের পুলিশ সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের কথা শোনে, এবং শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, ‘আমি ও আমার বন্ধু অর্প হাঁটছিলাম, অর্প একটু সামনে ছিল। হঠাৎ তিনজন এসে আমাদের ঘিরে ধরেন। একজন অর্পের শার্টের কলার ধরে বলেন, ‘আমরা পুলিশ, আপনাদের চেক করব’ এবং সঙ্গে সঙ্গেই তার পকেটে হাত দেন। পরে তারা আমাদের পরিচয় ও ঠিকানা জানতে চান। আমরা কুবির শিক্ষার্থী হিসেবে আইডি কার্ড দেখাই।
এএসআই শ্যামল সাহার বলেন, তারা দুই শিক্ষার্থীকে দেখে পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা কুবির শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান, আর দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরা পরিচয় দিতে চাননি এবং তাদের কাছে আইডি কার্ডও ছিল না। শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল; বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রক্টরিয়াল বডিকে জানালেই ভালো হতো। জোর করে তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। উভয় পক্ষের কথা শুনে আমরা একটি যুক্তিসংগত সমাধানে পৌঁছেছি, যা উভয় পক্ষ মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীরা যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, থানা, এমনকি ৯৯৯-এ কল দিতেন, তাহলে বিষয়টি সেখানেই মিটে যেত। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ রয়েছে, আমাদের সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সমঝোতা সম্পন্ন হয়।
