সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে ঘিরে স্ত্রী দাবি করা এক নারীকে নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে এবার তালাকের নোটিশ ও কথিত কাবিননামা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি। এসব নিয়ে শুক্রবার সকালে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন রনি।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘সময়টা ইউনূস জমানার। তখন ইল্লুদের প্রভাব তুঙ্গে ! ইল্লুর প্ররোচনায় স্ত্রী দাবি করা মহিলা হঠাৎ একদিন আমার অফিস এলেন। আমি ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ ডাকলাম।
পুলিশ এসে মহিলাকে বললো—আপনার কাছে কি আছে বিয়ের প্রমাণ। সে বললো কাগজ আছে। কিন্তু দেখালো না। কারণ ওটা নাকি আমার কাছে নেই। আমি যদি পাই তবে তাকে আইন মোতাবেক তালাক দিয়ে দিবো। পুলিশ তাকে অফিস থেকে নিয়ে গেলো। মহিলা নিচে নেমে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চম্পট দিলেন।
এরপর তিনি চক্রান্তের দ্বিতীয় অংশ বাস্তবায়নের জন্য ধানমন্ডিতে আমার বাসায় উপস্থিত হলেন। আমি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে মহিলার আত্মীয় পরিচয়ে দুইজন লোককে আনা হয় এবং থানার কর্তাব্যক্তিরা মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে কথিত কাবিনের একটি কপি সংগ্রহ করতে সামর্থ হন।
আইনবীদদের পরামর্শ ছিলো—কাবিনটির যথাযথতা এবং কাবিনের আড়ালের ঘটনা কোর্ট কাঁচারিতে গিয়ে প্রমাণ করতে গেলে কয়েক বছর লাগবে এবং তারা চাচ্ছে আপনাকে কোর্টে নিয়ে জিম্মি করার জন্য। তারচেয়ে তাকে কাবিন অনুযায়ী তালাক এবং দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা দিয়ে দিলে মন্দের ভালো হয় এবং চক্রান্তের ইতি ঘটে।
তিনি আরও লেখেন, আমি পুরো ঘটনা বর্ণনা করে শাহবাগ থানায় মামলা করি, তালাকের নোটিস প্রদান করি এবং কথিত কাবিনে বর্ণিত টাকা পরিশোধ করি। স্ত্রী দাবি করা মহিলার লোকজন এরপর একাধিক বার যোগাযোগ করে এবং আমার সামাজিক সম্মানকে জিম্মি বিশাল বিশাল দাবি করতে থাকে।
নিজেকে অটল রেখেছেন উল্লেখ রনি আরও বলেন, মহিলার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করিনি তার সাবেক স্বামীর ওরসে পয়দা হওয়া বিবাহ উপযুক্ত এবং কিছুটা মানসিক অসুস্থ মেয়ের এবং কিশোর ছেলের কথা চিন্তা করে।
বিষয়টি সাবেক এই সংসদ সদস্যের পরিবার, আত্মীয় স্বজন এবং আপনজনরা প্রথম দিন থেকেই জানতেন উল্লেখ করে তিনি লেখেন, কাজেই আমার মানসিক এবং নৈতিক শক্তি অটুট ছিলো এবং পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমার আপনজনরা সবাই আন্তরিকতা নিয়ে আমার পাশে দাঁড়ায়।
এরই মধ্যে চক্রান্তের অংশ হিসাবে মহিলা এবং তার গডফাদার ইউটিউবার ইলিয়াস একটি ভিডিও তৈরী করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। বনি আমিন নামক আরেক ইউটিউবারকেও দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেয় মূলত আমাকে হেয় করার জন্য।
ইতিমধ্যে, যেহেতু আইন মোতাবেক তালাক কার্যকর এবং রেজিস্ট্রি হয়ে যায় এবং মহিলা তার দাবিকৃত টাকা পেয়ে যায় সেহেতু বিষয়টি নিয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
উল্লেখিত ঘটনার এতো পরে এনসিপির নাহিদরা কেন আমার স্ত্রী দাবি করা মহিলার প্রতি এতোটা আকৃষ্ট হলো এবং এই মহিলার নেতৃত্বে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখলো তা আমার বোধগম্য নয়।
তিনি স্ট্যাটাসে আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জমানায় আমার মতো বহু মানুষকে কিভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট জিম্মি করতো তা যদি কেউ জানতে চান তবে শাহবাগ থানায় করা আমার অভিযোগটি পড়তে পারেন।
আমার জীবনটি আমার আপনজন, প্রতিপক্ষ এবং শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত। গোপন, লুকোচুরি এবং অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতার মতো কোনো ঘটনা নেই। জীবনের সব ঝড় মোকাবেলা করেছি, কিন্তু আপস করিনি। কারো সঙ্গে লাগতে যাইনি কিন্তু কেউ লাগতে এলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করেছি।
