ভারত আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে পাসপোর্ট দিয়ে আনা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিমানবন্দরে বিদায় দেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা একজন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী। সে কি তার শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে আসছে যে, তাকে পাসপোর্ট দিয়ে আনতে হবে। আমাদের সঙ্গে ভারতের একটি এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (প্রত্যর্পণ চুক্তি) আছে। সন্ত্রাসী এবং ক্রিমিনালকে ধরার জন্যই এই চুক্তি। একজন টেরোরিস্ট ক্রিমিনালকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, লাগে জুডিশিয়াল প্রসেস। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। সে একজন সন্ত্রাসী। তাকে আমরা কোনোভাবেই একজন সাধারণ কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে দেখি না। আমরা তার প্রত্যর্পণ চাই। দুই দেশের মধ্যকার এই চুক্তির মাধ্যমেই হাসিনাকে হস্তান্তরের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন হুমায়ুন কবির।
চীন-বাংলাদেশ করিডোরের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে দেখছে সরকার: মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয়ে বেইজিংয়ের প্রস্তাব ঢাকা ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। বলেন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোর হলে এখানে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে নতুন সংযোগ চালু হবে। গত জুনে অর্থনৈতিক যোগাযোগ সহজ করতে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে করিডোর করার প্রস্তাব দেয় বেইজিং। এটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীন একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ রুট। এই করিডোরের মূল লক্ষ্য হলো চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ও কাঠামোগত সংযোগ স্থাপন। এই করিডোর চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের মান্দালয় পৌঁছাবে। সেখান থেকে একটি অংশ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং অন্য একটি অংশ রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই সংযোগটি পরে সড়ক ও রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে চীনের।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনের স্থিতিশীলতার সঙ্গে এই করিডোর প্রতিষ্ঠাকে মিলিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এটা করার আগে, রোহিঙ্গা ইস্যু ইজ অ্যান ইম্পর্টেন্ট ইস্যু। তো ওই জায়গায় একটা স্থিতিশীলতার দরকার আছে। তো, আমরা আলাপ আলোচনা করবো এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই ইনশাআল্লাহ আমরা এটা সমাধান করতে পারবো।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লিউ হাইশিং। ঢাকায় তিনি কর্মব্যস্ত সময় পার করেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়ার আগে সকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন ও স্মার্ট ক্লাসরুম উদ্বোধন করেন এই নেতা।
