ডিসেম্বরে চালুর আশা চট্টগ্রামের কালুরঘাট চাক্তাইয়ের চার লেনের মেরিন ড্রাইভ

ডিসেম্বরে চালুর আশা চট্টগ্রামের কালুরঘাট চাক্তাইয়ের চার লেনের মেরিন ড্রাইভ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন চার লেনের মেরিন ড্রাইভ। নগরীর যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে যাওয়া এ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই সড়কটির মূল অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার আশা করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নদীর এক পাশে ছোট-বড় নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল, অন্য পাশে সবুজে ঘেরা পিচঢালা সড়ক।

নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই সড়কটি দেখতে সেখানে ভিড় করছেন নগরবাসী ও দর্শনার্থীরা। সিডিএ সূত্র জানায়, কালুরঘাট থেকে চাক্তাই পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। চার লেনের ৮০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি নির্মিত হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম তীরে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হয়েছে। জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজও এগিয়ে চলছে। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব দাস মানবজমিনকে বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত থাকলেও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মূল কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, চাক্তাইয়ের কল্পলোক থেকে বলিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু যোগাযোগ নয়, কর্ণফুলীর তীরকে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সিডিএর। বাকলিয়া এলাকায় নদীর তীরে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পর্যটন জোন গড়ে তোলা হবে। শাহ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত ওয়াকওয়ের পাশাপাশি থাকবে শিশুদের বিনোদন সুবিধা, বসার জায়গা ও রেস্তোরাঁ। এতে নদীর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অবসর কাটানোর নতুন জায়গা পাবেন নগরবাসী। প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ। বর্ষা মৌসুমে নগরীর পানি নিষ্কাশন সহজ করতে খালের মুখে ১২টি জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রণ রেগুলেটর ও পাম্প হাউস স্থাপন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে ১০টির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রায় ২৪ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতার এ সড়ক ও বাঁধ কর্ণফুলী তীরবর্তী এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়কটি চালু হলে কালুরঘাট, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও মোহরা এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে। সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের মূল কাজ শেষ করাই তাদের লক্ষ্য। জমি অধিগ্রহণ ও অর্থায়ন-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের জুনে চাক্তাই খালের মোহনায় সøুইসগেট উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়।