নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নাটোরের গুরুদাসপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার দৌরাত্ম্য থামছেই না। আবাসিক ও ঘনবসতি এলাকায় যত্রতত্রভাবে এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ফলে স্থানীয় জনজীবন, কৃষিজমি, পরিবেশ, পাকা সড়কের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিজমিতে স্থাপিত এসব ভাটাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট তৈরির কার্যক্রম চলে আসছে। প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
সরজমিন দেখা গেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর চিমনির উচ্চতা কম হওয়ায় নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ফলে শ্বাষকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। আশপাশের জমিগুলোতে মারাত্মক ফসলহানি ঘটছে। ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠখড়ি। এসব ইটভাটা অনুমোদনের কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি স্বত্বাধিকারীরা। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, কৃষিজমি, বনভূমি ও আবাসিক এলাকার কাছে ভাটা স্থাপন ও জ্বালানি হিসেবে কাঠ বা কয়লা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কৃষিজমি, পুকুর বা নদী, খাল ও জলাভূমি থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর সদর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মোট ১১টি ইটভাটা রয়েছে।
এর মধ্যে মাত্র দু’টি ভাটার লাইসেন্স আছে। আবাসিক এলাকার ৫টি ইটভাটার মধ্যে চাঁচকৈড়ের মোশাররফ হোসেনের মেসার্স এমবিপি ব্রিক্স, আব্দুস সালাম সবুজের মেসার্স একেবি ব্রিক্স, জহুরুল সোনারের মেসার্স এমডিআর ব্রিক্স, জাহাঙ্গীর সোনারের মেসার্স এমডিএস ব্রিক্স, আমজাদ-মফিজের মেসার্স এএমবি ব্রিক্স তাদের ইটভাটা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আবার উপজেলার সাহাপুরে রয়েছে আজাহার প্রামাণিকের মেসার্স এইচবিবি ব্রিক্স, আজাহার বালুর মেসার্স এইচআরবি ব্রিক্স, কাদের হাজীর মেসার্স এইচকেবি ব্রিক্স, মজনু সরদারের মেসার্স এমএসবি ব্রিক্স, হাজীর হাটে জাহিদুল ইসলামের মেসার্স এমডিপি ব্রিক্স, চন্দ্রপুরের রেজাউল হাসান রানার মেসার্স আরআরবি ব্রিক্স। নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিন ফসলি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মাসুদ রানা, জবতুল্লাহ মণ্ডলসহ অনেকে বলেন— প্রতি বছরই ইটভাটায় জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের ‘দায়সারা’ অভিযানের পর ভাটাগুলো আবার চালু হয়ে যায়। স্থায়ীভাবে এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা জরুরি। উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ইটভাটার ভ্যাট, আয়কর, ট্রেড লাইসেন্স, কলকারখানাসহ বিএসটিআই ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স আছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কারোরই নেই। তবে দু’টি ভাটার লাইসেন্স আছে। পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হলে ইটভাটা মালিকদের জানাতে হবে। মেসার্স আরআরবি ব্রিক্সের রেজাউল হাসান রানা ও মেসার্স এমডিপি ব্রিক্সের জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিময় মেনে ইটভাটা পরিচালনা করছি, ছাড়পত্রও আছে। কোনো সমস্যা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
