ট্রাম্পের সঙ্গে ‘অতি ঘনিষ্ঠতা’ ও বাণিজ্যিক বিতর্কে আইনি জাঁতাকলে ইনফান্তিনো

ট্রাম্পের সঙ্গে ‘অতি ঘনিষ্ঠতা’ ও বাণিজ্যিক বিতর্কে আইনি জাঁতাকলে ইনফান্তিনো

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা এবং বিতর্কিত বাণিজ্যিক সমঝোতার জেরে মারাত্মক আইনি জটিলতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ লাভ করায় এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। এখন থেকে সরাসরি সমন জারি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার পূর্ণ আইনি ক্ষমতা চলে এসেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে।

গত ২৬শে জুলাই মার্কিন হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ফিফা ও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের সুনজরে থাকতে ফিফা প্রধান বিভিন্ন অনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। ২৩শে সেপ্টেম্বর কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রাম্প পরিবারকে ফিফার দেয়া অর্থ, ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ এবং বিশ্বকাপ বিক্রির গোপন পরিকল্পনা—এই তিন মূল বিষয়ের কোনো সদুত্তর বা নথিপত্র ফিফা এখনো দেয়নি।

সে সময় সংখ্যালঘু দলে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের বাধ্যতামূলক সমন জারির ক্ষমতা না থাকলেও, বর্তমান বিজয়ের ফলে ইনফান্তিনোকে শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা তাদের জন্য সহজ হবে। নির্দেশ অমান্য করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

মূলত গত জুলাইয়ে বৃটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে ইনফান্তিনোর বাণিজ্যিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি ফাঁস হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের নতুন কোম্পানির মাধ্যমে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পাঁয়তারা করেন ইনফান্তিনো। এই বিনিয়োগকারী দলের নেতৃত্বে ছিল ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’—যার প্রতিষ্ঠাতা ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনার।

ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) ও অন্যান্য মহাদেশীয় কনফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতায় ও টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকিতে ১লা আগস্ট পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। তবে এই ঘটনার পর উয়েফা তার ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় ইনফান্তিনোর শক্ত অবস্থান রয়েছে।

ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ তিন মেয়াদের বেশি সভাপতি থাকতে পারে না। তবে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিতর্কিত এক কৌশলে ২০১৬-২০১৯ মেয়াদকে আমলে না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা কাউন্সিল। এর ফলে টেকনিক্যাল ফাঁকফোকর গলিয়ে ২০২৭ সালেও চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে লড়ার সুযোগ রেখেছেন তিনি।

তবে ‘ফেয়ারস্কয়ার’-এর মতো মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো তার এই প্রার্থিতাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।