মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিসিসিপি এবং আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের দুটি সিনেট আসনের ফলাফল এখনো ঝুলে রয়েছে। ১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্রেটদের আসন সংখ্যা অন্তত ৫৪টিতে পৌঁছেছে। বাকি দুটি আসনেও জয় পেলে তারা রিপাবলিকানদের আইন আটকে দেয়ার কৌশল বা ফিলিবাস্টার এড়াতে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। মার্কিন কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরেও আইন প্রণয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সিনেটের একটি বিশেষ সংসদীয় কৌশল, যা ‘ফিলিবাস্টার’ নামে পরিচিত। মার্কিন সংবিধানে এর কোনো সরাসরি উল্লেখ নেই, বরং সিনেটের অভ্যন্তরীণ কার্যবিধির ওপর ভিত্তি করেই এটি পরিচালিত হয়। সাধারণ নিয়মে কোনো বিল পাসের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ৫১টি ভোটের প্রয়োজন হলেও, কোনো বিলের ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে যাওয়ার আগে বিতর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে হয়। এই বিতর্ক শেষ করার প্রস্তাবকে বলা হয় ‘ক্লোচার’।
সিনেটের বিধি অনুযায়ী, বিতর্ক বন্ধ করে চূড়ান্ত ভোটের দিকে এগোতে হলে ১০০ সদস্যের মধ্যে তিন-পঞ্চমাংশ বা কমপক্ষে ৬০ জন সিনেটরের সমর্থন লাগে। ফলে কোনো দলের সিনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও যদি ৬০টি আসন না থাকে, তবে বিরোধী দল দীর্ঘ বিতর্ক চালিয়ে বা ভোটের বিরোধিতা করে বিলটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখতে পারে। মিসিসিপিতে রিপাবলিকান শক্ত ঘাঁটিতে ডেমোক্রেট প্রার্থী স্কট কলোম এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ৯৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে কলোম মাত্র ১,১৩৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন এবং উভয় প্রার্থীই প্রায় ৪৯ শতাংশ করে ভোট পেয়েছেন। সেখানে কয়েক হাজার ডাকযোগে পাঠানো এবং প্রোভিশনাল বা এফিডেভিট ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে, যার চূড়ান্ত ফলাফল ১৩ই নভেম্বর নাগাদ স্পষ্ট হতে পারে। এছাড়া ভোট সমান হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় ভোট গণনার কোনো স্থায়ী নিয়ম মিসিসিপিতে নেই, যার জন্য আদালতের আদেশের প্রয়োজন হবে।
এদিকে দূরবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান এবং ‘র্যাংকড চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতির জটিলতার কারণে আলাস্কার ফলাফল পেতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সেখানে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের চেয়ে মাত্র ৬৩৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী মেরি পেল্টোলা। এই নিয়মে কোনো প্রার্থী প্রথম পছন্দের ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে সর্বনিম্ন ভোট পাওয়া প্রার্থী বাদ পড়েন এবং ভোটারদের দ্বিতীয় পছন্দের ভোটগুলো অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। রাজ্যটির নির্বাচন বিভাগ জানায় ১৮ই নভেম্বরের আগে এই আনুষ্ঠানিক ফলাফল জানা যাবে না। পাশাপাশি এই আসনে ‘ড্যান সুলিভান’ নামের দুজন প্রার্থী থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যার একজন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বর্তমান সিনেটর এবং অপরজন একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিচার বিভাগ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন ঠেকাতে মামলা করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়, তবে ফলাফল ডেমোক্রেটদের পক্ষে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন আপিল করতে পারে বলে জানা গেছে।
