কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে তার বোন রুবিনা খান ও ছেলে কাসিম খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে উদ্বেগজনক দাবি করেছেন, সেসব তথ্যের উৎস এখনো অস্পষ্ট। বিশেষ করে ইমরান খানের আইনজীবী সালমান সাফদার এসব তথ্যের উৎস হিসেবে নিজেকে অস্বীকার করায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাসিম খানের শেয়ার করা এক বিবৃতিতে রুবিনা খান দাবি করেন, তার ভাই তাকে জানিয়েছেন, হঠাৎ তার রক্তচাপ বেড়ে ১৯২ হয়েছে। এ সময় কারাগারে তার জীবন হুমকির মুখে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রুবিনা খান দাবি করেন, ইমরান খানকে অবিলম্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে একটি নিরপেক্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হোক। কাসিম খানও তার পিতার রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে দীর্ঘদিনের নির্জন কারাবাসের সঙ্গে যুক্ত করেন। ইমরান খানকে মুক্তি না দিলে কারাকক্ষেই তার মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে এসব বক্তব্য ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে ২রা নভেম্বর আদিয়ালা কারাগারে তার আইনজীবী সালমান সাফদারের সঙ্গে সাক্ষাতের কয়েক দিন পরই এ ধরনের দাবি সামনে এসেছে। তবে এসব প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে সাফদার বলেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচারিত তথ্যের উৎস তিনি নন। নিজেকে একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার দায়িত্ব আইনি বিষয়েই সীমাবদ্ধ। তিনি কারও বার্তাবাহক নন। সাক্ষাতের পর সাফদার জানিয়েছিলেন, ২রা নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা ইমরানের সঙ্গে ৪০ মিনিটের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। তিনি বলেন, সাত মাস পর ইমরান খান এবং ১১ মাস পর বুশরা বিবির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। এ জন্য বারবার আবেদন ও অনুরোধ করতে হয়েছিল। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সাফদার বলেন, বিচারাধীন সব মামলা ও আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ওই সাক্ষাতের সময় যথেষ্ট ছিল না।
ইমরান খান ও বুশরা বিবি দুজনই তাকে তাদের স্বাস্থ্য ও কারাগারে বসবাসের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। পাশাপাশি কিছু আইনি বিষয়ে নতুন নির্দেশনাও দিয়েছেন। এদিকে, ওই সাক্ষাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী একবার তার রক্তচাপ প্রায় ১৯০ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে তারা তাকে সামগ্রিকভাবে সুস্থ ও ফিট বলে বর্ণনা করেছেন। তাৎক্ষণিক কোনো গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির ইঙ্গিতও দেননি তারা। সূত্রগুলো জানায়, ইমরান খান বরং তার স্ত্রী বুশরা বিবির স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। বুশরা বিবির চোখের সমস্যা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, রক্তচাপ ১৯২ হওয়ার তথ্য এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক মূল্যায়ন কীভাবে বোন ও ছেলের কাছে পৌঁছেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা কোনো বার্তার ভিত্তিতে এসব দাবি করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে তথ্য তাদের কাছে পৌঁছেছে-তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
রুবিনা খান কিংবা কাসিম খান কেউই প্রকাশ্যে জানাননি, ইমরান খানের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত এই তথ্য তাদের কাছে কে পৌঁছে দিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া উদ্বেগজনক বক্তব্য এবং অন্য সূত্রগুলোর দেওয়া বিবরণের মধ্যে অসংগতির কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
