ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নতুন জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল গ্রহণের পর তিনি এই প্রক্রিয়া শুরু করেন। পুনরায় আরেকটি নির্বাচন এড়াতে দলীয় নেতাদের নিজেদের সব দাবি ও প্রতিশ্রুতি পূরণে ছাড় দিতে হতে পারে বলে সতর্ক করেন হারজোগ। এর মাধ্যমে তিনি ছাড় দিয়ে হলেও সরকার গঠনের বার্তা দিলেন দলগুলোকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
গত ২৭শে অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং তার উগ্র ডানপন্থী ও কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেয়েছে। অপরদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি এবং অন্য তিনটি বিরোধী দল মিলে পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে দুটি আরব জোট মিলে নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ করে কিংমেকার বা সরকার গঠনের নির্ধারকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। যদিও একটি বাদে অধিকাংশ ইহুদি দল নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সাথে সরকার গঠন না করার অঙ্গীকার করেছিল। বর্তমানে দলগুলো নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনা জারি রেখেছেন। সরকার গঠনের জন্য প্রধান প্রধান জোটগুলো কাজ করছে। আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয় নেতানিয়াহু। তবে তার এই প্রস্তাবে সারা দেয়নি বিরোধীজোট।
কারচুপির অভিযোগ বাতিল: নির্বাচন কমিশনের প্রধান বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গ জানান, কোনো ধরনের কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে দেরি করার কোনো সুযোগ নেই। গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করলেও কমিশন জানায়, এটি নির্বাচনের মূল ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কাতার থেকে আরব ভোটার বাড়ানোর জন্য অর্থ আসার অভিযোগ দোহা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এদিকে নেতানিয়াহুর শিবিরের আরব নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি এবং শিন বেত প্রধানের জেরা করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে বিরোধ তীব্র হয়েছে। আইজেনকোট অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হারজোগ আরব নাগরিকদের প্রতি কোনো ধরনের বর্ণবাদী আচরণ বা অপপ্রচার না চালাতে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
