যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পোশাকশিল্প: বিপদে পড়বে কোটি মানুষ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, তৈরি পোশাক কারখানায় একের পর এক তালা পড়লে এর মাশুল দিতে হবে পুরো দেশকে। বিপর্যস্ত হবে দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস। কমবে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ। চাপে পড়বে ব্যাংকঋণ, রাজস্ব আদায় ও হাজার হাজার সহযোগী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কর্মহীন হয়ে পড়বেন লাখ লাখ শ্রমিক; তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো পড়বে চরম আর্থিক সংকটে। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার অন্য দেশে সরিয়ে নিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের রপ্তানি বাজারও। বাড়তে পারে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধপ্রবণতা। অর্থাৎ পোশাকশিল্পের সংকট শেষ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো অর্থনীতি ও সমাজে। বিপদে পড়তে পারে কোটি মানুষ।
চলমান শ্রমিক অসন্তোষে এরই মধ্যে বন্ধ হয়েছে বিপুলসংখ্যক কারখানার উৎপাদন। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যমতে, গেল চার দিনে প্রায় ৭০০ কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি পুরো দেশের জন্য উদ্বেগের, কারণ বর্তমানে এ খাতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এর অবদানও ৮ শতাংশের বেশি। ফলে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার অর্থ শুধু শ্রমিকদের আয় বন্ধ হওয়া নয়; একই সঙ্গে দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হওয়া।
অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি এমনিতেই ধীরগতির মধ্যে রয়েছে। তিন-চার বছর ধরে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। জিডিপি প্রবৃদ্ধিও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় তৈরি পোশাকশিল্প বন্ধ হয়ে গেলে বা বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়লে বেকারত্ব আরও বাড়বে এবং অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে। তখন দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সবাইকে চিন্তা করতে হবে। এ বিষয়টিতে কোনোভাবেই রাজনীতি আনা উচিত নয়। মানুষের পেটের ক্ষুধা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে রাজনীতি করা ঠিক হবে না। অর্থনীতি আরও খারাপ হলে অপরাধপ্রবণতাও বাড়তে পারে। তখন দরিদ্র মানুষই আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, পোশাক রপ্তানি কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় চাপ পড়বে। কারণ দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানও এর ওপর নির্ভরশীল। কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকদের চাকরি ও আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও গভীর হবে।
ঝুঁকিতে রপ্তানি আয় ও ডলারের প্রবাহ : বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে হয়। কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য তৈরি ও জাহাজীকরণ সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানি বিল দেশে আসতে দেরি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতারা অর্ডার বাতিল বা অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন। ফলে শুধু চলতি সময়ের রপ্তানি আয় নয়, ভবিষ্যতের অর্ডারও ঝুঁকিতে পড়বে।
পোশাক রপ্তানি থেকে পাওয়া আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান ভিত্তি। এ প্রবাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে ডলারের সরবরাহেও চাপ তৈরি হবে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থায় এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চাপে পড়বে ব্যাংক ও সহযোগী শিল্প: উৎপাদন বন্ধ থাকলে ব্যাংকিং খাতেও চাপ বাড়বে। পোশাক কারখানাগুলো চলতি মূলধন, কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাংকঋণ ও ঋণপত্রের (এলসি) ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদন ও রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ঋণের সুদ, কিস্তি ও অন্যান্য আর্থিক দায় পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু রপ্তানি বিল আটকে গেলে বা বিক্রি কমে গেলে অনেক প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থপ্রবাহ সংকুচিত হবে। এতে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়বে। দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারখানাগুলো আরও সংকটে পড়বে। এর প্রভাব ব্যাংকের ঋণমানেও পড়তে পারে।
পোশাকশিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। সুতা, কাপড়, ডাইং, ওয়াশিং, প্রিন্টিং, বোতাম, জিপার, কার্টন ও প্যাকেজিং শিল্পের বড় অংশের ব্যবসা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি পরিবহণ, বন্দর, শিপিং, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পণ্য সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভর করে। কারখানায় উৎপাদন কমলে এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ ও আয় কমে যাবে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বা কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হতে পারে। ফলে একটি শিল্পের সংকট ছড়িয়ে পড়বে পুরো সরবরাহব্যবস্থায়।
এর প্রভাব পড়বে সরকারের রাজস্ব আদায়েও। পোশাক কারখানা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আয়কর, উৎসে কর ও মূল্য সংযোজন করসহ (ভ্যাট) বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আসে। উৎপাদন, বিক্রি ও রপ্তানি কার্যক্রম কমে গেলে এসব খাতের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, পোশাকশিল্পের সঙ্গে অনেক সহযোগী শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িত। এ শিল্পের পশ্চাদমুখী ও অগ্রমুখী সংযোগের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও উৎপাদন ও ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থাৎ পোশাকশিল্পের সংকট শুধু এ খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর বহুমুখী প্রভাব পড়বে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে।
আয় বন্ধ হলে সংকটে পড়বে শ্রমিক পরিবার : সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কর্মসংস্থান নিয়ে। তৈরি পোশাকশিল্পে সরাসরি কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের নিয়মিত আয় বন্ধ বা কমে যেতে পারে। অথচ বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা ও ঋণের কিস্তির মতো ব্যয় অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘদিন কাজ না থাকলে শ্রমিক পরিবারগুলো ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। খাবার ও পুষ্টির ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
শ্রমিকদের আয় কমে গেলে শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরের মতো এলাকায় শ্রমিকদের ব্যয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান, বাজার, হোটেল, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা। শ্রমিকদের আয় বন্ধ হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিক্রিও কমবে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট শুধু কারখানার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ছড়িয়ে পড়বে।
বাড়বে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের ঝুঁকি : দীর্ঘদিন বেকার থাকা, ঋণের চাপ, পারিবারিক সংকট ও আয়হীনতা শ্রমিক পরিবারে হতাশা বাড়াতে পারে। বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের আয় কমে গেলে তাদের পরিবারে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে চরম আর্থিক সংকটে কিছু মানুষের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
বিদেশি ক্রেতা হারানোর শঙ্কা: এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানো। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ বারবার ব্যাহত হলে তারা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আকাশচুম্বী দাবি করলেই তো হবে না। বিদেশি ক্রেতারা অতিরিক্ত দাম দিয়ে পণ্য কিনতে চাইবেন না। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদেরও ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পণ্যের দাম বেশি হলে তারা বাংলাদেশ থেকে না কিনে ভিয়েতনাম, ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, লাওস ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে চলে যেতে পারেন। গত ২০ বছরে মজুরি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দাবি উঠেছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
একইভাবে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে ক্রেতার অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বাংলাদেশের ওপর তাদের আস্থা কমে যাবে। এতে ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশ থেকে আবার অর্ডার দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। একবার অর্ডার অন্য দেশে চলে গেলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে।
যে কারণে আন্দোলন: শ্রমিকদের অসন্তোষের পেছনে রয়েছে মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্ন। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। বকেয়া বেতন পরিশোধ, ছাঁটাই বন্ধ, চাকরির নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি বন্ধের দাবিও রয়েছে। সরকার এরই মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন ও কারখানা বন্ধের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আর শ্রমিকরা শিল্পের প্রাণ। এই শিল্পের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যার সবটুকুই শ্রমিককেন্দ্রিক এবং শ্রমিকদের হাতিয়ার বানানো হয়েছে। না বুঝে, অজ্ঞাতসারে শ্রমিকদের একটি অংশ এই ষড়যন্ত্রে পা দিয়েছে, আন্দোলন করেছে। পরে ভুল ভাঙলে শ্রমিকরা আবার কাজে যোগ দিয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।
প্রথম আলো
‘কংগ্রেস হাতছাড়া, বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন জরিপ যে আভাস দিয়েছিল, ভোটের ফলাফলে সেটাই নিশ্চিত হলো। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ হাতছাড়া হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির। ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিদ্বেষ ছড়ানো, বিভেদ সৃষ্টিসহ নানা অপকৌশলের পরও ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে রায় দিয়েছেন মার্কিন জনগণ। ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হলো, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর সহজ হবে না ট্রাম্পের জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বলা হয় প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরের কাজ নিয়ে জনগণের মূল্যায়ন। ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শুল্কনীতি, দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা বিষয় ঘিরে জন-অসন্তোষ যে এই মূল্যায়নে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বিভিন্ন জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকেরা আগে থেকেই বলে আসছিলেন। বেশির ভাগ জরিপে বলা হচ্ছিল, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে এই পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গেছে নির্বাচনের ফল।
প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ আসনে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছিল ২১৮ আসন। ডেমোক্র্যাটদের ছিল ২১৪টি। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে গতকাল বুধবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা) প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ২২৫ আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ১৩৮ আসন। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ২১৮টি আসন প্রয়োজন। ৭৩ আসনের ফলাফল ঘোষণা বাকি থাকতেই এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ পেরিয়ে গেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।
প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনে ভোট হলেও সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫ আসনে ভোট হয়েছে। এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্তত ৫১টি আসন পেতে হয়। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল ৫৪টি আসন। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির দখলে ছিল ৪৪টি। নির্বাচনের আগে সিনেটের চিত্র ছিল রিপাবলিকান পার্টি ৫৩ আসন, ডেমোক্রেটিক পার্টি ৪৫ আসন। এর বাইরে স্বতন্ত্র দুই সিনেটর সমর্থন দেন ডেমোক্র্যাটদের।
দুই কক্ষেই পরাজয় ট্রাম্পের জন্য বড় একটি ধাক্কা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামী জানুয়ারিতে শপথ নেবেন। এরপর প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা চাইলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন। তদন্তের আওতায় পড়তে পারে ট্রাম্পের পরিবার ও মিত্ররাও। আর আইন প্রণয়নে বাধা তো আছেই। অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে ট্রাম্পের বিভিন্ন নিয়োগে বাধা দিতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। মোটকথা, আইন পাস কিংবা কংগ্রেসের অনুমোদনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মার্কিন জনগণ পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষক লরেল র্যাপ। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, আগামী দুই বছর ট্রাম্পকে নীতি নির্ধারণে বেশ কিছু বাধার মুখে পড়তে হবে। তবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত, মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর হাতে এখনো বড় ক্ষমতা রয়েছে।
রিপাবলিকানদের এই পরাজয় কেন
ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় বসেন ২০১৭ সালে। দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ২০২৫ সালে। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি জরিপ প্রকাশ করেছিল রয়টার্স/ইপসস। তাতে দেখা যায়, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তাঁর দুই মেয়াদের মধ্যে সবচেয়ে কম, ৩১ শতাংশে নেমেছিল।
জনপ্রিয়তায় এই ধসের পেছনের কারণগুলোই মূলত নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছে। প্রথমেই আসে ইরান যুদ্ধের কথা। ট্রাম্পের কথামতো এই যুদ্ধ দ্রুত তো শেষই হয়নি, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক চাপিয়ে ট্রাম্প যে ফায়দা লোটার কথা বলেছিলেন, তা-ও বাস্তবে হয়নি। সঙ্গে আছে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিকে কাজে লাগিয়ে সম্পদ বাড়ানোর অভিযোগ। ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী প্রচারে এগুলো ভালোমতোই কাজে লাগিয়েছেন।
নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের নিজের সিদ্ধান্তেও কিছু গলদ আছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় বেশ কিছু জায়গায় হস্তক্ষেপ করেছেন তিনি। তাঁদের অনেককে নিয়েই রিপাবলিকান শিবিরে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। যেমন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি টেক্সাসের সিনেটর প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ও সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর প্রার্থী ডারলিন গ্রাহাম। দুজনই হেরেছেন।
নির্বাচনে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয় গত মঙ্গলবার। ভোট গ্রহণ শেষ হলে বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান এসএসআরএস। জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশ ভোটার জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাঁরা মোটেও ‘সন্তুষ্ট নন’। ৭০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেসের সক্রিয় ভূমিকা চান তাঁরা।
‘হাতা গুটিয়ে কাজে নামতে হবে’
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ৩৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড়। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯০ সালে পরিষদে ২৬৭ আসন পেয়েছিলেন তাঁরা। এবারের নির্বাচনে ধনী বা দরিদ্র, শিক্ষার হার বেশি বা কম-নির্বিশেষে অনেক এলাকাতেই সমর্থন হারিয়েছেন রিপাবলিকানরা। অপর দিকে লাতিন-অধ্যুষিত, সীমান্তবর্তী ও কৃষি-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বেশি ভালো করেছেন ডেমোক্র্যাটরা।
এবারের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের পাশাপাশি ৫০ অঙ্গরাজ্যের ৩৬টিতে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫০ অঙ্গরাজ্যের ২৮টি এখন ডেমোক্র্যাটদের দখলে। রিপাবলিকানদের দখলে ২০টি। পাঁচ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদ হারিয়েছেন তাঁরা। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট ও গভর্নর নির্বাচনে এবার কিছু ইতিহাসও সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাটরা।
ইতিহাস সৃষ্টির কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত আবদুল আল-সাইদের কথা। মিশিগানের এই প্রার্থীকে পরাজিত করতে কম চেষ্টা হয়নি। মিসরীয় বংশোদ্ভূত আল-সাইদকে নিয়ে ট্রাম্প মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য করতে ছাড়েননি। এমনকি নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর ওপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নেন স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতা হেইলি স্টিভেনস।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ডেব হালান্ড। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হিসেবে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। মিনেসোটা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী সিনেটর হয়েছেন পেগি ফ্ল্যানাগান। জর্জিয়ায় নির্বাচিত কেইশা ল্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন। আর প্রথম লাতিন গভর্নর হচ্ছেন টেক্সাস থেকে নির্বাচিত জিনা হিনোজোসা।
বিজয়ের পর ডেমোক্র্যাট শিবিরে এখন উৎসবের আমেজ। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, মার্কিন নাগরিকেরা ভোটের মাধ্যমে রায় দিয়েছেন, তাঁরা কট্টরপন্থা ও দুর্নীতি আর সহ্য করবেন না। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি কংগ্রেসের স্পিকার হতে যাচ্ছেন। আর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, পরিবর্তনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের জামার হাতা গুটিয়ে কাজে নামতে হবে।
কালের কণ্ঠ
‘প্রকল্প পেতে গ্যাজপ্রমের জোর তৎপরতা’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন প্রকল্প পেতে তৎপরতা শুরু করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম। ভোলায় পাঁচটি গ্যাসকূপ খনন, ভোলা ও হাতিয়ায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ, ভোলা-বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণে অংশগ্রহণ এবং ভোলায় ছোট আকারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই কাজ পেতে চায়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের (ইএমআরডি) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাস থেকে এসব প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে দেওয়া পুরনো প্রস্তাবগুলো নতুন করে সামনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে গ্যাজপ্রম।
ওই সময় বিতর্কিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন কার্যকর ছিল। এ আইনের আওতায় প্রচলিত ক্রয় প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি বিভিন্ন জ্বালানি প্রকল্পের কাজ দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করার পর এখন নতুন করে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জ্বালানি খাতে গ্যাজপ্রমের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় একটি মহল আবারও তৎপর হয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বিনা দরপত্রে নতুন প্রকল্প বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। এ ক্ষেত্রে মিয়া সাত্তার নামের এক বেসরকারি ব্যবসায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় তাঁর নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া ভিয়েনা কনভেনশনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।
পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাজপ্রমের নতুন প্রস্তাবের বিপরীতে দেশে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে গ্যাসকূপ খননের কাজ করছে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো।
বর্তমানে চীনের সিনোপেক ভোলায় পাঁচটি কূপ খনন করছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৯০৭ কোটি টাকা বা সাত কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। প্রতিটি কূপ খননে ব্যয় পড়ছে প্রায় দেড় কোটি ডলার। এ ছাড়া চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি) প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কয়েকটি গভীর কূপ খননের কাজ করছে। অতীতে গ্যাজপ্রম প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অংশ না নিয়েই ২০টি কূপ খননের কাজ পেয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানি (বাপেক্স), বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কম্পানি (বিজিএফসিএল) এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) আওতাধীন এলাকায় এসব কূপ খনন করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি কূপ খননে গ্যাজপ্রমের গড় ব্যয় ছিল প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্যাজপ্রমের আগের কাজগুলোতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না হওয়ায় খরচ তুলনা করা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাইয়ের সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। নতুন প্রস্তাবগুলোর আর্থিক বিষয়ও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গ্যাজপ্রমের প্রস্তাবিত দর প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া সম্ভাব্য দরের তুলনায় অনেক বেশি।
এ বিষয়ে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই একের পর এক প্রকল্প পেতে গ্যাজপ্রমের যে তৎপরতা, এর পেছনে কারা কলকাঠি নেড়েছেন তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে তৎকালীন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও তাঁদের তৎপরতা তদন্তের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রদূত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে এবং কার স্বার্থে এসব প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা সরকারকে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া প্রকল্প পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্যাজপ্রমের ভূমিকা ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়েও সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।’
এমন সময় গ্যাজপ্রম নতুন প্রকল্প পাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যখন বৈশ্বিক জ্বালানির উচ্চমূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাপে রয়েছে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বাস্তবায়ন ডিসেম্বরে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর করতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষ। গতকাল বুধবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য গঠিত হওয়া নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিকপক্ষ এ দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন বলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক শেষে জানিয়েছেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের অফিসে বুধবার বেলা ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে। জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন মজুরি হাতে পাবেন বলে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি। পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন এ সিদ্ধান্তে একমত প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আক্তার। এ সময় শ্রমিকদের কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এ শ্রমিক নেতা।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। ঢাকার আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ করে আসছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে রবিবার তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উত্পাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে রবিবার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঐদিন ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) করা হয় শেখ আশফাকুর রহমানকে। বাকি সদস্যরা হলেন—মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন।
এদিকে গতকালই মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়েছে। পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে ঢাকার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
নয়া দিগন্ত
পাহাড় ‘ভাঙার’ গভীর ষড়যন্ত্র—এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, ফল বিক্রেতা ভানু চাকমা স্ত্রীকে নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে ছিলেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ভার্মা স্কোয়ার মার্কেটের সামনে। গত শুক্রবার কথা হয় পাহাড়ি ও বাঙালিদের সম্পর্ক নিয়ে।
তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ। আমরা পাহাড়ের চাকমা সম্প্রদায়ের হলেও সবার আগে আমাদের পরিচয় বাংলাদেশী। অনেকে আদিবাসী দাবি করে। তবে আমরা কখনই আদিবাসী দাবি করি না। এখানে বাঙালিদের সাথেই আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এক সাথে ওঠাবসা।’
তার কথায় পাহাড়ে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে, তারা পাহাড়কে সবসময় একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাখে। সরজমিনে গত সপ্তাহে খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দাদের কাছ থেকে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র তৎপরতার ভয়ানক খবর জানা যায়।
গত শুক্রবার খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে যাওয়ার পথে রওনা হলে দীঘিনালায় গিয়েই আটকে যেতে হয়। দীঘিনালা বাজারটির এক পাশেই সাজেকের রাস্তা। সেখানে অনেক পর্যটকের ভিড় থাকলেও গত শুক্রবার জেএসএস ও ইউপিডিএফ এই দুই সশস্ত্র সংগঠনের গোলাগুলির কারণে সেদিন অনেক ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল ভানু চাকমার।
একই কথা বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক চাকমা সম্প্রদায়। তিনি বলেন, ‘আমরা পাহাড়ে শান্তি চাই। যারা অস্ত্র নিয়ে পাহাড়ের গহিনে আছে তারা সন্ত্রাসী। চাঁদাবাজি এবং পাহাড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।’
আদিবাসী এবং ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে বসবাস করছি। আমরা বাঙালি এটাই আমার পরিচয়।’
তিনি বলেন, ‘আদিবাসী বিতর্ককে সামনে এনেই পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের জন্য পাহাড়কে অশান্ত করে তুলছে। আমরা সাধারণ পাহাড়িরা তাদের রোষানলে পড়ে বাধ্য হচ্ছি জীবন দিতে।’
এভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার নতুন ছক কষা হচ্ছে বলে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে বিতর্ককে আবার সামনে আনা হচ্ছে। একই সময়ে সীমান্তের ওপারে ভারত ও মিয়ানমারভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাথে স্থানীয় কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠনের যোগাযোগ ও সহায়তার অভিযোগ উঠছে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘রিপাবলিকানদের হারে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ১০% দরপতন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় হারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক পতন ঘটেছে। গতকাল ফিউচার মার্কেটে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান দুই সূচক ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ৮-১০ শতাংশ কমেছে। জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে স্পট মার্কেটেও। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডেটেড ব্রেন্টের দাম ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং দুবাই ক্রুডের দাম ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দাম আরো কমার প্রবণতা দেখা গেছে। নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবেই মূলত জ্বালানি তেলের বাজারে বড় দরপতন ঘটেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরো কমতে পারে, যার প্রভাব শিগগিরই খুচরা জ্বালানির বাজারেও পড়তে পারে। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে তীব্র হলে বাজারের এ নিম্নমুখী প্রবণতা উল্টে যেতে পারে।
জ্বালানি তেলের বাজার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ফিউচার মার্কেটে গতকাল রাতে একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ ডলার বা ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। এর মধ্য দিয়ে ৭ অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৭ দশমিক ৫৬ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে সে কথা বলেছেন।’ ভ্যান্সের মতে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দেয়া অনেক ভোটার ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে এবার রিপাবলিকানদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের মধ্যেই মঙ্গলবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প জানান, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা তার নেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের খবরও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। গত অক্টোবরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় তেলের দামে উল্লম্ফন দেখা দেয়।
ইরান যুদ্ধের কারণে গত আট মাস বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। গত শুক্রবারও একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৮ ডলারে উঠেছিল। তবে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে বাজারে বড় ধরনের সংশোধন ঘটেছে। এর পরও বছরের শুরুর তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। উচ্চ জ্বালানিমূল্যের প্রভাব পড়েছে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের দামে। বিশেষ করে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো তীব্র করেছে।
ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর জ্বালানির দাম কমার বিষয়ে আশাবাদী বিশ্লেষকরা। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক ও গ্যাসবাডির কর্মকর্তা প্যাট্রিক ডি হান এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, তেলের দামে সাম্প্রতিক পতনের প্রভাব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল সকালে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ১২ ডলার, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি।
আজকের পত্রিকা
‘এলপিজি: বিইআরসির দাম এখনো কাগজে, বাড়তি দামেই কিনছেন ক্রেতা’—এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম টানা দুই মাসে দুই দফা বাড়ালেও বাজারে শৃঙ্খলা আসেনি। দাম নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বেঁধে দেওয়া দাম মানছেন না বিভিন্ন পর্যায়ের বিক্রেতারা। গ্রাহককে বাধ্য হয়ে বিক্রেতাদের চাওয়া দামেই এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
বিইআরসি বলেছে, তিনটি কোম্পানির বেশি দামে সিলিন্ডারজাত এলপি গ্যাস বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কয়েক মাস ধরে বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর দেশে সিলিন্ডারজাত এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। বিইআরসির বেঁধে দেওয়া দাম না মেনে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দামে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। সংকটের অজুহাতে একপর্যায়ে ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৭০০ টাকাও নেওয়া হয়।
সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপের পর দাম কিছুটা কমানো হলেও তা বিইআরসির বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে অনেক বেশি। আমদানির পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী থাকলেও দাম বাড়ানোর জন্য অজুহাত দেখানো হয় সরবরাহসংকটের। কিন্তু এলপি গ্যাস আমদানিকারক ও সিলিন্ডারজাতকারী কোম্পানিগুলো সরবরাহ ঠিক থাকার কথা জানিয়ে মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করে ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের। রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহার করে প্রায় এক কোটি মানুষ।
এদিকে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি দরে সিলিন্ডারজাত এলপি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে গত অক্টোবর ও নভেম্বরে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ায় বিইআরসি। তিন স্তরের ব্যবসায়ীদের কমিশনও বাড়ানো হয়। তবু এলপি গ্যাসের বাজারে শৃঙ্খলা নেই। আগের মতোই ১২ কেজির সিলিন্ডার খুচরায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ চলতি নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সরকারনির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্য ২ হাজার ৬০ টাকা।
রাজধানীর খুচরা বিক্রেতা, এলপিজির গ্রাহক ও পরিবেশকদের সঙ্গে গতকাল বুধবার কথা বলে জানা যায়, বাজারে এখনো এলপি গ্যাসের সরবরাহসংকট রয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো কম সরবরাহ করছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে অনেক কোম্পানির এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না।
এলপি গ্যাসের কথিত এই সংকট গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়। তখন ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সর্বোচ্চ দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাজারে বিক্রি হয় ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। পরে অক্টোবরে বিইআরসি ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় নির্ধারণ করলেও বিক্রি হয় আগের দামেই। কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকায়ও বিক্রির খবর আসে। পরে নভেম্বরে ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম আরও ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেই দাম মানছেন না ব্যবসায়ীরা।
বনশ্রীতে রাঁধুনী রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক আজিজুল ইসলাম গতকাল বলেন, ‘সরকার যে দাম নির্ধারণ করে, সেটা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। আমরা আগের মতোই ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনছি। দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। আমাদের বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে।’
বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ মনির বলেন, এলপিজির বিভিন্ন স্তরে এখনো সরবরাহসংকট রয়ে গেছে। আগে ডিলার দোকানে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার দিয়ে যেত। এখন ডিলারদের পেছনে ঘুরেও সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। সরকার খুচরা পর্যায়ে যে দাম নির্ধারণ করেছে, সেই দামে তাঁরাই কয়েকটি কোম্পানির গ্যাস পান। কিন্তু তিনটি কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। ফলে ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় তাঁদের বিক্রি করতে হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘বিএমইউর শতকোটির দুর্নীতির অনুসন্ধান কোন ইশারায় থমকে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে শতকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৪ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এ অনুসন্ধান কয়েক মাসের মধ্যেই গতি হারায়। এরপর দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই অনুসন্ধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। গোপালগঞ্জের প্রভাবশালী এই চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যত লালফিতায় বন্দি হয়ে আছে। কবে নাগাদ অনুসন্ধান শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না খোদ অনুসন্ধান কর্মকর্তা।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। একই বছর তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। লিখিত অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শারফুদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী অধ্যাপক নাফিজা আহমেদ এবং তাদের সন্তান তাজবীর আহমেদ, তানবীর আহমেদ ও তাহমিদ আহমেদ সাদাতের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা। এরপর থেকেই অনুসন্ধানের গতি কমে যায় বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা যায়। বর্তমানে দুদকের উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন।
অনুসন্ধানের অগ্রগতি সম্পর্কে মো. রাশেদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অন্যান্য অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এ অভিযোগের অনুসন্ধান শেষ করতে একটু দেরি হচ্ছে।’
দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অনুগত বিভিন্ন বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তুলেন। সেই চক্র তিন বছরে ২ হাজারের বেশি জনবল নিয়োগ দিয়েছে। ভিসির নেতৃত্বাধীন চক্র এতটাই প্রভাবশালী যে, কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ছিল না। কিন্তু তার মেয়াদের শেষ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভিসিকে আটকে রাখে এবং তার সিন্ডিকেটের কয়েকজনকে বেদম মারধর করে।
অভিযোগে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের সময়ে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে পদমর্যাদা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণে ও পদোন্নতির সময় জনপ্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। শুধু জনবল নিয়োগ, পদোন্নতি ও চাকরি স্থায়ীকরণের মাধ্যমে শতকোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন ভিসি শারফুদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি গ্রহণ এবং মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগও আছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোটেল-ক্যান্টিন ভাড়ার নামে লাখ-লাখ টাকা লোপাট, ক্লাস না নিয়ে ক্লাসপ্রতি ২ হাজার টাকা নেওয়া, বিদেশি সংস্থার টাকায় বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশ ভ্রমণের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ লোপাটের অভিযোগও রয়েছে শারফুদ্দিনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ডা. শারফুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন দুর্নীতি করেছেন। টাকা ছাড়া কোনো নিয়োগ হয়নি। তিনি নিজের দুই ছেলে, ছেলের স্ত্রী, বোন, ভাগনিসহ বহু আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দিয়েছেন। তার ভাগ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডার ছাড়া কাজ করছেন। এমনকি ভিসির প্রভাব খাটিয়ে তার পিএস ডা. রাসেলও ঘুষ নিয়েছেন। ঘুষ নিয়ে চাকরি না দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। আবার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ডা. রাসেলকে নিজ দপ্তরে মারধরও করেছের কয়েকজন ডাক্তার।
৩৭৪ জনের স্থায়ীর আদেশ বাতিল করে সাড়ে ৫০০ জন নিয়োগ : অভিযোগে বলা হয়েছে, অধ্যাপক ডা. কনক কান্তির বড়ুয়া তার ভিসির দায়িত্ব পালনের শেষ দিকে ২০২১ সালের ২২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ৬৪ জন ও চতুর্থ শ্রেণির ৩১০ জনসহ মোট ৩৭৪ জন অস্থায়ী কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের আদেশ জারি করেন। এ আদেশ জারির কয়েক দিন পর ২৯ মার্চ বিএসএমএমইউর ভিসি পদে নিয়োগ পান ডা. শারফুদ্দিন। তিনি কর্মস্থলে যোগদানের পরই আগের ভিসির ৩৭৪ জন কর্মচারীর স্থায়ীকরণ আদেশ বাতিল করেন। পরে তাদের আবার পরীক্ষা নেওয়ার নামে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নিয়ে স্থায়ী নিয়োগপত্র দেন। তখন প্রায় সাড়ে ৫০০ জনকে স্থায়ীকরণ করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
ছেলে ও ছেলের স্ত্রীসহ ১০ জনের চাকরি : অভিযোগে বলা হয়, ডা. শারফুদ্দিন ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তার ছেলে ডা. তানভীর আহমেদকে হেড নেক বিভাগের মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি দেন। তিনি তার ছেলের স্ত্রী ডা. ফারহানা খানম ফারহাকে মেডিকেল অফিসার, ভাগ্নে এসএম বাহালু পিয়াসকে তৃতীয় শ্রেণির, ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী শারমিন আক্তারকে দ্বিতীয় শ্রেণির, ভাগ্নে লিয়াকত হোসেন ফকির, শ্যালিকার পুত্র এবং পিএস ভাতিজাকে চাকরি দেন। এ ছাড়া ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ডা. হাসনাত সাইদুল ইসলাম ও ডা. নওরীন আনোয়াকে মেডিকেল অফিসার পদে চাকরি দেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ডা. সুমাইয়া ফাজরিন এবং ২ অক্টোবর ডা. সানজানা কামালকে মেডিকেল অফিসার পদে চাকরি দেন। এরপর ২০২২ সালের ২৩ মার্চ তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়।
২০০ নার্স নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৬৭০ জন নিয়োগ : অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে তিনজন প্রো-ভিসির মাধ্যমে তিনটি পৃথক নিয়োগ কমিটি করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তিনটি ভাইভা বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু কমিটির কাছ থেকে ভাইভার রেজাল্ট না নিয়ে ভিসি তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে তালিকা করে ২০০ জনের স্থলে ৬৭০ জন নিয়োগ দেন। প্রতিজনের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবগত আছেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন, নাশকতা ও ষড়যন্ত্রে তীব্র অস্থিরতার মুখে পড়েছে তৈরি পোশাক খাত। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম এবং ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের এ খাতটি ঘিরে অনিশ্চয়তায় ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। যদিও শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করে দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পোশাক খাতে অস্থিরতার কারণে আসন্ন ক্রিসমাস ও শীত ঘিরে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় বিক্রয় মৌসুমে পিছিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ। হারাতে পারে নির্ভরযোগ্যতার ভাবমূর্তি। পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতঃপূর্বে সম্ভাবনাময় চামড়া ও চা-শিল্প ধ্বংস হয়েছে ষড়যন্ত্রের কারণে। তাই পোশাক খাতসহ অর্থনীতিকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো থেকে বিরত রাখতে হবে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পাঁচ দিন ধরে ঢাকার মিরপুর, আশুলিয়া; গাজীপুরের কালিয়াকৈর; নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিক্ষোভ করে আসছেন পোশাকশ্রমিকরা। চলছে হামলা-ভাঙচুর।
বিজিএমইএর তথ্য বলছে, ১ নভেম্বর শ্রম অসন্তোষে বন্ধ ছিল ২৫৮টি কারখানা। ওই দিন কাজ না করে ফিরে আসেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। ২ নভেম্বর বন্ধ কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭৯টিতে। পরদিন তা কমে আসে ৩০৬টিতে। বর্তমানে কাজে না আসা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। পোশাক ব্যবসায়ীদের হিসাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎপাদন ব্যাহত হলে এবং সঠিক সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে বৈশ্বিক ক্রেতারা তাঁদের ক্রয়াদেশ ভারত, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোয় স্থানান্তর করবেন। এ অস্থিরতা চলতে থাকলে তা পোশাক খাতের পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ও পরিবহনের মতো সম্পর্কিত অন্যান্য ব্যবসাবাণিজ্যকেও ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আগে পাট, চামড়া বা চা খাতের নানাবিধ পতনের পর তৈরি পোশাকশিল্পের কোনো শক্তিশালী বিকল্প খাত এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধস নামার পাশাপাশি লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক দোষারোপ ও ক্ষতিকারক উসকানি থেকে শিল্পকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দেশের তৈরি পোশাকশিল্প অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এর পাশাপাশি ব্যাংক, পরিবহনসহ অর্থনীতির অন্যান্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতও প্রত্যক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ফলে তৈরি পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং বিপুল কর্মসংস্থানের ওপর পড়াটাই স্বাভাবিক; যা আমাদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার বিষয়।’
ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘কেবল দরকষাকষি বা দামাদামির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় মজুরি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান ও মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি কারখানার ব্যবসায়িক পরিস্থিতি-এ সবকিছু বিবেচনা করেই মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’
