দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিটের বিষয়ে আদেশ ১১ই নভেম্বর

ফন্ট সাইজ:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিং ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চ্যালেঞ্জ করে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়ের করা রিটের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১১ই নভেম্বর আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এদিন ধার্য করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. ইউসুফ আলী ও এডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা।
এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদের আইনজীবী ইউসুফ আলী মানবজমিনকে বলেন, দুদকে কোনো অভিযোগ জমা পড়লে তা অনুসন্ধান শেষে সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা হবে, এরপর প্রেস ব্রিফিং বা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনগণকে জানানো যাবে। কিন্তু যে ঘটনার অনুসন্ধানই শেষ হয়নি, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তদন্ত করছেÑ সে বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে তথ্য প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। দুদকের ২০১১ সালের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা’ অনুযায়ী এমন কোনো সুযোগ নেই। অনুসন্ধান পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ায় একজন নাগরিকের সুনামের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে মর্মে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এটি সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা নাগরিকের সুনাম সংরক্ষণের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, দুদকের এই প্রেস ব্রিফিংকে অবৈধ ঘোষণার জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দুদক যেন আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করে জানায়Ñ আসিফ মাহমুদের বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যেন দুদক কোনো নাগরিকের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের প্রেস ব্রিফিং না করে, সে বিষয়েও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে বক্তব্য দেয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৭শে সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করা হয় (রিট পিটিশন নং ১৩৮৮৫/২০২৬)। একই সঙ্গে তদন্ত বা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন দায়ের করা এই রিটে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়। রিট আবেদনে গত ২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণার আর্জি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিচারাধীন কোনো বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং থেকে বিরত থাকা এবং ইতিমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়।