যৌন হয়রানি

সাবেক নারী টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল আজীবন নিষিদ্ধ

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারার করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমকে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান বিসিবি’র আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মাহিন বলেন, জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। তাই ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। তবে, মঞ্জুরুল আলম ক্রিকেট দলে অন্য কোনো নারী সদস্যকেও যৌন হয়রানি করতো নাকি শুধু জাহানারাকে করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু অভিযোগটি শুধু জাহানারাকে নিয়েই এসেছে তাই তদন্ত কমিটি অন্য নারীদেরও যৌন হয়রানি করার বিষয়ে কোনো তথ্য উদ্ঘাটন করেনি। তিনি বলেন, মঞ্জুরুল আলম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে দু’টি রিট আবেদন করেছিলেনÑ গত ২১শে মে এবং গত ১৯শে জুলাই রিট দু’টি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃৃত্বাধীন পৃথক বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ব্রিফিংকালে মাহিন আরও বলেন, জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর বিসিবি’র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি উভয়পক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিসিবি দেখতে পায়, জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ও নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের মধ্যে দু’টি কাউন্টে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে জাহানারা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছিলেন, তদন্ত কমিটি সেগুলোর কোনো সত্যতা পায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বিসিবি’র বোর্ড অব ডিরেক্টরস মঞ্জুরুল আলমকে আজীবন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে তিনি বিসিবি সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে আর সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও তা কেন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নিÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি’র আইনজীবী জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিসিবি ‘প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ পলিসি বাস্তবায়ন করেছে। পশ গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত তদন্তের কোনো উপাদান বা প্রতিবেদন গণমাধ্যমে কিংবা পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ করা যাবে না।