কোনো সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না

বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর হুঁশিয়ারি ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কোনো সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না

ফন্ট সাইজ:

ফ্রান্সে জাতীয় বিক্ষোভ ও ধর্মঘট ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ।

সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে আটক করা হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লরাঁ নুনিয়েজ বলেন, ‘৫ নভেম্বরের কর্মসূচিতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নিশ্চিত করা এবং অনুমোদিত মিছিলগুলো নির্বিঘ্নে শেষ করতে দেওয়া। তবে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’ তার ভাষায়, ‘কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না, আটক করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ২২০টিরও বেশি বিক্ষোভ ও জনসমাগমের কর্মসূচি রয়েছে। বেতন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও শ্রমিকদের অধিকারসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো এ জাতীয় ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অবসরপ্রাপ্তদেরও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তিন ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে মুখোশধারী ‘ব্ল্যাক ব্লক’ গোষ্ঠীর উপস্থিতি, অনুমোদনহীন মিছিল এবং দোকানপাট ও সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কা। কর্তৃপক্ষের ধারণা, কিছু সহিংস গোষ্ঠী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশেষায়িত পুলিশ ও জেন্ডারম ইউনিটের পাশাপাশি রেইড, জিআইএন এবং বিএরআই সদস্যদেরও রাখা হয়েছে। জেন্ডারমের ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, রেলপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে আগাম তল্লাশি জোরদার করা হবে। সম্ভাব্য সহিংসতায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন বস্তু বহনকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও এ তল্লাশির উদ্দেশ্য।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভে যে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, ৫ নভেম্বরেও প্রায় একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। দেশজুড়ে মোতায়েন করা হবে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা ইউনিটগুলোকে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের প্রস্তাবিত বাস্তিল থেকে কনকর্ড পর্যন্ত মিছিলের পথ অনুমোদন করেনি পুলিশ প্রিফেকচার। নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এর পরিবর্তে রিপাবলিক চত্বর থেকে নেশন চত্বর পর্যন্ত বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ শহরে বিক্ষোভের পথ নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে ২৯১টি বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সেদিন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে প্যারিসে ছিলেন ৭০ হাজার। ওই দিনের বিক্ষোভ এবং পরবর্তী হ্যালোইন রাত মিলিয়ে দেশজুড়ে মোট ৭৭৯ জনকে আটক করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, রাত ৯টা পর্যন্ত আটক হন ৫৬৫ জন। পরবর্তী সময়ে হ্যালোইন রাতের ঘটনায় আরও ২১৪ জন আটক হন। একই দিন বিক্ষোভ ও পরবর্তী রাতের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে সরকার।

তবে সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে একদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবির পক্ষে বড় জমায়েত, অন্যদিকে সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশের কঠোর প্রস্তুতি, দুই দিকেই নজর থাকবে দেশটির প্রশাসনের।