চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পাঁচ কন্টেইনার পচনশীল পণ্য নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এসব কন্টেইনারে রয়েছে প্রায় ১২৬ টন তাজা আপেল ও আদা। পণ্যগুলোর সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কাস্টমসের নিলাম বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাঁচটি ৪০ ফুট কন্টেইনারে থাকা এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি আপেল এবং ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি আদা। সব মিলিয়ে পণ্যের পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৪০ কেজি।
গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে ই-নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪ঠা নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ৯ই নভেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র জমা দেয়া যাবে। নিলাম বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, দু’টি ৪০ ফুট কন্টেইনারে রয়েছে ২৩ হাজার ৭২০ কেজি করে মোট ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি আপেল। প্রতি চালানের সংরক্ষিত মূল্য ৪৬ লাখ ৪১ হাজার ৬১৯ টাকা ২১ পয়সা। দুই চালান মিলিয়ে আপেলের সংরক্ষিত মূল্য ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ টাকা ৪২ পয়সা। অন্যদিকে, তিনটি কন্টেইনারে রয়েছে ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি আদা। এর মধ্যে একটি কন্টেইনারে ২৪ হাজার ৩০০ কেজি এবং অপর দু’টি কন্টেইনারে ২৭ হাজার কেজি করে আদা রয়েছে। এসব আদার সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬১ টাকা ৫৫ পয়সা। সব মিলিয়ে পাঁচটি চালানের সংরক্ষিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৯ টাকা ৯৭ পয়সা।
নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ক্রেতারা আগামী ৫ই নভেম্বর অফিস চলাকালীন সরজমিন পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পণ্যগুলো যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থাতেই বিক্রি করা হবে। তাই দরপত্র জমা দেয়ার আগে পণ্যের পরিমাণ, গুণগত মান ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নিলামে অংশগ্রহণের জন্য সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ জামানত হিসেবে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে কমিশনার, কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম বরাবর পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট অথবা ডিমান্ড ড্রাফট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে। আগামী ৯ই নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখায় দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে। সর্বোচ্চ দর অনুমোদিত হলে ক্রেতাকে ডাকমূল্যের ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত নিয়মে পণ্য খালাস নিতে হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার ও নিলামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, পচনশীল পণ্য দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকলে গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি বন্দরের মূল্যবান জায়গাও আটকে থাকে। এসব পণ্য দ্রুত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা গেলে পণ্যজট কমার পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হবে। আগ্রহী ক্রেতারা সরজমিন পণ্য দেখে নির্ধারিত নিয়মে নিলামে অংশ নিতে পারবেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা প্রায় ২ কোটি টাকার আপেল-আদা বিক্রি হবে নিলামে
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
