ছাতকে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়ন ও জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বড় সেতুর উভয়পাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে চরমহল্লা ইউনিয়নের নানকার এলাকার আহমদ কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে পাইগাঁও ও জালালীরচর গ্রামের ছেলেদের মধ্যে একটি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মনোমালিন্য ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় গ্রামের লোকজন সংঘর্ষের উদ্দেশ্যে জড়ো হলে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে দুই গ্রামের লোকজন পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন ইট-পাটকেল, বাঁশের লাঠি ও তীর-ধনুক নিক্ষেপ করতে থাকেন। খবর পেয়ে ছাতক থানা ও জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মঞ্জুরুল হক ইটের আঘাতে আহত হন। সংঘর্ষে আলকাছ মিয়া (৫০), সানোয়ার (২৫), নাদের মিয়া (২৭), বকুল মিয়া (২৬), মানিক (২৫), মাহমুদ আলী (৩০), মাসুম (১৭), জামিউল হক (৩৩)সহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা ছাতক সদর হাসপাতাল ও কৈতক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ছাতক জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
