প্রথম আলো
প্রচারে নতুনত্বের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল তারেক রহমানের-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারে রাজনীতিবিদেরা নানা কৌশল নেন। কখনো তা সফল হয়, কখনো হয় না। এবারের নির্বাচনে দুই বড় দলের দুই প্রধানের প্রচারকৌশল পর্যালোচনা করেছেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি সেলিম জাহিদ ।
নেতা বাণী দেবেন আর সমর্থকেরা দেবেন হাততালি ও স্লোগান। এই চিরচেনা রেওয়াজের বদলে নির্বাচনী জনসভায় মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের চমক এনেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রচারণায় যুক্ত করেছেন মেয়ে আর স্ত্রীকে। ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হয়ে শুনিয়েছেন শান্তির বাণী।
‘আমি তোমাদেরই লোক’—ভোটারদের কাছে, বিশেষত তরুণদের কাছে, এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই যেন ছিল তাঁর প্রচারকৌশলের মূলকথা। এভাবেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে বয়ানও দাঁড় করিয়েছেন।
তারেক কখনো দর্শকসারি থেকে সাধারণ মানুষকে ডেকে মঞ্চে এনেছেন, কখনো মঞ্চ থেকে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এলাকার সমস্যার কথা শুনেছেন, সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রশ্ন করেছেন, উত্তর দিয়েছেন।
১০ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারের নির্ধারিত সময়কালে তারেক রহমান দেশজুড়ে অন্তত ৬৪টি জনসভা করেছেন, সপরিবার প্রচার চালিয়েছেন। এগুলোতে তাঁর প্রচারের কৌশলটি স্পষ্ট। প্রচারের জন্য সাজানো বাসে তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কয়েকটি জায়গায় যান হেলিকপ্টারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হয় ২২ জানুয়ারি। ওই দিন সিলেট শহরে জনসভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রচারকাজের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। সেখানেই তিনি প্রথম এক ব্যক্তিকে দর্শকসারি থেকে মঞ্চে কথা বলতে ডেকে নেন। বিষয়টি উপস্থিত জনতার মধ্যে সাড়া ফেলে।
সিলেটে তারেক রহমান বলেন, এবার তিনি জনসভায় উপস্থিত মানুষকে একটি প্রশ্ন করতে চান। এরপর তিনি এমন এক ব্যক্তির খোঁজ করেন, যিনি পবিত্র হজ অথবা ওমরাহ পালন করেছেন। অনেকেই হাত তোলেন। তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে মঞ্চে ডেকে নেন। জানতে চান, তাঁর বাড়ি কোথায়। উত্তর আসে, সুনামগঞ্জ। তখন তারেক রহমান জনসভার মানুষদের কাছে জানতে চান, সেখানে সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা আছেন কি না। শত শত মানুষ হাত তোলেন।
এরপর মঞ্চে ডেকে নেওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের যুবক এ টি এম হেলালের সঙ্গে তারেক রহমানের কথোপকথন শুরু হয়। দুজনই মাইকে কথা বলছিলেন। তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, বেহেশত-দোজখের মালিক কে? হেলাল উত্তর দেন, ‘আল্লাহ।’ তখন তারেক রহমান জনসভায় উপস্থিত মানুষের কাছে প্রশ্ন করেন, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? সমস্বরে উত্তর আসে, ‘না।’
যোগাযোগবিদেরা বলছেন, একজন পরহেজগার ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে কথোপকথনের মাধ্যমে তারেক উপস্থিত জনতাকে সংলাপে যুক্ত করেছেন এবং ভোটের প্রচারে ধর্মকে টেনে আনার বিরুদ্ধে একটি জবাব দিয়েছেন।
পরে অন্য এলাকায় জনসভা এবং তরুণদের সঙ্গে আলাপে তারেক রহমান এই কৌশল ব্যবহার করেছেন। বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নতুন ও চমকপ্রদ একটি কৌশল। এটা প্রচলিত ‘একতরফা বক্তৃতা’ থেকে জনসভাকে কিছুটা আলাপচারিতার আদল দিয়েছে। ভোটারদের কাছে এই বার্তা গেছে, দলের প্রধান নেতা কেবল একাই কথা বলছেন না। তিনি সবার কথা শুনছেনও।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রচারের একটি বড় লক্ষ্য হলো তরুণ ও নতুন ভোটাররা, যাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করতে বেশি অভ্যস্ত। একতরফা টানা বক্তৃতার একঘেয়েমির বদলে জনসভায় সরাসরি সংলাপ এই ভোটারদের টানবে বেশি।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের মতে, জনসভায় জনগণের মধ্য থেকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে কথা বলার এই মিথস্ক্রিয়া নতুন রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্য দিয়ে নেতা এবং জনগণের মধ্যে সমস্যা এবং সমাধানের সরাসরি অঙ্গীকার নিশ্চিত হয়। রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, যে নেতা সরাসরি সমস্যার কথা শোনেন বা শোনার আগ্রহ দেখান, তাঁর দ্বারাই এর সমাধানের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মানুষ মনে করে।
এএফপিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি নিয়ে প্রথম আলোর আরেক খবরে বলা হয়, দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে।
জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের জন্য সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করা দরকার, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে।’
তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এএফপি। তাতে বলা হয়, ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসন উৎখাত হওয়ার পর যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে ঘিরে ধরেছে, তার অবসানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার।
তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নির্বাচিত হলে তাদের কাজের তালিকার সবার উপরে থাকবে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবিলা করা। আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের নামে আমরা কী দেখেছি, মেগা দুর্নীতি হয়েছে। অল্প কিছু ব্যক্তি ধনী হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি মানুষেরা, পুরো জনগোষ্ঠী কিছুই পায়নি।’
এই সংকট মোকাবিলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেবেন বলে জানান তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বিপুল সংখ্যায় বেকার রয়েছে। এই তরুণেরা যাতে চাকরি পায় সেজন্য ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়াতে হবে।
দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে বাবা-মা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়ে ভালো কাজ করতে চান বলে উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।’
এএফপিকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সতর্ক করে দেন যে, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের ভবিষ্যৎ খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে।
পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অবহেলার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস করা হয়েছে।’
বিভিন্ন জরিপে তারেক রহমানের বিএনপি নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে আছে। তবে দলটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ে এএফপিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে বিএনপির বিপুল ব্যাবধানে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করি, জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব—একটি বড় ম্যান্ডেট।’
বর্তমান দলীয় জোটের বাইরে নতুন কোনো জোট করার প্রয়োজন দেখছেন না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নিজেদের সরকার গঠনের জন্য আমরা পর্যাপ্ত আসন পাব।’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে তারেক রাহমান বৈদেশিক সম্পর্ক নিয়ে সাবধানী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের স্বার্থ এবং আমার দেশের স্বার্থই সবার আগে।’ শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। গত বছরের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এক সময় বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রশংসিত হলেও শেখ হাসিনার সরকার ভিন্নমত দমন এবং বিশেষ করে বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ব্যাপক চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত।
এ বিষয়ে তারেক রাহমান বলেন, ‘আমরা মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হতে দেখেছি। অল্প কিছু মানুষকে অনেক ধনী করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি অংশ, পুরো জনগোষ্ঠী নিঃস্ব হয়ে গেছে।’
তবে তারেক রাহমান আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধী বলে জানান। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কেউ যদি কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে হবে।’
দর্শক–শ্রোতাদের সঙ্গে রাখা
বৈশ্বিক পর্যায়ে এ ধরনের কৌশলের নজির আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানির প্রচারের বড় অংশই ছিল ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ’। অর্থাৎ মামদানি শুধু একতরফা বলতেন না, শুনতেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ‘টাউন হল মিটিং’-এর মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরে অংশ নিতেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও বিভিন্ন সময় জনতার সঙ্গে খোলা সংলাপে অংশ নিয়েছেন।
রাজনীতিতে এ ধরনের প্রচারকৌশলের লক্ষ্য থাকে নেতা ও প্রান্তিক জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমানো। ঢাকার ভাষানটেকে গত ২৩ জানুয়ারির জনসভায় তারেক রহমান মঞ্চের সামনে উপস্থিত শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী, তরুণসহ পাঁচজনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁরা কেউ জীবিকার সংকটের কথা বলেন, কেউ আইনশৃঙ্খলা বা দ্রব্যমূল্যের চাপের কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমান তাঁদের আশ্বাস দেন, প্রশ্ন করেন, পুরো জনসভাকে সেই আলোচনায় ডেকে নেন।
তুলনা করা যায় প্রাণবন্ত কনসার্টের সঙ্গে। সেখানে মঞ্চের সংগীতশিল্পীরা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন আর শোনেন, প্রশ্ন নেন, উত্তর দেন। তারকাদের জন্য বিশ্বব্যাপী এটি একটি জনপ্রিয় কৌশল। যোগাযোগের ভাষায় একে বলা হয় ‘অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট’; অর্থাৎ দর্শক–শ্রোতাদের যুক্ত করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা বলছেন, পুরোনো দিনেও ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যাম্পেইন’ ছিল। জনসংযোগের মূল ভিত্তি ছিল মানুষের কাছে যাওয়া, তাঁদের কথা শোনা। এমনকি স্থানীয় নির্বাচনে মানুষের মতামত নিয়ে এলাকার এজেন্ডা তৈরি করা।
তবে শামীম রেজা বলছেন, আজকের দিনে নতুন মাত্রা এনেছে হাতের নাগালে থাকা অসংখ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। একই সঙ্গে আছে বিপুলসংখ্যক তরুণ এবং নতুন ভোটার, যাঁরা রেডিও-টেলিভিশন-সংবাদপত্রের মতো পুরোনো মাধ্যমের চেয়ে নতুন মাধ্যমগুলোতে অভ্যস্ত। এই যোগাযোগবিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ধারণা, এ দুটি বিষয় উনি সমানভাবে দেখার চেষ্টা করছেন।’ অর্থাৎ তারেক রহমান একটা সামগ্রিক প্রচার চালাতে চেয়েছেন।
৫৭ বছর বয়সী তারেক রহমান আগেও এভাবে সভা-সমাবেশ করতেন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে তিনি দলটির যুগ্ম মহাসচিব হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি, ছাত্রদলের প্রতিনিধিদের সভায় তিনি এই চর্চা করেছেন। গত মাসে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান হন। এর পাঁচ দিন আগে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরেন তিনি। তারেক রহমান এই প্রথম কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৭ (গুলশান, বারিধারা, বনানী ও ক্যান্টনমেন্টের একাংশ) এবং বগুড়া–৬ আসনের প্রার্থী।
শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা
তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন থেকেই বলছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফেরানো তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি রাজনীতিতে সহনশীলতার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘যেকোনো মূল্যে উসকানির মুখে শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।’ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যেকোনো ধর্ম, শ্রেণি, দলের মানুষ হই—আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আমরা শান্তিশৃঙ্খলা ধরে রাখব।’
নির্বাচনী জনসভাগুলোর বক্তৃতাতেও তারেক বলেছেন, বিএনপি জয়ী হলে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অন্যদিকে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীর অনেক দোষত্রুটি তুলে ধরা যায়; কিন্তু তাতে জনগণের কোনো উপকার হবে না। শুধু সমালোচনা করার জন্য সমালোচনা করলে দেশের মানুষের পেট ভরবে না।
তবে তারেক রহমান তাঁর একাধিক কর্মসূচিতে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা এবং ভোটের রাজনীতিতে ধর্মকেন্দ্রিক বয়ানের সমালোচনা করেছেন।
প্রচারকালে তারেক রহমানের কিছু সমালোচনাও হয়েছে। যেমন জনসভায় দু–একটি ভুল তথ্য দেওয়া। কুমিল্লায় গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে কুমিল্লায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) করবেন। যদিও কুমিল্লায় ২০০০ সালেই ইপিজেড হয়।
‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে উপস্থাপন
মানুষকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি এবার তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী জনসভায় স্ত্রী চিকিৎসক জুবাইদা রহমানকেও পাশে রেখেছেন। সিলেটের প্রথম জনসভার পর রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বগুড়ায় জনসভায় দেখা গেছে জুবাইদা রহমানকে। তবে তিনি বক্তব্য দেননি।
জুবাইদা রহমান এবং তারেক–জুবাইদার মেয়ে জাইমা রহমান দেশে আসার পর নারীদের সঙ্গে আলাপ, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার বিতরণ, চা–চক্র, বস্তি পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের রিকশায় করে নির্বাচনী প্রচার চালাতেও দেখা গেছে। যেমন গত রোববার রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে লেডিজ অব গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচ ও নিকেতনের উদ্যোগে আয়োজিত নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাবিষয়ক আলোচনা ও চা–চক্রে ছিলেন জুবাইদা রহমান। অন্যদিকে একটি রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলাপে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান।
নির্বাচনে বিএনপির প্রতিপক্ষ জামায়াতের কোনো কোনো নেতার নারীকেন্দ্রিক বক্তব্যে সমালোচনা তৈরি করছে। বিপরীতে নির্বাচনী প্রচারে তারেক রহমান স্ত্রী ও সন্তানকে পাশে রেখে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরিবারকে নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সচরাচর পশ্চিমা বিশ্বে দেখা যায়। নির্বাচনী প্রচারে এ কৌশল নিয়ে প্রার্থী ভোটারদের কাছে নিজেকে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ফ্যামিলি ম্যান অর্থাৎ একজন দায়িত্বশীল স্বামী, স্নেহময় পিতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। যোগাযোগবিদেরা বলছেন, রাজনীতিতে এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় কৌশল—কঠোর বা গম্ভীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নিজেকে একজন সাধারণ এবং নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে তুলে ধরা।
প্রচারের শেষের দিকে গত সোমবার বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তারেক রহমান অতীতের ভুলত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। সে জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করেন।
এবারের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের কাছে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা পৌঁছানোর জন্য তারেক রহমানের প্রচারকৌশলগুলো কতটা ফল দিল, তা বলবে ১২ ফেব্রুয়ারির গণরায়।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কাল’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায়। এখন চলছে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি। কারণ বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কাল। তাই নির্বাচন কমিশন (ইসি), রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা তাদের শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ সক্রিয় দলগুলো তাদের মাঠের কৌশল নির্ধারণ করছে। ভোটগ্রহণ সামনে রেখে সারা দেশে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তেমনি রয়েছে সহিংসতার আশঙ্কাও। ভোটের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয় লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য। এর সঙ্গে আছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এসব ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
এছাড়া আজ কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাবে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সামগ্রী। ওইসব নির্বাচন সামগ্রী দিয়েই আগামীকাল বৃহস্পতিবার গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন পর মানুষ মুক্ত পরিবেশে উৎসবের ভোটে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন। ভোট দিতে ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের উদ্দেশে চলে গেছেন। ইসি আশা করছে, এ নির্বাচনে ৬০-৬৫ শতাংশ ভোট পড়বে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ভিন্ন এক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশে এই প্রথম একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ ও গণভোট। দুটি ভোটগ্রহণ একই দিনে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা দলটির শীর্ষ নেতারা এ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে। তাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সারা দেশ থেকে খবর আসছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিরাপত্তার আশ্বাসে দলটির তৃণমূলের একটি অংশ ভোট দিতে যাবে।
বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। ওই তিন নির্বাচনের মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না। ওই তিন নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ একচেটিয়া জয় পায়। অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। দলটি এখন নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এ নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে। নির্বাচনি প্রচারে কিছু ঘটনা ছাড়া দুই পক্ষের মধ্যে খুব বড় ধরনের সংঘর্ষ দেখা যায়নি। তবে ভোটগ্রহণের দিন কিছু কিছু এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কালের কণ্ঠ
‘গণভোট নিয়ে অন্ধকারে বেশির ভাগ ভোটার’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’র ওপর সিল দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচারণাও চালানো হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ভোটার গণভোটের বিষয়ে রয়েছে অন্ধকারে। এমনকি জুলাই সনদে কী কী আছে, তা ৭৭ শতাংশ মানুষ জানে না বলে জরিপে উঠে এসেছে।
সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে নম্বর থাকলেও গণভোটের ব্যালট পেপারে নম্বর না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চলালেও ‘না’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জাতীয় পার্টি ও বামপন্থী দলগুলো। বিএনপি ‘হ্যাঁ’র পক্ষে থাকলেও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, এবারের গণভোটটি মূলত সাংবিধানিক গণভোট।
গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আসা সরকার, যার প্রধান এজেন্ডা হচ্ছে সংস্কার, বিচার দৃশ্যমান করা ও নির্বাচন। সংস্কারের জন্য জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং তারা এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষরও করেছে। সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে হবে। আর গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে ওই সংস্কারগুলোর বাস্তবায়ন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়ী দলের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
জনমত জরিপের ফলাফল : আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলেই বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়িত হবে। তবে জুলাই সনদে কী কী রয়েছে, তা জানে না ৭৭.২ শতাংশ মানুষ। বিপরীতে ৩৭.২ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ সম্পর্কে জানলেও গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) ও ইয়ুথ ফর পলিসির চালানো প্রাক-নির্বাচনী জনধারণা জরিপের ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে আইআইডির প্রধান নির্বাহী পরিচালক সাইদ আহমেদ বলেন, ‘হ্যাঁ’ জিতলে বা ‘না’ জিতলে কী হবে তা জনসাধারণ পরিষ্কারভাবে জানে না।
হ্যাঁ জিতলে কী হবে, সে বিষয়ে জাতীয়ভাবে জানার ঘাটতি আছে ২৯.৬ শতাংশের। একইভাবে ‘না’ জিতলে কী হবে এ বিষয়ে ধারণা নেই ৩৩.৬ শতাংশের। তিনি জানান, এই জরিপে ৯ হাজার ৮৯২ জন ভোটার অংশ নিয়েছে। গত ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি দেশের আট বিভাগে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয়ভাবে মাত্র ৩৭.২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা জুলাই সনদে কী আছে তা জানেন। তবে এই গড় হিসাবের আড়ালে বড় বৈষম্য আছে। নির্দিষ্ট সংস্কার বিষয়েও জনমনে ধারণা দুর্বল। উদাহরণ হিসেবে মৌলিক অধিকার নিয়ে কী পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়েছে, তা জানেন বলেছেন ৪৩.১ শতাংশ উত্তরদাতা। জাতীয়ভাবে এ বিষয়ে ‘জানি না’ বলেছেন ৫৫.৩ শতাংশ উত্তরদাতা, যা বয়স্ক ও কম শিক্ষিত উত্তরদাতাদের মধ্যে আরো বেশি।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বদলে যাওয়া পরিবেশে ভোট উৎসবের আশা’। খবরে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বদলে গেছে রাজনৈতিক মঞ্চ। ১৭ বছর পর পাল্টে যাওয়া পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৯ আসনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা চলবে ভোট গ্রহণ। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে স্থগিত করা হয়েছে ভোট।
রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত জুলাই সনদে জনসমর্থন আদায়ে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছে। দেশে এর আগে একাধিকবার গণভোট হলেও সংসদ নির্বাচনের দিনে একসঙ্গে গণভোট এবারই প্রথম।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে এবারের নির্বাচনে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং পরে ইসির নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। দলীয় সরকারের অধীনে আগের তিন সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল খুবই কম। এ ছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে নানা অনিয়মের ধারাবাহিকতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সাধারণ ভোটাররা ছিলেন কেন্দ্রবিমুখ। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে এমন উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের ভোটেও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে গত সোমবার রাত থেকেই গণপরিবহনগুলোতে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ ভিড় বেড়েছে। সরকার ও ইসির কর্তারা ইতোমধ্যে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন। ভোটের দিন বৃহস্পতিবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ইসি। পাশাপাশি আজ বুধবার নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫০ হাজারের বেশি দেশীয় পর্যবেক্ষকের সঙ্গে ২৩ দেশ ও সাত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তারা সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি, ইসি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।
অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নানা প্রতিশ্রুতি সরকার এবং ইসির পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে নির্বাচনী সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তপশিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে পাঁচজন ও বেসরকারি হিসাবে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের অভিযোগ জমা পড়েছে ইসিতে। যদিও এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক সঙ্গী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারে বিএনপির বিজয় অনেকটাই সুনিশ্চিত বলে শুরুতে মনে করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সংস্থার পক্ষ থেকে জরিপ চালানো হয়েছে। তবে ২০ দিনের টানা নির্বাচনী প্রচার শেষে প্রায় অর্ধেক আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। অর্ধশতাধিক আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিতরাও বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে এসব জরিপে উঠে এসেছে। প্রচার শুরুর আগে-পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ৪৬১টি ঘটনা চিহ্নিত করেছিল ইসি। এর মধ্যে ২৫৯টি ঘটনায় সরাসরি মামলা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলায় জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা।
ইত্তেফাক
‘সংঘাত হলেই কঠোর হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোথাও সংঘাত হলেই কঠোর অবস্থানে যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেনা সদর থেকে। সারা দেশে ৩ হাজারের বেশি মানুষের একটি তালিকা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরা নির্বাচনের কেন্দ্রে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাদের ওপর বিশেষ নজর থাকবে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের। গতকাল মঙ্গলবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনা সদস্যদের টহল দেখা গেছে। ঢাকার আজিমপুর এলাকায় সেনা সদস্যরা বিশেষ মহড়া দিয়েছেন।
নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। এর মধ্যে সারা দেশে ৮ হাজার ৭৪৬টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তিদেরও গ্রেফতারের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এখন যাদের গ্রেফতার করা হবে তাদের নির্বাচনের আগে ছাড়া হবে না।
জানা গেছে, এবার বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন, সেনাবাহিনী ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, চৌকিদার দফাদার ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।
ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কায় এসব এলাকাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সূত্র জানায়, নির্বাচনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় ২৫ হাজার ৫০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিম কার্ড সংযুক্ত থাকবে। কোনো ভোটকেন্দ্রে গোলমাল শুরু হলে এসওএস বা জরুরি বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে এসব ক্যামেরা থেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। সার্বক্ষণিক লাইভ ছবি ও ভিডিও দেখার ব্যবস্থা আছে। বাকি প্রায় ১০ হাজার ক্যামেরা থাকবে অফলাইন। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরে প্রয়োজনে যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে। এই ক্যামেরাগুলোর বিতরণ ও ব্যবহারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি)। তাদের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত হবে কোন কেন্দ্রে কতটি ক্যামেরা যাবে, কোথায় অনলাইন আর কোথায় অফলাইন ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় ঝুঁকি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বলেন, কোথাও কারচুপির খবর পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেব। ভারতীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রচুরসংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তের আট কিলোমিটার এলাকায় সেনাবাহিনী যায় না। তবে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী পাঠানো হবে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে থাকছেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটও। তারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে। রবিবার থেকে আরো যুক্ত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে-পরে সাত দিন থাকবে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেলও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্যও পাবে ইসি। শঙ্কাহীন নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশের জন্য যা যা দরকার, সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই বলেছে যে মাঠের অবস্থা, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক আছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘দেড়দশকের বঞ্চিতরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন কাল’। খবরে বলা হয়, দেড় দশকেরও বেশি সময় পর আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এবারের নির্বাচনের বিশেষত্ব হলো ‘জুলাই চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত একটি সংবিধানিক গণভোটও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। গত দেড় দশকে ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকা মানুষেরা কাল ভোটকেন্দ্রে যাবেন। জুলাই ’২৪ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভোটাধিকারহরণকারী ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ হাজারো শহীদের জীবন ও হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়ার বিনিময়ে এই ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। গত ১১ ডিসেম্বের ঘোষিত তফসিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের মহাসড়কে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে চার কোটি তরুণ ভোটারসহ বঞ্চিতরা প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রবাসী বাংলাদেশীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ জন, যার মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোটারের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে কাল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। সহস্রাধিক ড্রোনের মাধ্যমে এবারের নির্বাচন বিভিন্ন বাহিনী ও ইসির নজরদারিতে থাকছে। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, জেলাতে ব্যালট চলে গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছে যাবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা
এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫০টি রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৭৫৫ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দলীয় ৬৩ জনসহ মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৮৩ জন। আর পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন। এদের মধ্যে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।
ভোটার ও ভোট কেন্দ্রের তথ্য
এবার পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। ভোটগ্রহণের জন্য এবার মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। সাধারণ কেন্দ্র হলো ২১ হাজার ২৭৩টি।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রায় ৮ লাখ
এবার ভোটগ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসার ৬৯ জন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হলো ৫৯৮ জন। প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন। আর পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
বিচারিক ও নির্বাহী হাকিম
ভোটে নির্বাচনী অপরাধের বিচার করার জন্য ৬৫৭জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন, মোট পাঁচ দিন মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া থাকবেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
বণিক বার্তা
‘২৪ হাজার ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সারা দেশে ২৪ হাজার ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৭০টি অত্যন্ত এবং ১৬ হাজার ভোট কেন্দ্র মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন।’ নির্বাচনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের পুলিশ কমান্ড সেন্টারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশপ্রধান এ কথা বলেন।
এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০-৯০ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন। আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই, যাতে এ নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবে দেশবাসী।’
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা ও অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।’
নির্বাচনী সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ‘গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন নিহত এবং ৬০৩ জন আহত হয়েছেন। একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তাই চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে।’
অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে পুলিশপ্রধান জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র নির্বাচনকালীন বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে এক হাজারের বেশি লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি-হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রচারণাকালীন কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।’
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘আমরা আজ এক নতুন বিশ্বে দাঁড়িয়ে আছি। সাইবার জগতে অপরাধ বাড়ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত গড়ে উঠছে। বর্তমান বাস্তবতায় কেবল শারীরিক শক্তি বা প্রথাগত পদ্ধতিতে পুলিশিং করলে হবে না। এখন প্রয়োজন বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত অভিযোজন সক্ষমতা।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ৮৪ আসনে সহিংসতার শঙ্কায় পুলিশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে অন্তত ৮৪টিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এ কারণে এসব আসনে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনে উত্তেজনা ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব আসনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর অবস্থান, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয়তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের জটিলতা এমন অবস্থার কারণ। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব আসনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের ১৮টি আসনে ভোটের লড়াই তীব্র হতে পারে। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫; টাঙ্গাইল-৩, ৪, ৫ ও ৮; গোপালগঞ্জ-২ ও ৩; মাদারীপুর-১ ও ২; কিশোরগঞ্জ-৫; মানিকগঞ্জ-১; মুন্সিগঞ্জ-৩ এবং ফরিদপুর-১।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ঢাকা-১১ আসনে লড়ছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম ও এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
ঢাকা বিভাগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অন্য আসনগুলোতেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতারা, জোটের শরিক দলের প্রার্থী, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। কোথাও কোথাও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।
পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৮টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলা হয়েছে। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৫; কুমিল্লা-২, ৪, ৭ ও ১১; নোয়াখালী-২, ৫ ও ৬; লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩; চট্টগ্রাম-৩, ১০ ও ১১; কক্সবাজার-২ ও ৪; চাঁদপুর-৪ এবং রাঙামাটি। এসব আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী প্রার্থীর পাশাপাশি কোথাও কোথাও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক রাজনৈতিক শক্তির সক্রিয়তা, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অবস্থানের কারণে এসব আসনে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে।
দেশ রূপান্তর
‘সুষ্ঠু ভোটের সর্বাত্মক উদ্যোগ ইসির’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যালট পেপার ছাপানো ও সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী উপকরণ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এক আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর হওয়ায় ২৯৯ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। সুষ্ঠু ভোটের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ঠেকানো এবং একই দিনে দুই ধরনের ভোটের সময়ের ব্যবস্থাপনাও কমিশনের জন্য কঠিন পরীক্ষা বলেন মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছরের মাথায় আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৬০টি, নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি। নিষিদ্ধ থাকায় প্রথমবারের মতো দেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়াই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নিতে ২ হাজার ৫৬৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৮৭ জন। স্বতন্ত্র ৪৮১ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ২৯৯ আসনে ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মনোনয়ন বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৪৫টি আপিল আবেদন করেন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। ৪২৫টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে। সর্বশেষে ২ হাজার ২৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন। দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০ জন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ভোটার দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের অর্ধেক ঝুঁকিপূর্ণ : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টিতে ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র ২১ হাজার ২৭৩টি। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, কেন্দ্রগুলোর প্রতিটির জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আলাদা সেল রয়েছে। কেন্দ্রের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় এসব সেল ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান ও ফোর্স প্রি-পজিশনিং হয়ে থাকে। পরিপত্র অনুযায়ী একটি সাধারণ কেন্দ্রে ন্যূনতম ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকার কথা। তবে সংবেদনশীলতার মাত্রা অনুযায়ী কোনো কোনো কেন্দ্রে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। আবার কোথাও গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সহযোগীদের খবর
প্রচারে নতুনত্বের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল তারেক রহমানের
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
৩ মাস আগে
১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), ২০২৬, ৯ঃ৩৬ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
