রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্রেটদের ঐতিহাসিক জয়

অ্যান্থনি জারচারের বিশ্লেষণ

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্রেটদের ঐতিহাসিক জয়

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের জন্য রাতটি মঙ্গলবার দিবাগত রাতটি ঐতিহাসিক হয়ে উঠছে। দলটি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নেয়ার পথে। সিনেট নির্বাচনে প্রথম বড় চমক দেখিয়েছে ডেমোক্রেটরা। অ্যানি অ্যানড্রুজ পরাজিত করেছেন ডারলিন গ্রাহামকে। ভাই সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ওই আসনে মনোনয়ন পান ডারলিন। কয়েক মাস আগেও খুব কম বিশ্লেষকই এই আসনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন। এক বছর আগেও সিনেটের দুটি আসনকে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জর্জিয়ায় জন ওসফের পুনর্নির্বাচন এবং নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি ডেমোক্রেটদের জন্য সহজ জয়ে পরিণত হয়েছে।
নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক ডেমোক্রেট গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী নেতা মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্রেটদের যে চারটি আসন নিজেদের দখলে আনা প্রয়োজন, তার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম। সাউথ ক্যারোলাইনায় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তারা লক্ষ্যের অর্ধেক পথ পেরিয়েছে।
এখন নজর পড়েছে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা টেক্সাস, কানসাস ও ওহাইওর সিনেট আসনগুলোর ভোট গণনার দিকে। যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টেক্সাস ও কানসাসের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা এগিয়ে রয়েছেন। টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনেও পরিস্থিতি বদলে গেছে। গত বছর পর্যন্ত বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে প্রায় নিশ্চিত বিজয়ী মনে করা হলেও এখন এই লড়াইকে হাড্ডাহাড্ডি বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে ২০২২ সালের পর এই প্রথম প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্রেটরা। গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এর পেছনে বেশ কিছু কারণ পাওয়া যায়।
ফ্লোরিডায় অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় রিপাবলিকানরা ডেমোক্রেটদের দখলে থাকা তিনটি আসনের নির্বাচনী সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয় সহজ করা। কিন্তু তিনটি আসনেই তারা হেরে গেছেন। অঙ্গরাজ্যটির প্রতিনিধি পরিষদের অন্য কয়েকটি আসনেও লড়াই হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এসব আসনে বড় ব্যবধানে জয়ের আশা করেছিল রিপাবলিকানরা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পশ্চিম নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও কেন্টাকিতে আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটরা। ভার্জিনিয়া ও ইন্ডিয়ানাতেও আসন বাড়ানোর অবস্থানে রয়েছে দলটি। শুধু প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয়াই নয়, বরং সেখানে স্বচ্ছন্দ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠার জন্যও এ ধরনের জয় ডেমোক্রেটদের প্রয়োজন ছিল।
দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ডেমোক্রেটদের এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন ফিরে পেয়েছে দলটি। মাত্র দুই বছর আগে ফ্লোরিডায় এই ভোটারদের একটি বড় অংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছিলেন। কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ সাউথ ক্যারোলাইনার বিভিন্ন কাউন্টিতে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী অ্যানড্রুজ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমালা হ্যারিসের পাওয়া ভোটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ভোট পেয়েছেন।
অন্যদিকে, মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে ২০২৪ সালে ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন। এবার সেখানে আবারও এগিয়ে গেছেন ডেমোক্রেট প্রার্থীরা। রক্ষণশীলদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, সামগ্রিকভাবে ফ্লোরিডার রাজনৈতিক ঝোঁক এখনো ডানপন্থিদের দিকেই রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডি অল্প ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছেন কংগ্রেসম্যান বায়রন ডোনাল্ডসও। তবে ফ্লোরিডা সম্ভবত রিপাবলিকানদের জন্য হাতে গোনা কয়েকটি স্বস্তির জায়গার একটি হয়ে উঠতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ভোটারদের মনোভাব ঘুরে গেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশাল দেশ। এর বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও জনমিতিক বৈশিষ্ট্যও আলাদা। পূর্বাঞ্চলে ডেমোক্রেটদের ভালো ফলাফল মানেই যে সারা দেশেও একই ধরনের সাফল্য আসবে, তা নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের প্রাথমিক ফলাফলও পূর্ব উপকূলের প্রবণতার সঙ্গে মিলছে। দিগন্তে ডেমোক্রেটদের পক্ষে একটি নির্বাচনী জোয়ার তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে সেই জোয়ার কতটা আছড়ে পড়ে।