যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আধুনিক সময়ের সবচেয়ে ইসরাইলপন্থি প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনী দিনে এক বিস্ফোরক ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এদিন ইসরাইলকে দেয়া বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪৯ হাজার ৫৯২ কোটি টাকার সহায়তা বন্ধের এক বিস্ময়কর ঘোষণা দেন তিনি। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান।
ইসরাইলের সহায়তা বন্ধের আকস্মিক ঘোষণা
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, ইসরাইল এখন একটি অত্যন্ত সফল দেশ এবং তাদের এই অর্থের প্রয়োজন নেই। তাই চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র তাদের আর কোনো অর্থ দেবে না। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৬ সালে এই সামরিক সহায়তা চুক্তিটি হয়েছিল, যা ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত চলার কথা ছিল। ট্রাম্প মূলত মিশিগানের ডেমোক্রেট সিনেটর আবদুল আল-সায়েদের মতো সমালোচকদের জবাব দিতেই এই কথা বলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আল-সায়েদ অভিযোগ করেন, ইসরাইলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করায় আমেরিকানদের নিত্যপণ্যের জন্য বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যু
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনে ইসরাইলপন্থি দ্বিদলীয় ঐকমত্যে ফাটল ধরার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। গাজায় হামলার কারণে প্রগতিশীলরা ইসরাইলের ওপর ক্ষুব্ধ।
অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও ইসরাইলবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে খুব বেশি সমর্থন দিচ্ছে। বিদেশি রাষ্ট্রকে অর্থ দেয়ার বদলে সেই অর্থ দেশের ঘাটতি মেটাতে ব্যবহারের পক্ষে ট্রাম্পের সমর্থকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন রাজনীতিতে এমন মেরুকরণের কারণে আগামী দিনে ইসরাইলের নিরাপত্তা সহায়তা ও অস্ত্র ক্রয় ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।
