কক্সবাজারের পেকুয়ায় কৃষিজমিতে একাধিক ভারী স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। মাটির স্তর কেটে গভীর পুকুর খনন করা হচ্ছে। এসব মাটি পাশের ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, একাধিক স্কেভেটর দিয়ে কৃষিজমির মাটি কেটে পাশের ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। জমি ভরাট ও পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগও রয়েছে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট সওকত ইসলাম খোকন ও আলমগীরের বিরুদ্ধে। মাটি কাটার বিরুদ্ধে জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জমির হোছাইন নামে এক ব্যক্তি। তিনি পূর্ব সোনাইছড়ি চৌকিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মরহুম আইয়ুব আলীর ওয়ারিশদের একজন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সোনাইছড়ি মৌজার আরএস ২৮৪ নম্বর খতিয়ানের ১৫টি দাগে আনুমানিক ২৮ একর জমি আইয়ুব আলীর পৈতৃক সম্পত্তি। ওই জমিতে ওয়ারিশদের বৈধ স্বত্ব ও ভোগদখল রয়েছে। জমির হোছাইন বলেন, আমাদের দখলীয় পৈতৃক জমি সওকত ইসলাম খোকন গংয়ের নামে ভুয়া বিএস রেকর্ড হওয়ায় তারা অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছে। ভুয়া বিএস রেকর্ডের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে চকরিয়ার সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে স্বত্ব বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং রায়ের পর্যায়ে রয়েছে।
এ অবস্থায় তারা কৌশলে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শওকত ইসলাম খোকনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মাছ চাষের জন্য মাটি কাটছেন এবং ওই মাটি ইটভাটায় দিচ্ছেন বলে জানান। পেকুয়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছৈয়দ আলম বলেন, “ইটভাটা বা আবাসন প্রকল্পের জন্য ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রি করা কৃষির জন্য একটি বড় বিপর্যয় এবং এর ফলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।” এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নিবো।
