ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বজ্রপাতে মৃত্যু বলে প্রচারিত সুমন মোল্লা (২৮) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সাড়ে তিন মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে নবীনগর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে একইদিন দুপুরে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো— ইকবাল হোসেন, রাসেদ মিয়া, সজিত সরকার, হুমায়ুন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার সিতারামপুর গ্রামে। নিহত সুমন উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের হাসান মোল্লা বাড়ির মরহুম হাজী নুর ইসলামের ছোট ছেলে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ই জুলাই শুক্রবার দুপুরে সুমনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সে সময় তার মৃত্যু বজ্রপাতে হয়েছে বলে প্রচার করা হয়। তবে শুরু থেকেই পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। পরিবারের অভিযোগ, সুমনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ কারণে তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ছয়জনকে আসামি করে নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
সম্প্রতি পাওয়া প্রতিবেদনে বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি সমর্থিত হয়নি বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে আসার পর মামলাটি নতুন মোড় নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নবীনগর থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যা মামলার ছয় আসামিকে মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, সুমনের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
