মাঠ প্রস্তুত, দলগুলোও আসতে শুরু করেছে। আগামীকাল ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। অথচ যে টুর্নামেন্ট ঘিরে ঢাকায় ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ার কথা, সেখানে বিরাজ করছে অনেকটাই নিস্তব্ধতা। দর্শক টানার উদ্যোগ নেই, প্রচার-প্রচারণায় ঘাটতি, এমনকি এখনো হয়নি ট্রফি উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই যেন আয়োজনের মাঠে গোল খেয়ে বসে আছেন আয়োজকেরা। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ দর্শক উপস্থিতি নিয়ে। উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের ম্যাচ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্যালারির প্রায় ৭০ শতাংশ টিকিট অবিক্রীত।
টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা টিকিফাইয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রি হয়নি প্রায় ১২ হাজার টিকিট। অথচ ওই দিনই রয়েছে দু’টি আকর্ষণীয় ম্যাচ। বেলা সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। রাত আটটায় স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। একটি টিকিটেই দু’টি ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকলেও দর্শকের সাড়া নেই বললেই চলে। জাতীয় স্টেডিয়ামের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। এর মধ্যে সাধারণ গ্যালারিতে আসন ১৮ হাজার ৩০০টি। প্রতিটি টিকিটের দাম এক হাজার টাকা। আয়োজকদের যুক্তি, একটি টিকিটে দিনের দু’টি ম্যাচ দেখা যাবে। কিন্তু সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের সামর্থ্যের বিষয়টি কি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে? শুধু দু’টি ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকলেই এক হাজার টাকার টিকিট সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসে না। দর্শক মাঠে আনতে চাইলে টিকিটের মূল্য নির্ধারণে বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি ছিল। সেই উদ্যোগের ছাপ নেই। চড়া টিকিটের দামের সঙ্গে প্রচারণার ঘাটতি মিলিয়ে উদ্বোধনী দিনেই গ্যালারি ফাঁকা থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। টিকিট বিক্রির দুরবস্থার পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও আয়োজকদের নিষ্ক্রিয়তা স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক একটি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে শহর জুড়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা, তার কিছুই চোখে পড়ছে না। দর্শক সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেই প্রত্যাশিত তৎপরতা। অথচ ২০০৩ ও ২০১৮ সালে ঢাকায় সাফ আয়োজনের সময় টুর্নামেন্ট ঘিরে যে আগ্রহ ও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল, এবারের চিত্র তার ধারেকাছেও নেই।
সবচেয়ে বিস্ময়কর, টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তেও ট্রফি উন্মোচন করেনি সাফ। দলগুলোর আগমন, আবাসন কিংবা আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতেও সংস্থাটির দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে বারবার যোগাযোগ করতে হচ্ছে। সাফের মিডিয়া ম্যানেজার আয়ুশ খাড়কার পারিবারিক কারণে ছুটিতে নিজ দেশ নেপালে গেছেন। তার অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য সরবরাহের কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থাও দেখা যাচ্ছে না। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় এমন শূন্যতা আয়োজকদের প্রস্তুতি নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। সাফের উদাসীনতার পাশাপাশি স্বাগতিক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভূমিকাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। জানা গেছে, স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে সাফ। ঢাকায় টুর্নামেন্টের পুরো আয়োজন নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করতে বাফুফের সঙ্গে চুক্তি করেছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব সাফের হাতে থাকায় অনেকটা দূর থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাফুফে।
এবারের আসরটি আয়োজনের জন্য একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে সাফ। প্রতিষ্ঠানটির বড় আসরটি পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়োগের পেছনে বাফুফের এক সহ-সভাপতি ও এক সদস্যের ভূমিকা রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে। সবমিলিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সমন্বয়হীনতা ও পারস্পরিক দোষারোপে অস্বস্তিতে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বিশেষ করে সাফ ও বাফুফের মধ্যে অনেকটা ইঁদুর বিড়াল খেলা দৃশ্যমান। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গতকাল সাফ আয়োজন নিয়ে বলেন,‘সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা সাফ করছে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাফুফে তাদের সহায়তা করছে। এখনো কোনো বিরোধ বা দূরত্ব নেই।’ ২০০৩ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ একবারই সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর আর শিরোপা জিততে পারেনি। বাফুফে সভাপতি এবার সাফ জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। ,‘আমরা এবার সাফ জিতব , এ রকম আত্নবিশ্বাস রয়েছে।’
