জাতীয় দলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের মতো খেলতে চান অমিত

জাতীয় দলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের মতো খেলতে চান অমিত

ফন্ট সাইজ:

ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন অমিত হাসান। চলমান জাতীয় ক্রিকেট লীগে পাঁচ ম্যাচে ৪১৫ রান করেছেন এই ব্যাটার। এর মধ্যে রয়েছে অপরাজিত ২০১ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস। ঘরোয়া ক্রিকেটের সেই ধারাবাহিকতা এবার জাতীয় দলেও ধরে রাখতে চান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দলে ফিরেছেন অমিত। মুমিনুল হকের চোটে পাওয়া এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চান ডানহাতি এই ব্যাটার।

সবশেষ গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন অমিত। এরপর অস্ট্রেলিয়া সিরিজ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে জায়গা হয়নি তাঁর। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাতীয় দলে ফিরলেও বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করছেন না তিনি। অমিত বলেন, ‘দলে ফেরার কারণে আমার কাছে মনে হয় না বাড়তি কোনো চাপ থাকবে। আমি যেভাবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটটা খেলে আসছি, চেষ্টা করব সেভাবেই খেলতে।’ মুমিনুল হকের চোটে দ্বিতীয় টেস্টের দলে সুযোগ পেয়েছেন অমিত। তবে সুযোগ পাওয়াকে আলাদা করে না দেখে নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চান তিনি। অমিত বলেন, ‘মুমিনুল ভাই তো দুর্ভাগ্যবশত মাথায় আঘাতের কারণে নেই। আমার যদি সুযোগ আসে, আমি যে প্রক্রিয়ায় বা যেভাবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলে আসছি, সেটাই খেলার চেষ্টা করব।’ জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও পরামর্শ নিচ্ছেন অমিত। নিজের ব্যাটিংয়ের উন্নতি এবং প্রস্তুতি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয় বলে জানান তিনি। অমিত বলেন, ‘সিনিয়র সবার সঙ্গেই মোটামুটি কথাবার্তা হয়। কীভাবে আমার খেলাটাকে আরও উন্নতি করতে পারি, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি-এসব নিয়ে কথা হয়।’ নারায়ণগঞ্জে বাড়ি হলেও জাতীয় ক্রিকেট লীগে সিলেট বিভাগের হয়ে খেলেন অমিত। সে কারণে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম তাঁর কাছে অনেকটা চেনা মাঠ। এবার সেই মাঠেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উইকেটের চরিত্র নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তিনি।

অমিত বলেন, ‘উইকেট কেমন হবে, সেটা নির্ভর করে। এনসিএলে একরকম উইকেট থাকে। এখন পর্যন্ত ঘাসের উইকেট দেখলাম। এখনও এক-দুই দিন বাকি আছে, দেখা যাক। আমাদের শেষ দুই ম্যাচে ভিন্নরকম ছিল, এখন আরেকরকম। এক-দুই দিন পর বোঝা যাবে উইকেট কেমন।’ সিলেটের উইকেটে সাধারণত পেসাররা শুরুতে বাড়তি সুবিধা পান। ম্যাচের শেষ দিকে স্পিনারদেরও কার্যকর হয়ে ওঠার সুযোগ থাকে। সব মিলিয়ে ব্যাটার ও বোলারদের জন্য সহায়ক একটি স্পোর্টিং উইকেটের প্রত্যাশা থাকছে। এই মাঠে ভালো ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে বাড়তি কিছু ভাবছেন না অমিত। তাঁর কথা, ‘প্রত্যেক ব্যাটারই চায় রান করতে। আমার প্রক্রিয়াও একই ছিল, এ কারণে রান করেছি।’ গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল অমিতের। অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রান করেছিলেন তিনি। এরপর আর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি।