সিলেটে বাঁচবে কি ‘ফাইনাল স্বপ্ন’

সিলেটে বাঁচবে কি ‘ফাইনাল স্বপ্ন’

ফন্ট সাইজ:

বৃহস্পতিবার সিলেটে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ক্যারিবীয়দের কাছে এই ম্যাচ হারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সমীকরণ থেকে ছিটকে যাবে বাংলাদেশ। বর্তমান চক্রে লর্ডসের ফাইনাল টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে আট উইকেটের ব্যবধানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। সিরিজ বাঁচানোর পাশাপাশি ফাইনাল খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার মিশন এখন সিলেটে। বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন ‘আমি জিততে চাই, ডেফিনেটলি জিততে চাই। আমরা একটা ম্যাচ হেরেছি; ওয়েস্ট ইন্ডিজও তো ভালো দল, তারাও তো জিতে এসেছে। বাজে একটি টেস্ট ম্যাচ ছিল, আমরা হেরে গেছি। ইট ডাজন্ট মিন যে আমরা খারাপ টিম। আমরা তো লাস্ট হোম সিরিজেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২-০ তে জিতেছি, ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েও জিতে এসেছি। কিন্তু এগুলো নিয়ে আমরা কথা বলি না, শুধু খারাপটা নিয়েই বেশি আলোচনা করি। সো আই থিংক উই আর স্টিল গুড এনাফ টু বিট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।’

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য কঠিন হচ্ছে। মিরপুরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হারের পর চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বর অবস্থান থেকে এক ধাপ নেমে পাঁচে এসেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে সাতটি ম্যাচে তিনটি জয়, তিনটি হার এবং একটি ড্র নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্টের শতকরা হার ৪৭.৬২ শতাংশ। দ্বিতীয় টেস্টেও বাংলাদেশ হারলে এবং শূন্য-দুই ব্যবধানে ঘরের মাঠে সিরিজ হাতছাড়া করলে পয়েন্টের শতকরা হার কমে ৩৭.৫ শতাংশের কাছাকাছি চলে আসবে। তখন বাংলাদেশ পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বর অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হবে। ইংল্যান্ডের পেছনে পয়েন্ট তালিকায় ছয় নম্বরে নেমে যাবে দল। ফলে চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সমীকরণ থেকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে পড়বে। মিরপুর টেস্টে হারের পর বাংলাদেশের স্পিন মোকাবিলার দুর্বলতা সামনে এসেছে। সিলেটে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। এরই মধ্যে দলের ইনজুরি নিয়ে চিন্তা দূর হয়েছে। দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহীম ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। যদিও আরেক ব্যাটিং ভরসা মুমিনুল কনকাশনের নিয়মের ফাঁদে পড়ে সিলেট টেস্টে দলে নেই।

জানা গেছে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ইনজুরি নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। অন্যদিকে পরিসংখ্যানের পাতায় দুই দলের লড়াইয়ের চিত্র বেশ স্পষ্ট। এটি বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৩তম টেস্ট ম্যাচ। এর আগে উভয় দল ২২টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে। অতীতের ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ১৫টি ম্যাচ। বাংলাদেশের জয় এসেছে পাঁচটি টেস্টে। বাকি দু’টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। টেস্ট সিরিজের লড়াইয়ের খতিয়ানে এর আগে মোট ১১টি সিরিজ খেলেছে দুই দল। এর মধ্যে ক্যারিবিয়ানরা জিতেছে আটটি সিরিজ। বিপরীতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দু’টি টেস্ট সিরিজে। প্রথমটি প্রতিপক্ষের মাঠে এবং দ্বিতীয়টি ঘরের মাঠে জিতেছিল স্বাগতিকরা। বাকি একটি সিরিজ ড্র হয়েছে। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টের পর সিলেটে দলের একাদশ এবং কৌশলে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। পিচের আচরণ কেমন হবে তা নিয়ে মাঠের ভেতরে এবং বাইরে আলোচনা চলছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামিও বাংলাদেশ দলের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা আঁচ করতে পারছেন।

আসন্ন ম্যাচ নিয়ে স্যামি বলেন ‘ফিল সিমন্সকে আমি যতটুকু চিনি, সে বিষয়টি সহজ হতে দেবে না। সে জয় চায় এবং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও তাদের নিজেদের লক্ষ্য রয়েছে।’ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার বাংলাদেশ দলের জন্য ধাক্কা। এই হার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর তাড়না তৈরি হতে পারে স্বাগতিকদের মাঝে। স্যামি বলেন ‘আমাদের ছেলেদের মধ্যে যে ক্ষুধা, আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রম করার প্রবণতা দেখেছি, তাতে বলতে পারি- সিলেটে পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা সফরটি জয় দিয়ে শেষ করার জন্য প্রস্তুত। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ কখনোই সহজ প্রতিপক্ষ নয়।’