চাকরি স্থায়ীকরণের নাটকীয়তা যেন কোনোভাবেই শেষ হচ্ছে না সিসিকের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে মাস্টাররোলে কাজ করলেও এখনো স্থায়ী নিয়োগের মুখ দেখেননি তারা। এবার চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ৭ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সিসিকের প্রশাসক বরাবর দেয়া এক স্মারকলিপিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ দাবি জানান। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) মাধ্যমে দেয়া ওই আবেদনে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণে দৃশ্যমান ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করা হয়।
২০১৮ সালের ১৮ই মার্চ হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তী সময়ে সিসিকের দায়ের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে ২০২৩ সালের ২৩শে জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাদের দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। কর্মচারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি স্থায়ীকরণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় তারা ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক ও মানবিক সংকটে পড়েছেন। আবেদনে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বা কার্যকর অগ্রগতি না হলে আগামী ১১ই নভেম্বর থেকে সিটি করপোরেশনের সীমানার বাইরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন তারা। তবে আদালতের রায়ে চাকরি স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
