চুরি আড়াল করতে অপহরণের নাটক, গ্রেপ্তারের পর মিললো প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্যামেরা

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের দামি ক্যামেরা ও লেন্স চুরির ঘটনা আড়াল করতে নিজের আত্মগোপন ও অপহরণের নাটক সাজানো অভিযুক্ত রিদুয়ানুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে বসতঘর থেকে চুরি হওয়া সব ক্যামেরা ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানান সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী। পুলিশ জানায়, গত ৯ই অক্টোবর রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে লোহাগাড়া আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটে অবস্থিত ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামের দোকানটি বন্ধ করে কাজ শেষে বাইরে যান দোকান মালিক বাবলু পাল (৩৭)। পরদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকানে ফিরে তিনি দরজার তালা খোলা দেখতে পান এবং ভেতরে থাকা মূল্যবান ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির বিষয়ে নিশ্চিত হন।

চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে তিনটি সনি আলফা ৭ মার্ক থ্রি ক্যামেরা, একটি সনি আলফা ৭ সি ক্যামেরা, সিগমা, সনি, ট্যামরন ও ৭ আর্টিজানস ব্র্যান্ডের মোট আটটি লেন্স, দুটি ব্যাটারি এবং একটি চার্জার ছিল; যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী দোকান মালিক। অন্যদিকে, ঘটনার ক’দিন পর গত ১২ই অক্টোবর অভিযুক্ত রিদুয়ানুল হকের স্ত্রী রেশমী আক্তার লোহাগাড়া থানায় এসে দাবি করেন যে তার স্বামীকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে। চুরি ও সাজানো অপহরণের এই জোড়া ঘটনা তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নেয় লোহাগাড়া থানা পুলিশ। তদন্ত চলাকালে আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেট ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করে চুরির ঘটনায় রিদুয়ানুল হকের সরাসরি সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। একই সঙ্গে তার তথাকথিত ‘অপহরণ’ নিয়েও প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে সোর্সের দেয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত সোমবার পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা এলাকার আওয়ার পাড়া থেকে রিদুয়ানকে আটক করা হয়। আটকের পর পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেই তিনি আত্মগোপনে থেকে স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বসতঘরে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া সব ক্যামেরা, লেন্স ও আনুষঙ্গিক মালামাল শতভাগ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় দায়ের করা চুরি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।