দৌলতপুরে বহিষ্কার করায় প্রধান শিক্ষকের অফিস লক্ষ্য করে বোমা হামলা

দৌলতপুরে বহিষ্কার করায় প্রধান শিক্ষকের অফিস লক্ষ্য করে বোমা হামলা

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে ককটেল বোমা হামলা চলানো হয়েছে। বিস্ফোরিত বোমার বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার বিকাল ৪টার দিকে বোমা হামলার এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ মোবাইল ফোন দেখে নকল করে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগে ৫ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে পর পর দু’টি ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিকট শব্দে বোমা দু’টির বিস্ফোরণ ঘটলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা ছোটাছুটি করতে থাকে। বোমা হামলাকারী তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইলামপুর গ্রামের মিজানুর রহমান মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের সহযোগী বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় বোমা হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী খাজা আহমেদের বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বিস্ফোরণের সময় আমি নিজ কক্ষে ছিলাম। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বলতে পারবো না। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

কয়েকজন জমা দেয়। মুঠোফোন দেখে এক শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। কিছুক্ষণ পরই বাইরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের পাশে থাকা ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পড়ে থাকা একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
তবে এ বিষয়ে জানতে খাজা আহমেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন করতেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে।

এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দু’টি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে বোমা হামলার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।