সুপ্রিম কোর্টের পর্যাপ্ত বাজেট ও বিচারপতি নিয়োগ চেয়ে ২৬ আইনজীবীর রিট

সুপ্রিম কোর্টের পর্যাপ্ত বাজেট ও বিচারপতি নিয়োগ চেয়ে ২৬ আইনজীবীর রিট

ফন্ট সাইজ:

সুপ্রিম কোর্টের জন্য অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ ও বেঞ্চ গঠনে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা এবং আইনজীবীদের পেশাগত মৌলিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, আজ বিচারপতি জে.বি.এম. হাসান ও আজিজ আহমদ ভূঞার দ্বৈত বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে রিট আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত। আমরা আশা করি, আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে উপযুক্ত নির্দেশনা দেবেন। তিনি আরও বলেন, রিট দায়েরের আগে ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিবাদীদের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে ৩ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে জানাতে বলা হলেও বিবাদীরা কোনো সাড়া দেননি।

রিট আবেদনে সংবিধানের ৭, ২১, ২২, ২৭, ৩১, ৩২, ৩৫(৩), ৪৪, ৯৪ ও ১১৬ক অনুচ্ছেদের আলোকে বিচার প্রাপ্তির সুযোগ, ন্যায্য ও দ্রুত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পর্যাপ্ত, প্রয়োজনভিত্তিক ও আনুপাতিক বাজেট বরাদ্দের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত বেঞ্চ গঠন এবং আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, সুপেয় পানি ও ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যুক্তিসংগত ও চাহিদাভিত্তিক বাজেট কাঠামো প্রণয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের ২৬ জন আইনজীবী যৌথভাবে এই রিটটি দায়ের করেছেন। রিটকারী আইনজীবীরা হলেনÑব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার, মোহাম্মদ বাবরুল আমিন, ব্যারিস্টার ইয়াসমিন আক্তার, মুনতাসির মাহমুদ রহমান, রাসিব রেজা নাহিয়েন, তাসমিম সুলতানা মৌলি, মারুফ হাসান তমাল, বায়েজিদ হোসেন, ব্যারিস্টার ফারহানা সিরাজ রনি, রাসেল হোসেন, মো. মাকসুদুর রহমান, মো. সুমন রাহাত, মো. রাজু হাওলাদার পলাশ, নাঈম সরদার, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, এ.এন.এম. আশিকুর রহমান খান, এইচ.এম. মুনতাসির নিজাম (রোমেল), মো. রাইসউদ্দিন, হেদায়েতুল আনাম হাদী, শেখ নোমান পারভেজ, মো. আবির মিনহাজ, মনিরুজ্জামান সবুজ, মাহারাজ হাসান তামিম, এম. ফাহাদ খান এবং সোহাগ মিয়া।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুকূলে বাজেট বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা, যা প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী একই অর্থবছরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য বরাদ্দ ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা-যা সুপ্রিম কোর্টের চেয়ে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা বা ১৯ শতাংশের বেশি। এছাড়া আইনমন্ত্রী নিজেও গত ২রা মে গণমাধ্যমে বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের “সবচেয়ে অবহেলিত খাত” হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে রিটে তুলে ধরা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলাজট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩০টি; অথচ আপিল বিভাগে ৫ জন ও হাইকোর্ট বিভাগে ৯৯ জনসহ মোট বিচারপতির সংখ্যা মাত্র ১০৫ জন। আপিল বিভাগে ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিচারাধীন মামলা প্রায় ৪২ হাজার। বছরে দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং আপিল বিভাগে প্রায় ১৮ শতাংশ নিষ্পত্তি হচ্ছে, ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোয় মামলাজট ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সত্ত্বেও নিম্ন আদালতের বিচারক সংখ্যা প্রায় ২ হাজার থেকে অন্তত ৬ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
রিটে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর সর্বোচ্চ আদালতের তুলনায় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বাজেট কম, অথচ মামলার চাপ অনেক বেশি। আপিল ও হাইকোর্টÑউভয় বিভাগের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত ব্যয় বহন করতে হয় বলে সুপ্রিম কোর্টের ওপর কাঠামোগত চাপও ভারত বা পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি।