সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর-কাছিরগাতি-সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগকে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনাসহ পাঁচদফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। সোমবার সুনামগঞ্জের একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন— জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
এ সময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে মিলন বলেন, ওই প্রকল্পের কাজ পান ঢাকার ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. বদরুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওই ঠিকাদার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে প্রকল্পের প্রথম সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য আজাদ হোসেন। পরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে দ্বিতীয় সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় শফিকুল ইসলামকে। মিলন আরও বলেন, গত ২৭শে অক্টোবর সংসদ সদস্য নুরুল বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয়রা তাকে সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ জানান। পরে তিনি সরজমিন পরিদর্শন করে ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে পরদিন ঠিকাদারকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন। কিন্তু ওইদিনই সাব-ঠিকাদার সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। মিলন বলেন, প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। জনগণের সামনে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের কোনো সাইনবোর্ডও প্রদর্শন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা জানানো হয়, তা হলো, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা, প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত প্রাক্কলিত অর্থ কোষাগারে ফেরত আনা, ইতিমধ্যে যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে নকশা অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নতুন করে কাজ করা; অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া এবং অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলমান সব প্রকল্পের কাজ ও অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করা।
