২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ (হাউজ এবং সিনেট) ডেমোক্রেট দলের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নিদেনপক্ষে হাউজের নিয়ন্ত্রণ যে ডেমোক্রেটরা নিচ্ছে সেটি এখন প্রায় নিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়। এটি মার্কিন গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সঙ্গে আইনসভার সাংবিধানিক তদারকির ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ডেমোক্রেটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ, বা সিনেট অথবা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি কে নির্ধারণ করবে, সামরিক শক্তি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস তার সাংবিধানিক ভূমিকা পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি না—সে বিষয়ে একটি মৌলিক বিতর্ক নতুন করে সামনে নিয়ে আসতে পারে।
এই নির্বাচনের গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ দলীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিস্তৃত। ইরান, ইউক্রেন, ন্যাটো, চীন, ইসরায়েল এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কংগ্রেসের সঙ্গে সীমিত পরামর্শের মাধ্যমে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর তার নির্ভরতা যুদ্ধ, শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের স্থায়িত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ডেমোক্রেটদের নির্বাচনী বিজয় পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে কংগ্রেসের অংশগ্রহণ পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা মৌলিকভাবে সীমিত করা সম্ভব হবে কি না, সেটি নির্বাচনী বিজয়ের ধরনের উপর নির্ভর করছে।
মার্কিন সংবিধান কংগ্রেসকে প্রভাব বিস্তারের জন্য যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছে। সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কংগ্রেসের হাতে সরকারি ব্যয় বরাদ্দ, সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের কর্তৃত্ব রয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং কূটনীতি ও সামরিক অভিযান পরিচালনায় নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করেছে। যদিও এই সাংবিধানিক বিধানগুলো ক্ষমতার যৌথ দায়িত্ব ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে, বাস্তবে বিশেষত জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য ক্রমেই নির্বাহী বিভাগের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
সামরিক হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে প্রত্যাহার এবং নির্বাহী পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সমঝোতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমানা এখনো বিতর্কিত। আদালতও অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এড়িয়ে গেছে। ফলে নিজ নিজ ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে কংগ্রেসের সক্রিয়তা কিংবা নিষ্ক্রিয়তা—উভয়ই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। আইনপ্রণেতারা যখন প্রেসিডেন্টের বিস্তৃত ক্ষমতার দাবিকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্যর্থ হন, তখন অনিচ্ছাকৃতভাবেই তারা ভবিষ্যৎ প্রশাসনগুলোর জন্য একই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের দৃষ্টান্ত আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারেন।
ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস আরও সক্রিয় তদারকি, তদন্ত, সরকারি অর্থ বরাদ্দে বিধিনিষেধ এবং নির্বাহী সিদ্ধান্তের আইনগত ও নীতিগত পর্যালোচনার মাধ্যমে এই প্রবণতা পাল্টানোর উদ্যোগ নিতে পারে। এর সবচেয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা হতে পারে ইরান বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি। চলমান সংঘাত প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করতে বা অব্যাহত রাখতে পারেন কি না—সে বিষয়ে মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য শুনানিতে তলব করতে পারে, সামরিক অভিযানের আইনগত ভিত্তি ও কৌশলগত লক্ষ্য তদন্ত করতে পারে, এর আর্থিক ও মানবিক মূল্যায়ন করতে পারে এবং কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শের জন্য আরও স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের দাবি তুলতে পারে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের স্কলার স্কট আর. অ্যান্ডারসন ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত তার এক বিশ্লেষণে ইরান বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনা করেছেন। অ্যান্ডারসনের মতে, ডেমোক্রেটরা কংগ্রেসের তদারকি, অর্থায়নে সীমাবদ্ধতা, দ্রুত আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সুপারমেজরিটি অর্জনের কঠিন বাস্তবতা ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের প্রচেষ্টাকে সীমিত করবে। তার বিশ্লেষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরে: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রেসিডেন্টের সামরিক নীতিকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে, কিন্তু তা অবধারিতভাবে সেই নীতি বন্ধ করতে পারবে না।
এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ এবং মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের শর্তাবলি নিয়ে আরও কঠোর পর্যালোচনা শুরু করতে পারে। গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতি এবং ইরান বিষয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান—এসব বিষয় ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে ডেমোক্রেটদের মধ্যেই মতপার্থক্য বাড়িয়েছে। কংগ্রেসের বর্ধিত তদারকি অবধারিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কৌশলগত অংশীদারত্বের অবসান ঘটাবে না। তবে মানবিক দায়িত্ব, অস্ত্র রপ্তানিসংক্রান্ত আইন এবং মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তার সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নিয়ে আরও কঠোর বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখার প্রবণতার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ইউক্রেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যেখানে নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসের ডেমোক্রেটরা কিয়েভকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা জোরদার করার উদ্যোগ নিতে পারে, মস্কোর প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পর্যালোচনা করতে পারে এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দুর্বল করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং আইন প্রণয়নের কার্যসূচি নির্ধারণের ক্ষমতা ব্যবহার করে ইউরোপীয় নিরাপত্তার প্রতি মার্কিন অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করতে পারে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হলেই ট্রাম্পের কূটনৈতিক অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাল্টে যাবে কিংবা ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এর ফলাফল নির্ভর করবে দ্বিদলীয় সহযোগিতা, সিনেটের কার্যপ্রণালি, প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট উদ্যোগে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সমর্থনের ওপর।
অন্যদিকে, চীন বিষয়ে মার্কিন নীতিতে তুলনামূলকভাবে বেশি ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐকমত্য রয়েছে। যদিও শুল্কনীতি, প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ, শিল্পনীতি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের পদ্ধতি নিয়ে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ, বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ওপর কঠোর তদারকি এবং প্রযুক্তি ও নিরাপত্তানীতিতে আরও পূর্বানুমানযোগ্য সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে পারে। অর্থাৎ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তিত হলে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মূল কৌশলগত দিকের চেয়ে প্রতিযোগিতা পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাই বেশি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা থেকে বোঝা যায় যে, বিভক্ত সরকারব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে না। আমেরিকান পলিটিক্স রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত গুয়ান ওয়াংয়ের ২০২৬ সালের গবেষণায় ১৯৯৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত আইন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ওয়াং দেখিয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ সরকারব্যবস্থার তুলনায় বিভক্ত সরকারব্যবস্থায় কংগ্রেসের ফ্লোরে পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত আইন প্রস্তাব আলোচনার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ও মনোযোগ পায়। অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কখনো কখনো আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোকে কংগ্রেসের আলোচনায় অধিকতর গুরুত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এর অর্থ হলো, বড় ধরনের আইন পাসের সম্ভাবনা সীমিত থাকলেও ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পররাষ্ট্রনীতিকে কংগ্রেসের আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক বিতর্কের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত করতে পারে।
লেজিসলেটিভ স্টাডিজ কোয়ার্টারলি জার্নালে প্রকাশিত গিয়ং-হো জিয়ংয়ের ২০২৬ সালের এক গবেষণা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। জিয়ং দেখিয়েছেন, আইনপ্রণেতারা সব সময় নিজেদের দলের প্রেসিডেন্টের কাছে পররাষ্ট্রনীতির প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা ছেড়ে দেন না। বরং তারা নিজেদের নীতিগত পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রেসিডেন্টের উদ্যোগকে সমর্থন করেন, আবার স্বার্থের পরিপন্থী উদ্যোগ থেকে দূরে থাকেন কিংবা তার বিরোধিতা করেন। এই গবেষণা কংগ্রেসের স্বয়ংক্রিয় আনুগত্যের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। এর ফলে বলা যায়, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও কখনো কখনো ডেমোক্রেটদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারেন।
মার্কিন রাজনৈতিক মেরুকরণের আন্তর্জাতিক প্রভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ কোয়ার্টারলি জার্নালে প্রকাশিত হেলেন ওয়েবলি-ব্রাউন ও লরেন সুকিনের ২০২৬ সালের এক গবেষণা বিশ্লেষণ করেছে, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন বিদেশে মার্কিন নিরাপত্তা অঙ্গীকার সম্পর্কে ধারণাকে প্রভাবিত করে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের উত্তরদাতাদের ওপর পরিচালিত তাদের জরিপভিত্তিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক মেরুকরণ পারমাণবিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। এর তাৎপর্য গুরুত্বপূর্ণ; কংগ্রেসের বিরোধিতা প্রেসিডেন্টের কিছু সিদ্ধান্ত সীমিত করতে পারে, কিন্তু প্রকাশ্য প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছে মার্কিন অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
সুতরাং, বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ কেবল ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করা নয়; বরং পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের জন্য আরও টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর আগে কংগ্রেসের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শের বিধান শক্তিশালী করা, অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সরকারি অর্থ বরাদ্দের সাংবিধানিক ক্ষমতা আরও ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ এবং প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের আইনি কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব সংস্কার উভয় দলের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অন্যথায়, ডেমোক্রেটরা ক্ষমতায় ফিরে এলে তারাও নির্বাহী ক্ষমতার একই ধরনের কেন্দ্রীকরণের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর ঝুঁকিতে থাকবে।
পরিশেষে বলা যায়, ডেমোক্রেটদের নির্বাচনী বিজয় ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উল্টে দেবে না। কূটনীতি, সামরিক কমান্ড এবং নির্বাহী আদেশের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা থাকবে। প্রেসিডেন্টের ভেটো অকার্যকর করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। একই সঙ্গে দলীয় মেরুকরণ দ্বিদলীয় আইন প্রণয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তা সত্ত্বেও, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের প্রশাসনের ওপর তদারকি জোরদার, নীতিগত অসংগতি উন্মোচন, আর্থিক ও প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং নির্বাহী বিভাগের ক্রমবর্ধমান একক কর্তৃত্বের বাইরে আইনসভার অংশগ্রহণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দিতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে, মূল প্রশ্নটি শুধু ডেমোক্রেটরা একজন প্রেসিডেন্টকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, নির্বাহী ও আইন বিভাগের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষমতা বণ্টনের যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা, মার্কিন গণতন্ত্র সেটি পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি না-সেটি বড় প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব কেবল সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা।
ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস হয়তো ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দিতে পারবে না, কিন্তু কোনো প্রেসিডেন্ট যাতে অর্থবহ কংগ্রেসের তদারকি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারেন, সেই সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের সূচনা করতে পারে। তাদের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্ত কতটা বাধাগ্রস্ত করতে পারল, তা দিয়ে মাপ করা হবে না; বরং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে কংগ্রেসকে একটি কার্যকর, প্রভাবশালী ও স্থায়ী অংশীদার হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারল কি না, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা।
