চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে ঢুকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকেরা লুটের টাকা দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, 'প্রথম দিকে শ্রমিকরা মাঠে নেমেছিলেন। কারণ তাদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। এরপর মজুরি কমিশন তৈরি হয়েছে। তারা যদি আর মাঠে না নামেন, তখন অন্য কারও পক্ষে মাঠে নেমে কাজটা করা সহজ হয় না। এই প্রেক্ষাপটটা মাঠ থেকে তৈরি হয়। আমাদের পোশাককর্মীরা মাঠে নেমেছেন। সেটার ভেতরে থেকে এই কাজটা করছে তারা (আওয়ামী লীগ)।
উপদেষ্টা আরও বলেন, 'মূল্যস্ফীতি আছে, জ্বালানির মূল্য বাড়ছে এবং এর সূত্র ধরে অনেক কিছুর মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। সেটার প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল হয়েই আগেই মজুরি কমিশন তৈরি করেছে। ফলে আন্দোলনের যে দাবি, সেটা আসলে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এরপর যখন এটা কন্টিনিউ করে বা যে ধরনের সহিংস আচরণ অনেকের মধ্যে দেখা গেছে যেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সেটা কোনোভাবেই এরা আমাদের পোশাককর্মীরা হতে পারেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে। তার ভিত্তিতে তিনি বলেছেন এটা সীমান্তের ওপার থেকে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে কিছু করতে পারবে, সেটা আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু যেহেতু তাদের কাছে প্রচুর লুটের টাকা আছে, তারা তা দিয়ে কোথাও কোথাও কোনো না কোনো ফর্মে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সেটার সঙ্গে এটার সংযোগ থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন তার কাছে নিশ্চয়ই তথ্য আছে। সেটার (আন্দোলনের) সঙ্গে তাদের (আওয়ামী লীগ) লিংক থাকতেই পারে।'
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, 'এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু এটা নিশ্চিতভাবেই তদন্ত হবে। রাষ্ট্রের যেকোনো নাগরিক যখন এমন মৃত্যুর শিকার হন, তার ব্যাপারে জেনুইন তদন্ত হবে। নানা রকম ফ্রেমিং আছে, আমরা যেন সেগুলোর দিকে বেশি দৃষ্টি না দেই।'
তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনার কথা। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পর্যালোচনা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি কমিশন গঠনের কথা ছিল না। এরপরও সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় কমিশন করেছে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল ও নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন না, উনার (হাসিনা) আসা আমরা ঠেকাতে চাচ্ছি না। এখানে একটা ভুল আছে। উনি নিজে আসুন, বা আমরা উনাকে ধরে নিয়ে আসি, আমরা উনাকে চাইছি তো।’
তিনি আরও বলেন, ‘উনি (হাসিনা) যদি আসার সিদ্ধান্ত নেন বা উনাকে ধরে আনার প্রসেস, এটা পাসপোর্টের প্রশ্ন না। ওনাকে তো আমরা আনতে চাই।’
‘শেখ হাসিনা যেহেতু ইন্ডিয়াতে পালিয়ে আছেন, উনি পালিয়ে গেছেন, সুতরাং ওনাকে ওখান থেকে ইন্ডিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা আনতে চেয়েছি। যদি আমরা আনতে চাই—তাহলে তাদের সাথে যে প্রক্রিয়া, তখন যা যা প্রয়োজন হবে সেগুলো করবো’—বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
শেখ হাসিনা যদি ট্রাভেল পাস চান—এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘উনি (হাসিনা) ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত আসামি। কিন্তু উনি এখন পর্যন্ত এই রাষ্ট্রের নাগরিক। উনি চাইলে কী করবে সরকার, সেটা আসলে আমরা সময় আসলে বুঝবো। কিন্তু আমি আবারও বলছি উনি আসুন অথবা উনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসি—মানে আমাদের চাওয়া তো একই আসলে। যদি সেটা মিলে যায় সরকার সেটার সঙ্গে রিলেটেড যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে ঢুকে লুটের টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগ নাশকতা করছে
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার), ২০২৬, ১ঃ৩৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
