পশ্চিমবঙ্গে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অত্যাচার বাড়ছে

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপর একাধিক হামলার অভিযোগ জানা গিয়েছে। রোববার দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তীর নারায়নতলায় একটি গির্জায় প্রার্থণা চলার সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। পুলিশে সুত্রে জানা গিয়েছে, নারায়ণতলায় একটি নতুন গির্জা তৈরি হয়েছে। সেটির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রার্থণা সভায় কিছু দুষ্কৃতি চালিয়েছে। উপস্থিত অনেককে মারথোর করেছে। গির্জার ভিতরে ঢুকে ভাঙচুরও করা হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ও নতুন গির্জাটির এক সদস্যের ভাষ্যমতে, উদ্বোধনী প্রার্থনার সময় তাঁরা হামলার শিকার হন। গির্জাটির সদস্য রমেন নস্কর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমরা যখন প্রার্থনা করছিলাম, তখন কিছু দুষ্কৃতকারী ভেতরে ঢুকে স্লোগান দিতে শুরু করে। আমাদের অনেকের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়, যার ফলে অনেকে আহত হন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, নারীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
গির্জার সম্পাদক শেখর বাগ জানিয়েছেন, কি কারণে হামলা জানিনা। তবে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

রোববার মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে একটি বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়েছে বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। বাড়িটিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠা চলছিল। হিন্দুত্ববাদীদের অভিযোগ, সেখানে ধর্মান্তরিত করার কাজ চলছিল। বজরং দলের পক্ষে বলা হযেছে, বাইরে থেকে লোক এনে মর্ধান্তরণ করা হচ্ছিল। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। বাড়িটিতে ভাঙচুরও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
একটি গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের ১৩টি জেলায় খ্রীস্টানদের ওপর মোট ৬০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

দশদিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে একটি খ্রীষ্টান পরিবারের উপর অত্যঅচার চালানো হয়েছে তিন দিন ধরে। তাদের তুলসি পাতা দিয়ে পানিতে চান করিয়ে শুদ্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া পরিবারটিকে হিন্দু আচার আচরণ পালনে বাধ্য করা হয়েছে।
চার্চ নেতারা রাজ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খ্রিস্টানদের ওপর ক্রমাগত হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 'বঙ্গীয় খ্রীষ্টিয় পরিষেবা' সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হেরোদ মল্লিকও দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে খ্রীস্টানদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বাড়ছে। তিনি বলেছেন, “আমরা খ্রিস্টান পরিবারগুলোর ওপর চালানো এই নৃশংস হামলার নিন্দা জানাই এবং অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, 'বঙ্গীয় খ্রীষ্টিয় পরিষেবা' সংস্থার পক্ষ থেকে কয়েক সপ্তাহ আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছিল। সেখানে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা খ্রিস্টানদের ওপর চালানো সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।