মানবিক চিকিৎসক হতে চান মেধাবী নাহিয়ান

মানবিক চিকিৎসক হতে চান মেধাবী নাহিয়ান

ফন্ট সাইজ:

রাজনীতির পরিচিত মুখের সন্তান তিনি, মা শিক্ষক, নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে পারিবারিক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের মেধা ও স্বপ্নে পরিচিত হতে চান নাহিয়ান বিন খালেদ। লক্ষ্য—চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা।
পারিবারিক ঐতিহ্য, শিক্ষার পরিবেশ আর দেশপ্রেমের চেতনায় বেড়ে ওঠা নাহিয়ান বিন খালেদ ছোটবেলা থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্বপ্ন লালন করছেন। তাঁর সেই স্বপ্ন কেবল একটি পেশা অর্জনের নয়; বরং চিকিৎসক হয়ে সমাজের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার শরীফনগর গ্রামের সন্তান নাহিয়ান শিক্ষাজীবনেও রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর। ২০২৪ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।

নাহিয়ানের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজনীতি, শিক্ষকতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস। তাঁর বাবা খালেদুর রশীদ ঝলক দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি আজমিরীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক, ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাজীবনে খালেদুর রশীদ ঝলক আজমিরীগঞ্জ অ্যামালগেমেটেড বীরচরণ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, সিলেটের মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক এবং সিলেট আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে অ্যাডভোকেটশিপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
নাহিয়ানের মা কামরুন্নাহার শারমিন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষাজীবনে এসএসসি পরীক্ষায় স্টার মার্কসসহ প্রথম বিভাগ এবং এইচএসসিতে প্রথম বিভাগ অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিলেটের এমসি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বিএড পরীক্ষায়ও প্রথম বিভাগ লাভ করেন।

অন্যদিকে, নাহিয়ানের নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী পাঠান হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার। ফলে পারিবারিক পরিমণ্ডলে শিক্ষা, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক সমন্বিত আবহেই বেড়ে উঠেছেন নাহিয়ান।
তবে এসব পরিচয়ের বাইরেও নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করতে চান তিনি। তাঁর কাছে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন মানে শুধু একটি সম্মানজনক পেশায় প্রবেশ নয়; বরং মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নাহিয়ান বিন খালেদ বলেন, “সরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করে একজন আদর্শ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই। চিকিৎসা খাতের বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক ও যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা আমার জীবনের ব্রত।”
পারিবারিক পরিচয় তাঁকে দিয়েছে একটি সমৃদ্ধ পটভূমি, আর নিজের মেধা ও অধ্যবসায় গড়ে দিচ্ছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি। নাহিয়ানের প্রত্যাশা, একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের জায়গা অর্জন করবেন। তাঁর স্বপ্নের কেন্দ্রে তাই শুধু নিজের সাফল্য নয়, রয়েছে মানুষের কল্যাণ।