মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে ২০২৭ সালে সাপ্তাহিক ছুটি বাদে ২২ দিন সরকারি ছুটির খসড়া তালিকা অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া ও ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই দুটি আইনের খসড়া ও ছুটির তালিকা অনুমোদন করা হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তিনি বলেন, বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ ২০২৬’ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের দফা (১) এর অধীন প্রণীত এবং জারিকৃত অধ্যাদেশ ওই অনুচ্ছেদের দফা (২) এর বিধান অনুযায়ী জারি হওয়ার পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের ১ম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার নীতিগত/চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা-বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।
এদিকে ২০২৭ সালে ২৯ দিন সরকারি ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। এই ছুটির মধ্যে ৪টি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (২টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার)। এছাড়া বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (১টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার); ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বৎসরে অনধিক ৩ (তিন) দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের জন্য ধর্মীয় পর্বসমূহের বিবরণ; (ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর বাইরে কর্মরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি বা অনুরূপ সামাজিক উৎসব উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ২দিন ঐচ্ছিক ছুটি। ২০২৭ সালে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি, ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রস্তাবিত মোট ছুটি (৭ দিনের সাপ্তাহিক ছুটি ৩টি শুক্রবার ও ৪টি শনিবার ব্যতীত) ২৯-৭=২২ দিন। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের সরকারি ছুটির খসড়া তালিকা মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
এদিকে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ক্রয়ের মূল আইনি কাঠামো হিসেবে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’ অদ্যাবধি মোট ৬ (ছয়) দফায় সংশোধন করা হয়েছে, যার সর্বশেষ দফা গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়। দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা, ক্রয়কার্যে অধিকতর প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র, নারী দরপত্রদাতা ও সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাগণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার সংরক্ষণ, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালির আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর প্রয়োগের বিধান, পেশাগত অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট বিধানের স্পষ্টীকরণ, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার সংস্থান (Alternative Procurement Arrangement) ইত্যাদি যুগোপযোগী বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ এর দফা (২) অনুযায়ী জারিকৃত অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে বিল আকারে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করতে হবে। এতদ্উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া আইনটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।
