যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের প্রার্থীরা। মঙ্গলবার (৩রা নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে তৈরি হয়েছে নানা নাটকীয়তা ও বিতর্ক। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কিছু অঙ্গরাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। রোববার রাতে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির এক জরিপে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যের প্রায় সবকটিতেই ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশাও বাড়ছে। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের অনুকূলে থাকা নির্বাচনী মানচিত্র এবং প্রচার তহবিলের সুবিধা সত্ত্বেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা দুই দলের প্রচারণায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাট শিবিরে তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভাজন। দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে ড. আব্দুল আল-সায়েদের কাছে পরাজিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্স রোববার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের আগে তার এমন অবস্থান ডেমোক্র্যাট শিবিরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। দলীয় ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা চললেও এ ঘটনায় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।
অন্যদিকে কানসাসে পুনর্নির্বাচন নিয়ে চাপে রয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল। ৭০০-এর বেশি রোগীর কাছ থেকে চিকিৎসাসেবার বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সম্প্রতি শীর্ষ উপদেষ্টাদের পাশ কাটিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন মার্শাল। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এদিকে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রোববার আইওয়ায় একাধিক নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি দলের প্রার্থীদের সমর্থনে বক্তব্য দেন। এ সময় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী অ্যাশলে হিনসনের শারীরিক গঠন নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। পরে কানসাসে বক্তব্য দেয়ার সময় তার কণ্ঠস্বর কিছুটা ভেঙে যেতে দেখা যায়। সোমবার ওয়াশিংটনের রিফ্লেক্টিং পুলের পাশে তার আরেকটি বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। স্থানটির সংস্কারকাজ নিয়েও আগে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
অন্যদিকে আলাস্কায় সিনেট নির্বাচনের ফলাফল আগাম চ্যালেঞ্জ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ খারিজ করে দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। ফলে নির্বাচন ঘিরে আইনি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এসব ঘটনা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাচনের আগেই কোটি কোটি মার্কিন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। টেক্সাসসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবার আগাম ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে তাঁর প্রশাসনের নীতি ও জনপ্রিয়তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যায়, সেটিও স্পষ্ট হবে।
