মৌচাক মার্কেটের সংস্কার চলছে, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের

মৌচাক মার্কেটের সংস্কার চলছে, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর প্রায় ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মৌচাক মার্কেটকে আধুনিক, নিরাপদ ও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বিপণিবিতানে রূপান্তরের কাজ চলছে। তবে সরকারের বেঁধে দেয়া সময়সূচি অনুযায়ী রাত আটটায় দোকান বন্ধ করতে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এই সংকট থেকে উত্তরণে দোকানপাট বন্ধের সময়সীমা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়ে নয়, দিনের যে কোন সময় নিজেদের ইচ্ছে মতো দোকান খোলা ও বন্ধ রাখতে চান ব্যবসায়ীরা। তাহলে আগামীতে কোন মার্কেট ক্রেতা শুন্যতায় পড়ে বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।

সোমবার মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার নির্ধারিত সিমিত সময়ের জন্য দোকান খোলা এবং উচ্চ মুল্যস্ফীতির কারণে বিক্রি কমেছে, এরই মধ্যে তিনটি মার্কেট বন্ধ হয়েছে, বাকিগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি বলেন, ‘শপিং মলগুলোতে বিক্রি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ সময়সীমা কমিয়ে আনা। বিক্রির পিক টাইমেই মার্কেট বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে দোকান খোলা রাখার সময় অন্তত আরও এক ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছি।’ তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং মার্কেটগুলো খোলা ও বন্ধের সময় অনির্দিষ্ট রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম কমানো এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও চেয়েছেন তিনি। সিরাজুল ইসলাম জানান, মৌচাক মার্কেটকে কয়েক বছর আগে ঝুঁকি পুর্ণ ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে আদালতের শর্ত এবং রাজউকের নির্দেশনা অনুসরণ করে দোকান মালিকরা এটিকে দেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মেরামতের কাজ করছেন। বর্তমানে মৌচাক মার্কেট সম্পুর্ণ নিরাপদ, এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ কাজ শেষও হয়েছে। মালিক সমিতি জানায় ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে হচ্ছে, প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নাজুক আবস্থা বিবেচনায় না নিলে মার্কেট বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কোন মার্কেট যেন দখল না হয় সেদিকেও সরকারের খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকার বাজারগুলোতে বিক্রির মূল সময় বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা। অথচ রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতায় কেনাকাটার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না ক্রেতারা। বাধ্য হয়ে অনেকে অনলাইনের দিকে ঝুঁকছেন।
সমিতির নেতারা বলেন, স্বল্প সময়ের জন্য দোকান খোলা রাখায় দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন এবং সরকারি কর ও বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বা চড়া সুদে টাকা ধার করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দেন, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি পেলে তারা সীমিত আকারে বাতি ও এসি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবেন।