রিয়ালের জার্সিতে বেলিংহ্যামের ঐতিহাসিক হাফ সেঞ্চুরি

রিয়ালের জার্সিতে বেলিংহ্যামের ঐতিহাসিক হাফ সেঞ্চুরি

ফন্ট সাইজ:

রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে নতুন এক ইতিহাস গড়লেন জুড বেলিংহ্যাম। লা লিগায় রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয়ার পথে লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে রিয়ালের হয়ে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ঐতিহাসিক ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন বেলিংহ্যাম। দীর্ঘ সাত ম্যাচের গোলখরা কাটিয়ে চিরচেনা ছন্দে ফিরে দলের এই জয়ে বড় অবদান রাখেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।

সান্তান্দারের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোল থেকে এগিয়ে যাওয়ার পর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জুড বেলিংহ্যাম ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইয়ান দিওমান্দে।

রিয়ালের এই জয়ে বার্সেলোনা ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে ক্লাবটির শিরোপার দৌড়ে পয়েন্ট টেবিলের ব্যবধান একদম জমজমাট অবস্থায় রইলো। ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অল হোয়াইটরা। সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে দুইয়ে অ্যাটলেটিকো। সমান ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় কাতালানরা। এদিনের গোলে ডেভিড বেকহ্যাম ও লরি কানিংহামের ২০ গোলের রেকর্ডকে অনেক আগেই পেছনে ফেলা বেলিংহ্যাম এখন রিয়ালের জার্সিতে অনন্য উচ্চতায়।

আমরা এখনো শতভাগ সেরা নই, তবে দল প্রতিদিন উন্নতি করছে: মরিনহো

ম্যাচ শেষে রিয়ালের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে বলে মনে করেন কোচ জোসে মরিনহো। দলের দায়িত্ব নেয়ার চার মাসও পূর্ণ হয়নি উল্লেখ করে পর্তুগিজ এই মাস্টারমাইন্ড বলেন, ‘আমরা এখনো শতভাগ ফর্মে পৌঁছাতে পারিনি, তবে দল সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। খেলোয়াড়েরা আমার চরিত্র এবং যে বিষয়গুলো আমার কাছে আপোষহীন, তা বুঝতে শুরু করেছে। আমাদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।’

দলের আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের রক্ষণাত্মক মানসিকতা ও বেলিংহ্যাম-দিওমান্দের নিবেদন নিয়ে মরিনহো বলেন, ‘যখন ফরোয়ার্ডরা দলের স্বার্থে রক্ষণ সামলাতে পরিশ্রম করে, তখন পুরো দলের জন্য তা দারুণ একটা বার্তা দেয়। তবে ফিনিশিংয়ে আমাদের আরও বেশি ধারালো হতে হবে।’

ম্যাচে রেফারিং এবং অরেলিয়ে চুয়ামেনির হ্যান্ডবল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে মরিনহো কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘অনেকেই ফুটবলের নিয়মকানুন ঠিকমতো বোঝেন না। বল শরীর থেকে রিবাউন্ড হয়ে চুয়ামেনির হাতে লেগেছে, যা কখনোই পেনাল্টি হতে পারে না। আইপ্যাডে রিপ্লে দেখার পরও বিষয়টি আমার কাছে জলের মতো পরিষ্কার ছিল।’

এছাড়া ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার মাঝে ঠাসা সূচি ও লা লিগার ম্যাচ আয়োজনের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি দ্য স্পেশাল ওয়ান। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ম্যাচের আগে রিয়ালের এই জয় ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।