শিশুকে পড়াতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ইমাম গ্রেপ্তার

শিশুকে পড়াতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ইমাম গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

শিশুকে পড়াতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার মামলায় ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইমামের নাম নূর আলম শেখ (৩২)।

গ্রেপ্তার হওয়া নূর আলম শেখের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেলিগাতী এলাকায়। তিনি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার একটি জামে মসজিদে প্রায় ১৮ মাস ধরে ইমামতি করেছেন। মাদ্রাসায় ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত নূর আলম চার সন্তানের বাবা।

স্থানীয়রা জানায়, শিশুকে প্রাইভেট পড়ানের সুবাদে বাসায় আসা যাওয়া ছিল ইমামের। সেই সুবাদে শিশুটির মায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে নূর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টঙ্গিবাড়ীর ওই মসজিদে ইমামতি করার সময় স্থানীয় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে তাদের বাড়িতে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন নূর আলম। এ সুযোগে শিশুটির মায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এ সময় গোপনে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন নূর আলম।

প্রায় এক মাস আগে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদ কমিটি তাকে ইমামতি থেকে বহিষ্কার করে এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর শ্রীনগরে অবস্থান করে ওই গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন তিনি। তার সঙ্গে দেখা করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে ধারণ করা একটি অশ্লীল ভিডিও অনলাইনে গৃহবধূর পরিবারের এক সদস্যের কাছে পাঠান। তার সঙ্গে দেখা না করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. কামরান হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নূর আলম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী থানায় নারী-শিশু ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’