দিনভর বিক্ষোভ-সংঘর্ষ-আগুন, ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ

সহযোগীদের খবর

দিনভর বিক্ষোভ-সংঘর্ষ-আগুন, ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

‘দিনভর বিক্ষোভ-সংঘর্ষ-আগুন, ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ’—এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া এবং পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গতকাল রোববারও বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

মিরপুর, গাজীপুরের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মিরপুরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুনও দেন বিক্ষোভকারীরা। সহিংসতার কারণে তিনটি মেট্রোস্টেশন ও ট্রেন চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

গাজীপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এ সময়ও ওই এলাকায় কিছু কারখানায় ভাঙচুর চালান বিক্ষোভকারীরা। সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সাত ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। কালিয়াকৈরে ব্যাংকের শাখায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

গতকাল সরকার শ্রমিকদের দাবি করা মজুরি বোর্ড গঠন করে। আগের দিন এ সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন শ্রমমন্ত্রী। এর পরও বিভিন্ন দাবিতে সকাল থেকে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার পাশাপাশি তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে– কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ।

গতকাল দিনভর বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও আগুনের ঘটনায় ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এসব কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মিরপুর ও গাজীপুরে ৪৯ জনকে আটক করেছে তারা।

নতুন মজুরির দাবিতে কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে রোববার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে এসে অবরোধ তৈরি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়। কারখানা চালু রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া চলমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে গতকাল বিকেলে উত্তরার কার্যালয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করে বিজিএমইএ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ঢাকা ও গাজীপুরে এই সহিংস শ্রমিক বিক্ষোভে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজমুল ইসলাম একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ বলছে, মিরপুরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় কর্মী। তারা তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে নাশকতার চেষ্টা চালান।

মিরপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর-১ ও ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। পরে মিরপুর-১১, ১২ নম্বরসহ আশপাশ এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তা অবরোধ করায় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। দুপুর ১টার দিকে পুলিশের ধাওয়ার মুখে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে অলিগলিতে চলে যান। এ সময় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিরাপত্তার জন্য মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবীর মেট্রোস্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ওই তিনটি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ থাকে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর পরপরই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে কয়েকশ শ্রমিক রাস্তা অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাদের ওপর জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তখন তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নেভাতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালান আন্দোলনকারীরা। ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। বাধ্য হয়ে ফায়ার ব্রিগেড ফিরে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশন অফিসার মশিউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনটি আগুন নেভানোর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছলে আন্দোলনকারীরা হামলা চালায়। গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে আমাদের ফিরে আসতে হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ২০১ ও ২০২ নম্বর পিলারের মাঝে রাস্তার ওপর পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ায় তাপে স্টেশনের পানির লাইনের পাইপ পুড়ে গেছে।

মিরপুর-১১ মেট্রোস্টেশনের নিরাপত্তাকর্মী খালিদ হাসান বলেন, আন্দোলনের সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পর স্টেশনে ওঠানামার সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুপুর আড়াইটার পর দুটি গেট খুলে দিলে ওই স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়।

দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের মেট্রোস্টেশনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, অফিসের কাজে মতিঝিলে যাওয়ার জন্য তিনি মেট্রোস্টেশনে যান। কিন্তু স্টেশনের সব গেট বন্ধ পান। তিনি বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ কেন ভোগান্তির শিকার হবো? মেট্রোরেলে মতিঝিলে যেতে যে সময় লাগবে, তার কয়েক গুণ সময় ব্যয় হবে সড়কপথে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। বিভিন্ন আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখের নিরাপত্তা গেট তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ কারণে ওইসব এলাকায় রিকশা ও মোটরসাইকেল নিয়েও প্রবেশ করা যায়নি।

ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার পরিত্রাণ তালুকদার বলেন, আন্দোলনের কারণে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান সমকালকে বলেন, দুপুর ১টার দিকে মিরপুর-১২ নম্বরের একটি গলি থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ কর্মীকে আটক করা হয়। প্রায় দেড়শ নেতাকর্মী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার রাত ৮টায় বলেন, পুলিশের কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আটক ব্যক্তিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

প্রথম আলো

‘এইচএসসির ফল বিশ্লেষণ: শহর-গ্রামের বৈষম্য, ঢাকায় পাস ৭৯%, মানিকগঞ্জে ৩৮%’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলে শহর ও মফস্‌সলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫, উভয় ক্ষেত্রেই বেশ এগিয়ে ঢাকা মহানগর। আর ঢাকার বাইরের ফল হতাশাজনক।

এ বছর দেশের সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর নিচে প্রায় ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী। গ্রেডভিত্তিক ফলের অন্যান্য পরিসংখ্যানও বলছে, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বড় অংশের ফল মাঝারি ও তার নিচে।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গত শনিবার। ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অথচ ঢাকা বোর্ডেরই অধীন মানিকগঞ্জে পাসের হার বেশ কম—৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জেও পাসের হার ৪৩ শতাংশের নিচে।

ঢাকা মহানগরে এক লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮৮ হাজারের বেশি। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৮২ জন। বিপরীতে মানিকগঞ্জে ১০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৮৭ জন। শরীয়তপুরে পাস করেছেন ২ হাজারের বেশি এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩৫ জন।

ঢাকা মহানগরের বাইরে একই বোর্ডের অধীন ১৩টি জেলার মধ্যে গাজীপুর ও নরসিংদী ছাড়া অন্য কোনো জেলায় পাসের হার ৬০ শতাংশ অতিক্রম করেনি। গাজীপুরে পাসের হার ৬১ শতাংশের বেশি ও নরসিংদীতে ৬৬ শতাংশের বেশি। নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর ও কিশোরগঞ্জে পাসের হার ৪৫ থেকে ৫১ শতাংশের ঘরে।

এ পরিসংখ্যানের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরীর একক আধিপত্য দেখা গেছে। অন্যদিকে মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও মাদারীপুরের মতো জেলাগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত একই শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলে এমন ব্যবধান শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান এবং শিক্ষার পরিবেশের ভৌগোলিক বৈষম্যকেও সামনে এনেছে।

এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট জিপিএ-পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন। আর মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে এ সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

শুধু ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নয়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও একই ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। এ বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৫৭ শতাংশের বেশি। আর কক্সবাজারে ৪৩ শতাংশের বেশি হলেও খাগড়াছড়িতে তা প্রায় ৩০ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৩৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ শহরকেন্দ্রিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় মফস্‌সল এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশ পিছিয়ে।

ভালো প্রতিষ্ঠানে ভালো ফল

শুধু শহর ও মফস্‌সলের মধ্যে নয়, শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও ফলের বড় পার্থক্য দেখা গেছে। সারা দেশে গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে রাজধানীর সুপরিচিত কলেজগুলোর ফল অনেক ভালো। ঢাকা কলেজ থেকে ১ হাজার ১৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১২৯ জন (পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ)। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৮৮ জন। পাস করা পরীক্ষার্থীদের প্রায় ৬১ শতাংশ সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছেন।

একইভাবে নটর ডেম কলেজ থেকে ৩ হাজার ২৫৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ৩ হাজার ২১৮ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২২৯ জন। পাস করা পরীক্ষার্থীদের ৬৯ শতাংশের বেশি সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছেন।

এদিকে কেউ পাস করেননি, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই মফস্‌সলের। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু শহরে অবস্থান করলেই ভালো ফল হচ্ছে না; শহরের যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে ভালো পড়াশোনা হয়, সেগুলোর ফলও অনেক ভালো।

শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এসব ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার সুযোগও প্রভাব ফেলছে। আর্থিকভাবে এগিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানেরা তুলনামূলকভাবে বেশি কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পায়। গ্রামের আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীও ভালো ফলের আশায় শহরের পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হয়। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানেরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। তারা ভালো পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পায় না। ফলে বৈষম্যের প্রতিফলন ঘটে পরীক্ষার ফলে।

শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা হয় কতটা

শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এবার শুধু পাস-ফেলের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শ্রেণিকক্ষে আসলে কতটা পড়াশোনা হয়, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখতে পারছে, সেদিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের মতে, শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পড়ানো গেলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষকদের মান ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ঘাটতি আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের পদও শূন্য। আবার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। ফলে পাঠ্যসূচি শেষ করা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি—সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

এ ছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়নে ‘কড়াকড়ি’, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি ও কঠিন প্রশ্নপত্রের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে। গত শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শেখায় যে ঘাটতি ছিল, তা পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘টেকসই এলডিসি উত্তরণে পাঁচ পক্ষ নিয়ে সংস্কার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া বাড়তি তিন বছর অর্থনীতির আমূল পরিবর্তনের সুযোগ হিসাবে কাজে লাগানো হবে। এ সময়ে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগের অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, রপ্তানিপণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার তৈরিতে ব্যাপক সংস্কার করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা-এই পাঁচ পক্ষকে একসঙ্গে যুক্ত করছে সরকার। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির মেয়াদ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব ২৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হয়। ওই বাড়তি তিন বছর কাজে লাগাতে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদি সংস্কার রোডম্যাপ তৈরি করেছে সরকার। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদনশীলতা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ এতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাশেদ তিতুমীর বলেন, শুধু এলডিসি থেকে উত্তরণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করাই সরকারের লক্ষ্য নয়। বরং উত্তরণের পরও যাতে অর্থনীতির গতি ব্যাহত না হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে না যায় এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসে-সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসাবে গড়ে তুলতে চান। লক্ষ্য ‘গ্র্যাজুয়েশন থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে’ রূপান্তর করা।

পাঁচ পক্ষের অংশীদারত্বে সংস্কার: স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় অর্থনীতির। ফলে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। তিতুমীর বলেন, এ সংস্কার কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ কারণে পাঁচ পক্ষকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পাঁচ পক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা।

উপদেষ্টার মতে, এ ধরনের সর্বসম্মত অংশীদারত্বের উদ্যোগ আগে দেখা যায়নি। জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। পাঁচ পক্ষের অংশগ্রহণে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পথ তৈরি হবে। রাশেদ তিতুমীর বলেন, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে প্রতিটি আলোচনায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা বা কম্প্যাক্ট গড়ে তুলতে পারলে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

এটি সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশলেরও অংশ। জাতিসংঘের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী জাতিসংঘ বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক। পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচিতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)। আইএমএফ-এর চলমান কর্মসূচির সঙ্গে অন্যান্য সংস্কার উদ্যোগের সমন্বয়ও রাখা হচ্ছে।

কেন বাড়তি তিন বছর প্রয়োজন: প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে রাশেদ তিতুমীর বলেন, সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে। তবে উত্তরণ যেন অর্থনীতির জন্য নতুন সংকট তৈরি না করে, সেজন্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা না গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা কঠিন হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তাকেও টেকসই শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসাবে দেখছে সরকার। এ লক্ষ্যে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। কারণ, উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারসহ এলডিসি হিসাবে পাওয়া কিছু বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভে রণক্ষেত্র’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল রবিবারও সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ, লাঠিপেটা ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ওই সব এলাকার পাঁচ শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যেই গতকাল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলছে, ঢাকা ও গাজীপুরে সহিংস শ্রমিক বিক্ষোভে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যুক্ত রয়েছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজমুল ইসলাম একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সেখান থেকে আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিরপুর থেকেও এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার ঘটনায় অন্তত ৫০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মালিকরা।

অন্যদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কারখানা চালু রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জননিরাপত্তা ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্ব্বয়ক শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

শিল্প পুলিশ বলছে, ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার সময় সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭৭টি এবং গাজীপুরে শতাধিক কারখানায় এক দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে তারা জানতে পেরেছে।

এসব ঘটনায় অভিযান চালানোর বিষয়ে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মিরপুরে ২৯ জন এবং গাজীপুরে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা পুলিশের গাড়িতে হামলা, আগুন, সড়ক আবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী রয়েছেন।

যানবাহন চলাচলে বাধা

পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে রাজধানীর মিরপুর এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের স্থানে স্থানে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ সংশ্লিষ্ট সড়কে প্রায় ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকরা তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। এর মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিটি অন্যতম।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র যা বলছে

সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল সকাল থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এ সময় মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। দুপুরের দিকে এসব এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেন। পুলিশ বক্স এবং কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আন্দোলনের এক পর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার বেশির ভাগ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকরা বিকেল ৩টার দিকে মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ার পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আশপাশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘ডিসেম্বর সামনে রেখে অস্থিরতার ‘ষড়যন্ত্র’ সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ডিসেম্বর সামনে রেখে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে মনে করছে সরকার। চলমান ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে প্রায় দেড় ঘণ্টার এ বৈঠক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারখানা চালু রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জননিরাপত্তা ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুখোশধারীরা ভাঙচুর চালিয়েছে সীমান্তের ওপারের ইন্ধনে। তিনি বলেন, ‘নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও উত্পাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার এই ধরনের অপতত্পরতা কঠোর হাতে মোকাবিলা করবে।’ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে গিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করছে। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিরীহ গার্মেন্ট শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে। যাতে করে এখানে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়, আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যকে ব্যাহত করা যায়, গার্মেন্টসের উত্পাদনকে ব্যাহত করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘যারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কোনো অপতত্পরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই মেসেজটা আমরা সবাইকে দিতে চাই, আমরা শান্তি চাই, শৃঙ্খলা চাই, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি চাই। শিল্পের যে জনক বলতে পারেন বাংলাদেশের শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তার এই অবদানকে আমরা সবাই স্বীকার করি এবং আমরা চাই, গার্মেন্ট শিল্পের আরো উন্নতি হোক এবং আমাদের রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধ করুক।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত কোনো শ্রমিক বা সত্যিকারের শ্রমিক সংগঠন জড়িত নয়।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এসব সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনো শ্রমিক ভাই জড়িত না। তারা আলাপ-আলোচনা করবেন। তাদের প্রতিনিধির নাম দেওয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।’

শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের যাতে জীবনমান উন্নত হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে শ্রমিকের স্বার্থটা রক্ষা করা হয়।’ গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গার্মেন্টস শিল্পমালিকদের প্রতি আহ্বান জানাই—যাতে তাদের সমস্ত মিল চালু রাখেন, উত্পাদন চালু রাখেন। কোনোভাবেই যেন রপ্তানি সংকট তৈরি হয় সেরকম কোনো কাজ না করেন এবং তারা শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে আলোচনা করে তাদের কার্যক্রম চালাবেন। আজকে হয়তো কোনো না কোনো কারণে তারা শঙ্কিত হয়ে হয়তো হঠাত্ বন্ধ করে দিয়েছে, এটা সাময়িক, এটা হয়তো আজকের দিনের মধ্যেই সমাপ্ত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের স্বার্থকে রক্ষা করা হয়, তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশে উত্পাদন উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হয়, রপ্তানি যাতে বৃদ্ধি পায়। সমস্ত বিষয় লক্ষ্য রেখেই যেন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করেছি যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকবে, যারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করা হোক। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, রপ্তানি সমৃদ্ধি কেউ রুখে দিতে পারবে না।’

নয়া দিগন্ত

‘ব্যাংকিং খাতে নগদ টাকার চাপ বাড়ছে’—এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতে নগদ টাকার সঙ্কটের চাপ বাড়ছে। তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে এক দিনেই প্রায় ছয় হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন নীতিগত ও স্বল্পমেয়াদি আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে এই তারল্য সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ওপেন মার্কেট অপারেশনের (ওএমও) তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিট তারল্য সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে একাধিক মেয়াদে রেপো ও অ্যাসিউরড রেপো (এআর) সুবিধার আওতায় অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। একই সাথে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ গ্রহণ এবং আগের সরবরাহ করা অর্থের মেয়াদপূর্তির হিসাব সমন্বয় করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ওই দিন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিট তারল্য সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ছয় হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর এক দিনের সেন্ট্রাল ব্যাংক রেপো বা সিবি রেপোর আওতায় চার হাজার ৬৯১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। এই অর্থের সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ বা সংরক্ষিত নগদ অর্থের প্রয়োজন মেটাতে এ ধরনের স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন করা হয়।

অন্য দিকে অ্যাসিউরড রেপো বা এআর সুবিধার আওতায় এক দিনের জন্য ৭৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং সাত দিনের জন্য ২৫১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। এই দুই ক্ষেত্রেও সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। সবমিলিয়ে সিবি রেপো ও এআর সুবিধার আওতায় নতুন করে অর্থ সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৭২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। তবে ১৪ দিনের এআর সুবিধার আওতায় ওই দিন নতুন কোনো অর্থ সরবরাহ করা হয়নি। এ খাতে নতুন অর্থের পরিমাণ ছিল শূন্য। বিপরীতে আগের লেনদেনের মেয়াদপূর্তির কারণে এক হাজার ২০২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার সমন্বয় হয়েছে। ফলে সিবি রেপো ও এআর কার্যক্রমের সম্মিলিত নিট অর্থ সরবরাহ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৫১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

এ দিকে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখার সুবিধা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি বা এসডিএফের আওতায় ওই দিন চার হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা জমা নেয়া হয়েছে। এই সুবিধার সুদহার ছিল ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে আগের এসডিএফ লেনদেনের মেয়াদপূর্তির কারণে ছয় হাজার ৪৫৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরত এসেছে। ফলে এসডিএফের মেয়াদপূর্তি ও নতুন জমার সমন্বয়ে নিট এক হাজার ৮৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে।

সব উপকরণের লেনদেন ও মেয়াদপূর্তির হিসাব সমন্বয়ের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর ব্যাংকিং খাতে নিট তারল্য সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ, বিভিন্ন খাতের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ ও ফেরত দেয়ার হিসাব সমন্বয় করে ওই দিন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রায় ছয় হাজার ৪০০ কোটি টাকার নিট তারল্য যুক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের অর্থ সরবরাহ একটি নিয়মিত নীতিগত কার্যক্রম। কোনো ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন, আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন, আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা সংরক্ষণের প্রয়োজন মেটাতে স্বল্পমেয়াদি অর্থের চাহিদা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কোনো ব্যাংকের আমানত প্রবাহের তুলনায় ঋণ বিতরণ ও নগদ অর্থের চাহিদা বেশি হলে সাময়িক তারল্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো ও অন্যান্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এক দিনে প্রায় ছয় হাজার ৪০০ কোটি টাকার নিট তারল্য সরবরাহের বিষয়টি ব্যাংকিং খাতের নগদ অর্থের চাহিদার দিকে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কারণ ব্যাংকগুলোকে প্রতিদিন আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার পাশাপাশি ঋণ বিতরণ, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম, সরকারি লেনদেন ও অন্যান্য আর্থিক দায় মেটাতে হয়। এসব ক্ষেত্রে নগদ অর্থের পর্যাপ্ততা না থাকলে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে বড় অঙ্কের স্বল্পমেয়াদি অর্থ নেয়া মানেই পুরো ব্যাংকিং খাতে স্থায়ী বা কাঠামোগত তারল্য সঙ্কট তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে নিয়মিতভাবে বড় অঙ্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক-নির্ভর অর্থায়নের প্রয়োজন দেখা দিলে তা ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণ ব্যবস্থাপনা, নগদ অর্থের প্রবাহ এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোন ব্যাংক কতটা অর্থ নিচ্ছে, কত দিন ধরে নিচ্ছে এবং কী কারণে নিচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করা জরুরি।

এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহ বাড়ানো, ঋণ বিতরণে সতর্কতা, খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও বাজারে তারল্যের প্রবাহ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সরবরাহ ও প্রত্যাহারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। সবমিলিয়ে ২৯ অক্টোবরের প্রায় ছয় হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার নিট তারল্য সরবরাহ ব্যাংকিং খাতে নগদ অর্থের চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে এ পরিস্থিতি সাময়িক, নাকি ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি তারল্যচাপের প্রতিফলন, তা বুঝতে পরবর্তী দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ সরবরাহের প্রবণতা, ব্যাংকগুলোর আমানত পরিস্থিতি এবং আন্তঃব্যাংক অর্থবাজারের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর ‘পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে কিশোররা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে মানবিক বিভাগের ছাত্ররা। সারা দেশে এ বিভাগে ছেলেদের পাসের হার মাত্র ৩৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে মানবিকে ছেলেদের পাসের হার সবচেয়ে কম রাজশাহী বোর্ডে, ২৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চলতি বছর মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৯১। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ জন। সে হিসাবে ছেলেদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ছাত্রই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অন্যদিকে এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০২৫ সালেও ছেলেদের পাসের হার ছিল ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, যেখানে মেয়েদের ছিল ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর ধরেই কিশোরদের মধ্যে পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ ও আগ্রহের ঘাটতি প্রকট হচ্ছে। পাশাপাশি ঝরে পড়া, মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনাও তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে মানবিক বিভাগের ছাত্ররা। সারা দেশে এ বিভাগে ছেলেদের পাসের হার মাত্র ৩৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে মানবিকে ছেলেদের পাসের হার সবচেয়ে কম রাজশাহী বোর্ডে, ২৮ দশমিক ১১ শতাংশ। একই বোর্ডে মানবিকে মেয়েদের পাসের হার ৪৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এছাড়া যশোর বোর্ডে ছেলেদের পাসের হার ৩০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, বরিশালে ৩০ দশমিক ৯৫, চট্টগ্রামে ৩২ দশমিক ৮৯, দিনাজপুরে ৩৩ দশমিক ১৯, কুমিল্লায় ৩৩ দশমিক ৬৭, ময়মনসিংহে ৩৯ দশমিক ৩৭ ও সিলেটে ৪১ দশমিক ৯২ শতাংশ। মানবিকে ছেলেদের পাসের হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বোর্ডে, ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী। নারী শিক্ষায় সরকারের বিশেষ গুরুত্বের পাশাপাশি পরিবার থেকেও মেয়েদের কলেজ পর্যায় পর্যন্ত তুলনামূলক বেশি তদারকিতে রাখা হয়। এসব কারণে ছেলে শিক্ষার্থীদের তুলনায় মেয়েরা ভালো ফল করছে।’

ছেলে শিক্ষার্থীদের ফল নিম্নমুখী হওয়ার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘কভিডকালে শ্রেণীকক্ষে উপস্থিতির বিষয়ে সারা দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিথিলতা ছিল। ওই সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোচিংনির্ভরতা বাড়তে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আন্দোলনমুখর শিক্ষাঙ্গনের কারণে পড়াশোনায় অমনোযোগিতার প্রবণতাও তৈরি হয়, যার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়েছে ছাত্রদের ওপর। সব মিলিয়ে এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব কমে যাওয়ায় অনেক ছাত্রের মধ্যে আড্ডা ও কোচিংনির্ভর পড়াশোনার মাধ্যমে সহজে পাস করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া কৈশোরের বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের কম প্রভাবিত করায় তারাও তুলনামূলক ভালো ফল করছে।’

ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজ্ঞানের ছাত্ররা তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে। এ বছর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলেদের সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৪, আর বিজ্ঞান বিভাগে ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে বিজ্ঞানে ছেলেদের পাসের হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বোর্ডে, ৮০ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৭৩ দশমিক ৩৯, সিলেটে ৭০ দশমিক ৬৪, যশোরে ৬৮ দশমিক ২৬, দিনাজপুরে ৬৫ দশমিক শূন্য ৯, রাজশাহীতে ৬৪ দশমিক ২৫ ও কুমিল্লায় ৬১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ছাত্র পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের পাসের হার সবচেয়ে কম বরিশাল বোর্ডে, ৫২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

চলতি বছর মাদারীপুরের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে মানবিকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে জহিরুল ইসলাম। তার মা রেবেকা আকতার বলেন, ‘কলেজে ভর্তির পর থেকেই ছেলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তার ব্যস্ততার বড় অংশই ছিল রাজনীতি ও মুঠোফোনকেন্দ্রিক। অনেক চেষ্টা করেও তাকে পড়ালেখায় মনোযোগী করা যায়নি। বাড়িতে শিক্ষক রাখা হলেও সে প্রায়ই থাকত না। এখন তাকে দেশের বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও মুঠোফোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ থাকা উচিত।’

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, অনলাইন শিক্ষার সঙ্গে নতুনভাবে পরিচিত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও অটো পাসের সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের বইবিমুখ করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক ড. আকতার বানু। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সৃজনশীল পদ্ধতিতে অতিরিক্ত নম্বর দেয়া বা ওভারমার্কিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে না পড়েও ভালো ফল করার একধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এতে তাদের অধ্যবসায় ও গভীরভাবে পড়ার আগ্রহ কমেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আন্দোলনও শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে ছেলে শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, কোচিং সেন্টারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের কারণে তুলনামূলক কম দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ায় শিক্ষার মানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’

পরিস্থিতির পরিবর্তনে কঠোর তদারকির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণীকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং কোচিংনির্ভরতা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি জানিয়ে অধ্যাপক ড. আকতার বানু আরো বলেন, ‘সমাজে কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মাদকের বিস্তার রোধে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুলিশের জনবল ও টহল বাড়িয়ে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। মাদকের সহজলভ্যতা শুধু তরুণ প্রজন্ম বা কিশোরদেরই নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এর সরবরাহ বন্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘ছাত্রদের ফল কয়েক বছর ধরেই নিম্নমুখী। এর পেছনে পড়ালেখায় অমনোযোগিতা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নজরদারির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে কাজ করছে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং এর মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

আজকের পত্রিকা

‘এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়ের প্রভাব: শিক্ষার্থী সংকট হবে উচ্চশিক্ষায়’—এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের কারণে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ আসনই ফাঁকা থাকবে। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অধিকাংশ কলেজ ও জোড়াতালি দিয়ে চলা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভয়াবহ শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ভর্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার তুলনামূলক কম হবে। কারণ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ আসনসংখ্যা রয়েছে তার তুলনায় জিপিএ-৫ পেয়েছে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গত শনিবার। এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের গড় হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

উচ্চশিক্ষা দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ মিলিয়ে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে মোট আসনসংখ্যা ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আসন রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার। এই হিসাব অনুযায়ী এবার উত্তীর্ণ হওয়া সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক পর্যায়ে আসন ফাঁকা থাকবে ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩টি।

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ডসংখ্যক কমেছে। এর মধ্যে পাসের হার গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ শিক্ষার্থী।

ফল বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ আসন রয়েছে তার চেয়ে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তুলনামূলক কম। তবে কয়েকটি নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আগের মতোই।

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে আসনের কোনো স্বল্পতা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গত শনিবার সচিবালয়ে এইচএসসির ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এইচএসসি ও সমমানে পাস করা সব শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরেও অনেক আসন ফাঁকা থাকবে।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তরপত্র যথাযথ মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, আইসিটি ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষায় খারাপ ফল এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ফল বিপর্যয় হয়েছে। ২০০৪ সালের পর এই প্রথম এইচএসসিতে পাসের হার এত কম। ওই বছর পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের বছর ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। মূলত ২০০৫ সাল থেকে পাসের হার বাড়তে শুরু করে।

ইউজিসির তথ্যমতে, ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আসনসংখ্যা ৬৩ হাজার ৬৫৬টি, সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ২৭৮টি, সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি, বেসরকারি ডেন্টালে ১ হাজার ৩৫০টি, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে ৩৫০টি, ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কোর্সে ৪ লাখ ১০ হাজার, পাস কোর্সে ১ হাজার ১৬০টি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান), স্নাতক কারিগরি/সমমান পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি কলেজে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ১১ হাজার ৫৫টি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৪টি, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০টি, টেক্সটাইল কলেজে ৭২০টি, মেরিন কলেজে ৬৬০টি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৩ হাজার ৭৯০টি, আন্তর্জাতিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০টি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে ৫ হাজার ৬০০টি আসন রয়েছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘অস্থির পোশাক খাত’। খবরে বলা হয়, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে গতকাল রবিবার পুলিশের দিনভর সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল ও কালিয়াকৈর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া এলাকা। মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও মেট্রোরেলের তিন স্টেশনে সেবা সাময়িক বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন মানুষজন। অন্যদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে পুলিশ বক্স, ব্যাংক, কারখানা ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং একটি কারখানার গোডাউনে আগুন দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, অতিরিক্ত পুলিশ ও এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিন স্থানে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ও আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই সব এলাকার ৩ শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। চরম অস্থির হয়ে উঠেছে পোশাকখাত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি অস্থিরতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এ দিকে আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মিরপুর ও গাজীপুর থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৩৮ জনকে গতাকল গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মিরপুর: সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর ১, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর, পল্লবী, কাজীপাড়া ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার কিছু সময় আগে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এতে সাড়া না মিললে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া।

সরেজমিন দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকা ও এর আশপাশে পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার পাশাপাশি লাঠি হাতে সাধারণ মানুষকেও সড়ক থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। হঠাৎ পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানে ফুটপাত ও আশপাশে থাকা উৎসুক জনতা ও সাধারণ পথচারীরাও আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। বন্ধ হয়ে যায় আশপাশের সব দোকানপাট ও বিপণিবিতান। বিকেলের দিকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও সাধারণ মানুষের মনে রয়ে যায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার রেশ।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘নাশকতায় জড়িত নিষিদ্ধরা’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা চার দিনের আন্দোলনে গতকাল ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পল্লবীতে পুলিশের গাড়িতে ও গাজীপুরে পুলিশ বক্সে আগুন দিয়েছে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, জলকামান ব্যবহার করেছে। গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব এলাকায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনায় জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৩০ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তার নির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন। এদিকে, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।

গোয়েন্দারা বলছেন, পোশাকশ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে সামনে রেখে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। সাধারণ শ্রমিকদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সরকারি দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। সরকারকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে বাইরের রাজনৈতিক দলের ইন্ধন এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি রয়েছে।

৩০ আওয়ামী নেতা-কর্মী আটক: পুলিশের গাড়িতে ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কারখানায় ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনায় উসকানি ও ইন্ধনদাতা হিসেবে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নাম। ইতোমধ্যে মিরপুরে নাশকতা চালানোর সময় নিষিদ্ধ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের ৩০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। তারা হলেন মো. কামাল গাজী, মো. ওলিউল্লাহ অনিক, আলিফ হোসেন ইমন, আরিফ আকন্দ, জায়েদ করিম জিয়াদ, মোয়াজ্জেম শাহরিয়া (নিয়াজ), জুবায়েদ ইসলাম জিসান, মো. নাহিদ হাসান, মাহিম মোল্লা, আরিফ ও রমজান সরকার। থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ১৯ জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মিরপুরে নাশকতা চেষ্টায় শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ২ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী। এদের আগের রাতেই গেরিলা-৭১ ও প্রজন্ম ৭১ নামে দুটি ওয়াটসআপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মিরপুরে নাশকতায় ২০ ইন্ধনদাতা ও সমন্বয়ক : গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, মিরপুরে নাশকতায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, মিরপুরের সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ, যুবলীগ নেতা তাজুল ইসলাম বাপ্পি ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের মামুন।

এ ছাড়া ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করেন পল্লবী থানা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, ৯২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক আলিফ মোল্লা, রূপনগর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ শুভ, পল্লবী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুনায়েদ হোসেন নাহিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক বোতা খলিল, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হাওলাদার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল রানা, ৯১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম গাজী, ৯১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লতিফ, ৯১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক শিমুল মোল্লা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ মুন্সী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মীর রকি, ৯২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আসলাম ও কাতল, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছোট সেলিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের রনি, ৯১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার। তাদের অনেকেই দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন।