দক্ষিণ কোরিয়ার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনেছে মালয়েশিয়া

প্রথম ধাপে পৌঁছালো ১৮টির মধ্যে দুটি

দক্ষিণ কোরিয়ার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনেছে মালয়েশিয়া

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ার রাজকীয় বিমানবাহিনীর (আরএমএএফ) জন্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কেনা ১৮টি এফএ-৫০এম যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রথম দুটি যুদ্ধবিমান গত ১ নভেম্বর (রোববার) পাহাংয়ের কুয়ানতান বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। রোববার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার লাবুয়ান বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে যুদ্ধবিমান দুটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে কুয়ানতান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল তান শ্রী মুহাম্মদ নোরাজলান আরিস।

দেশটির বারনামার প্রতিবেদনের বরাতে দ্য এজ মালয়েশিয়া, দ্য স্টার এবং সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (কেএআই) তৈরি যুদ্ধবিমান দুটি গত ২৯ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার সাচেওন থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু, ফিলিপাইনের লাওয়াগ এবং মালয়েশিয়ার লাবুয়ান হয়ে কুয়ানতানে পৌঁছায়। মালয়েশিয়ার বিমানবাহিনীর নিজস্ব ফেসবুক পেজেও যুদ্ধবিমান দুটি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

যুদ্ধবিমান দুটির মধ্যে এম৫৮-০১-এর পাইলট ছিলেন কেএআইয়ের পাইলট লি দংকিউ এবং মালয়েশিয়ার ১৫ নম্বর স্কোয়াড্রনের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ জামিল আওয়াং। অন্যদিকে, এম৫৮-০২ পরিচালনা করেন কিম ইনচুল এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন একই স্কোয়াড্রনের নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর মুহাম্মদ আশরাফ ওয়াহাব। অবতরণের পর যুদ্ধবিমান দুটি মালয়েশিয়ার বিমানবাহিনীর চূড়ান্ত গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা বা ফাইনাল অ্যাকসেপ্ট্যান্স টেস্টের মধ্য দিয়ে যাবে। সব পরীক্ষা শেষে চলতি বছরের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান দুটি গ্রহণ করার কথা রয়েছে বলে লিখেছে দ্য স্টার।

মালয়েশিয়ার বিমানবাহিনীর ১৫ নম্বর স্কোয়াড্রনের অধীনে যুদ্ধবিমান দুটি পরিচালিত হবে। বর্তমানে স্কোয়াড্রনটিতে ২০০ জনের বেশি সদস্য রয়েছেন এবং কুয়ানতান বিমানঘাঁটিতে এগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে প্রায় ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিতের চুক্তির আওতায় মোট ১৮টি এফএ-৫০এম যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করছে মালয়েশিয়া। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে রাশিয়ার সুখোই যুদ্ধবিমান সরবরাহের পর এটিই মালয়েশিয়ার বিমানবাহিনীর প্রথম বড় ধরনের যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকায়ন উদ্যোগ। বাকি যুদ্ধবিমানগুলো ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।