প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় দায়িত্ব-শীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। রোববার এ ঘটনায় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়। বলা হয়, মতপার্থক্য প্রকাশে দায়িত্বশীলতা-শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানকে শনিবার তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, সংবাদ বা সম্পাদকীয় বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে মতপার্থক্য প্রকাশে দায়িত্বশীলতা, শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী এবং সচিব পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসেবে তার বক্তব্য ও আচরণে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পেশাগত মান, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। উস্কানিমূলক বক্তব্য, হুমকি ও হয়রানি থেকে বিরত থাকতে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানায় সম্পাদক পরিষদ।
সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা সাংবাদিকতার প্রতি আঘাত
এদিকে, আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।
বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার অবস্থান কাউকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের অধিকার দেয় না। বরং দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের আচরণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার প্রতিফলন থাকা জরুরি।
তারা আরও বলেন, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীসহ বিভিন্ন মতের সাংবাদিক কাজ করেন। তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা পেশাগত অবস্থান যাই হোক, সাংবাদিক হিসেবে তাদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার প্রতিবাদ জানানোই গণতান্ত্রিক পথ। সংবাদপত্রের প্রতি অবমাননাকর আচরণ দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা এবং অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
