চতুর্থ দিনেও শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

চতুর্থ দিনেও শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল চীন মৈত্রী সিগন্যাল অবরোধ করেন তারা। বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট দিয়ে বের হয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ প্রদক্ষিণ করে চীন মৈত্রী সিগন্যালে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

পরে মিছিল নিয়ে বিজয় সরণি-মিরপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উল্লেখ্য, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার এবং সেখানে বাণিজ্যমেলার আয়োজন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। গত ১৫ই অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচিও পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬শে অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। পরদিন ২৭শে অক্টোবর সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও দু’টি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছিল।

২৮শে অক্টোবর পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ও যুব মেলার জন্য নির্মিত একটি গেট ও কয়েকটি স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেলার স্থাপনা সরিয়ে না নেয়ায় তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। গত বৃহস্পতিবার ও রোববার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘোষণা, পুরনো গবেষণা মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।