লোভে পাপ পাপে বিপদ

ইতালিতে বাংলাদেশি দোভাষী আটক

লোভে পাপ পাপে বিপদ

ফন্ট সাইজ:

 ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি দোভাষীর বিরুদ্ধে। আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবে বদলে দিতেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দিতেন ভুল তথ্য। তদন্তে ওই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে প্রশ্ন বদল, আবেদনকারীর উত্তর পাল্টে দেয়াসহ সরকারি নথিতে মনগড়া বক্তব্য জুড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যেন খারিজ হয়ে যায়- সেজন্যই এমন অনৈতিক কাজ করতেন দোভাষী। অভিযুক্ত ওই বাংলাদেশির বয়স ৩৭ বছর। তাকে ইতিমধ্যেই ইতালির কারাবিনিয়েরি পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় বেশকিছু সংবাদমাধ্যম। এসব জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গৃহবন্দী করার আদেশ মঞ্জুর করেছেন স্থানীয় আদালত।

ইতালির সংবাদ সংস্থা আদনক্রোনোস গত ২৯শে অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। একই দিন সিরাকুজার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিরাকুজা পোস্ট, সিরাকুজা প্রেস, সিরাকুজা অজ্জি ও সিরাকুজা নিউজও ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে অভিযুক্তের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশন কাজ করছে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এ বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তারা ওই দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরাকুজার আন্তর্জাতিক সুরক্ষাবিষয়ক আঞ্চলিক কমিশনে বাংলা ভাষার দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন ওই বাংলাদেশি। বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয়ের আবেদন যাচাইয়ের জন্য কমিশনের কর্মকর্তারা তাদের সাক্ষাৎকার নিতেন। এসব সাক্ষাৎকারের কথোপকথন অনুবাদ করে কার্যবিবরণী তৈরিতে সহায়তা করতেন তিনি। এ দায়িত্বের কারণে ইতালির আইনে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হতেন। অভিযুক্ত বাংলাদেশি কেন এমন কাজে জড়িয়েছেন- সে বিষয়টি এখনও তদন্তনাধীন। এছাড়া এই অপকর্মের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট চক্র জড়িত কিনা সে বিষয়টিও জানার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অতিরিক্ত লোভে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের জন্য বিপদ ডেকে এনেছেন ওই ব্যক্তি।

এদিকে কারাবিনিয়েরি পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, ওই দোভাষী জেনেশুনে এবং ধারাবাহিকভাবে কথোপকথনের প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অনুবাদ করতেন। কমিশনের কর্মকর্তাদের করা প্রশ্ন পরিবর্তন করার পাশাপাশি আশ্রয়প্রার্থীদের উত্তরও বদলে দিতেন। আবেদনকারীরা যা বলতেন, তার কিছু অংশ বাদ দিতেন। আবার কখনো তাদের নামে এমন বক্তব্য যুক্ত করতেন, যা তারা আদৌ দেননি।

সিরাকুজা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাক্ষাৎকারের কার্যবিবরণীর বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে দিতেন ওই দোভাষী। এতে কমিশনের কর্মকর্তারা অনুবাদের অসঙ্গতি সম্পর্কে কিছু না জেনেই বিভ্রান্ত হতেন। তদন্তকারীদের দাবি, এভাবে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন সাধারণত তাদের বিপক্ষে পরিচালিত হতো।

যৌথভাবে এই ঘটনা তদন্ত করছে সিরাকুজা সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় এবং কারাবিনিয়েরি পুলিশের অপারেশনাল শাখা। তদন্তের পর ওই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি নথিতে তথ্যগত ও বস্তুগত জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের জারি করা নির্দেশে তাকে আটক করে পুলিশ।

আটকের পর আদালত ওই নির্দেশ অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে তাকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। তার হাতে ইলেকট্রনিক নজরদারির ব্রেসলেট পরানো হয়েছে। তার সঙ্গে বসবাসকারী ব্যক্তি ও আইনজীবী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে কোনো মাধ্যমে যোগাযোগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।