চট্টগ্রামে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) কাঠামোগত নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের (ইউনিট-১) প্রায় ৩৪ বছর পুরনো একটি কারখানা ভবনে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শনিবার থেকে পর্যায়ক্রমে চাকরি অবসানের এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী ২০শে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। ভবনটি ভেঙে একই স্থানে অত্যাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বহুতল কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন কারখানাটি চালু হলে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। তবে পুরনো ভবনে কর্মরত ৫ হাজার ৩৭১ শ্রমিক ও কর্মচারীর চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গতকাল পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড ও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিলের (আরএসসি) বিশেষ কাঠামোগত নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়নে ভবনটিতে কাঠামোগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি চিহ্নিত হয়।
শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেখানে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ হয়ে ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছেন- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্যকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বেপজা। বেপজা জানায়, চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের সাতটি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের ইউনিট-১-এর একটি পুরনো ভবনে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গ্রুপের অন্য কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে পুরো গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা ৩৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর খবর সঠিক নয়। ওই ভবনে কর্মরত ৫ হাজার ৩৭১ শ্রমিক ও কর্মচারীর চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রত্যেক শ্রমিককে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণসহ বেতন, ওভারটাইম, বিভিন্ন ভাতা, অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির অর্থ, নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিট এবং মুনাফাসহ প্রভিডেন্ট ফান্ডের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। চাকরি অবসানের দিনই শ্রমিকদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে চূড়ান্ত পাওনা দেয়ার পাশাপাশি পাওনার বিবরণসংবলিত পে-স্লিপ, অভিজ্ঞতার সনদ ও প্রশংসাপত্র দেয়া হচ্ছে।
চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া শেষ হলে আরএসসি’র নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। এরপর একই স্থানে পরিবেশবান্ধব, অত্যাধুনিক ও বহুতল কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি আগের শ্রমিকদের পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি ভবনে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নয়; বরং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার অংশ। অন্যদিকে, বেপজা জানিয়েছে, শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার সুরক্ষা এবং ইপিজেডে বিনিয়োগবান্ধব শিল্প পরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে যাচাইবিহীন তথ্য ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
শিল্প পুলিশ-৩ (চট্টগ্রাম)-এর পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানান, ভবনটি বয়সের কারণে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। প্রায় এক বছর আগে জমা দেয়া একটি প্রতিবেদনেও ভবনটির আরসিসি কাঠামোর নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, নিরীক্ষার সময় ভবনটি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্সসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণেও ব্যর্থ হয়। এ কারণে পুরনো ভবনটি ভেঙে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ করে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে এক বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।
