পার্বত্য অঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক সড়কে পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে তীব্র মানবিক সংকট ও জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। একদিকে বিভিন্ন সংগঠনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি এবং অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়দের সড়ক অবরোধের জেরে খাগড়াছড়ির সঙ্গে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আকস্মিক অবরোধে রোববার সকাল ৬টা থেকে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে রাঙ্গামাটি থেকে খাগড়াছড়িসহ অন্যান্য আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
সূত্র জানায়, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দীঘিনালার জামতলী সুপারি বাগানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়কে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ জনতা ও পরিবহন শ্রমিকরা। সড়কের মাঝখানে ব্যারিকেড তৈরি করায় দীঘিনালা, সাজেক ও বাঘাইছড়িগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী জিপ, পিকআপ ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকে পড়ে। ?বাঘাইছড়ি কাউন্টারের দায়িত্বশীল কর্মী স্বপন কান্তি দে জানান, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল থেকেই টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে সাজেক সড়কে চলা ধারাবাহিক অবরোধের কারণে বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা এবং বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। তাদের মতে, ঘন ঘন সড়ক বন্ধ থাকায় পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত শত শত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এর আগে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও নিত্যপণ্য সরবরাহের সুবিধার্থে রোববার একদিনের জন্য তাদের চলমান অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু একই দিনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে ১২ ঘণ্টার পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা, সংঘাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সন্ত্রাসী মহড়া এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, গত ৩১শে অক্টোবর কলাবুনিয়া এলাকায় ইইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।
