কেউ নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য, কেউ পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির, কেউবা নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত। ভিন্নভিন্ন নামে হলেও এই সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড প্রায় একই। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলায় চরমপন্থি বলে চিহ্নিত এমন ৬৫ জন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১২) কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। গতকাল দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের প্রধান কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেন তারা। সন্ত্রাসী জীবনে জড়িয়ে পরিবার, স্ত্রী-সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা পালিয়ে বেড়িয়েছেন এতদিন। অনিশ্চিত জীবনে ছিল না এতটুকু শান্তি। তাই এবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন চরমপন্থিরা।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ভুল বুঝে যারা উগ্রবাদ চরমপন্থি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল, তারা নিজেদের ভুল উপলব্ধি করতে পেরে আত্মসমর্পণ করছেন। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে পার পাওয়া যাবে না। যে সকল চরমপন্থি সদস্যরা আত্মসমর্পণ করলেন তারা যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এজন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। আত্মসমর্পণকারীদের আইনি সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
এসআরবি-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেনÑ সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ ও রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান।
অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, আত্মসমর্পণ করা ব্যক্তির মামলা-মোকদ্দমা দেখে সেই অনুযায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। যাদের নামে মামলা রয়েছে, সেগুলোর বিচারও দ্রুত শেষ করা হবে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের সুবিধা দেবে সরকার।
পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা সালমান বলেন, সরকার আমাদের ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, তাই অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরতে এসেছি। আলোর পথে ফেরার সুযোগ পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। আরেক আত্মসমর্পণকারী আইনুল হোসেন বলেন, ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছি। এভাবে ১৫ বছর কেটে গেছে। এখন সুন্দরভাবে পরিবার ও পরিজন নিয়ে সমাজে বসবাস করে বাকি জীবন পার করতে চাই।
এর আগে চরমপন্থি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ২০১৯ সালের ৯ই এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন ও ২০২৩ সালের ২১শে মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র্যাব-১২ কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে ।
সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
২ নভেম্বর (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
