পাবনা মানসিক হাসপাতালে ঢুকতেই দালালের ফাঁদ, ৪ জনের কারাদণ্ড

ফন্ট সাইজ:

মানসিক রোগী নিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে প্রবেশ করতেই ঘিরে ধরে দালালরা। কেউ অটোরিকশা আটকে, কেউ সড়কে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ আশপাশের দোকানে অবস'ান নিয়ে রোগীর স্বজনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর নামে চলে প্রতারণা। এমন অভিযোগে অভিযান চালিয়ে চার দালালকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রোববার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস'ার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালের বহির্বিভাগ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফুয়াদ। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর এলাকার ইদ্রিস আলী (২৫), জাকির হোসেন (৪৭), মাসুদ রানা (৪৫) ও কিসমত প্রতাপুর এলাকার সুজন আলী (২৬)। এনএসআই পাবনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ বি এম লুৎফুল কবির জানান, অসহায় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রবেশের মুখে রোগী বহনকারী অটোরিকশা আটকে স্বজনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায় দালালদের। হাসপাতালের আশপাশেও অবস'ান নিয়ে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের বেসরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর নামে বিভ্রান্ত করে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে দালালদের শাস্তি দেয়া হলেও কিছুদিন পর আবার তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফুয়াদ বলেন, দালালি করার সময় হাতেনাতে চারজনকে আটক করে প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বারবার অভিযান, তবু থামছে না দালালদের দৌরাত্ম্য। ফলে হাসপাতাল এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও রোগীদের সঠিক তথ্য দেয়ার ব্যবস'া নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। চিকিৎসার আশায় আসা অসহায় মানুষ যেন হাসপাতালের ফটকেই প্রতারণার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।